স্মৃতিচারণে সরোজ খান – লিখেছেন অনিন্দিতা

ইরফান খান, ঋষি কাপুর, সাজিদ খান এর পর আবার ও এক অনবদ্য কিংবদন্তির প্রয়ান এ শোকস্তব্ধ বলিউড।।

‘এক দো তিন’- এ মাধুরীর সেই অনবদ্য নাচ হোক কিংবা ‘দোলা রে দোলা’-র মাধুরী ও ঐশ্বর্য্য জুটির নাচের অপূর্ব মেলবন্ধন, নজর কেড়েছিল ছোট থেকে বড়ো সকলেরই। প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিল সমস্ত দর্শক। শুধুমাত্র নাচের কোরিওগ্রাফি করেই ঝুলিতে এসেছিল পর পর তিনটি জাতীয় পুরস্কার। পেয়েছিলেন ৮ বার সেরা কোরিওগ্রাফির ও পুরস্কার।
তিনি হলেন সকলের প্রিয় বলিউড এর মাস্টারজি সরোজ খান। যার প্রয়াণে আবারও বি-টাউন এবং টিনসেল-টাউনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিগত কয়েকদিন ধরেই হৃদরোগের সমস্যায় ভুগছিলেন। পাশাপাশি ছিল বার্ধক্য জনিত কিছু সমস্যা। গত ২০জুন হৃদরোগের সমস্যা নিয়ে মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। তারপর দুদিন কিছুটা স্বাস্থ্যের উন্নতি হলেও গতকাল রাতে হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭১।তাঁর প্রয়াণে গভীর শোকাহত সকলে।
স্বাধীনতার প্রায় পরে পরেই ১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন এই কিংবদন্তি। মাত্র তিন বছর বয়সে ‘নজরানা’ চলচিত্রে শিশু শিল্পী হিসেবে বলিউড এ পা রাখেন। নাচের সাথে ছিলেন একাত্ম। পরিচালক বি সোহানলাল এর অধীনে ১৯৫০ এর শেষের দিকে ব্যাকগ্রাউন্ড নৃত্য শিল্পী হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ১৯৭৪ সালে ‘গীতা মেরা নাম’ ছবির মাধ্যমে বলিউড কোরিওগ্রাফি তে অভিষেক হয়।
মাধুরী-শ্রীদেবী থেকে শুরু করে হালফিলের আলিয়া-দীপিকা থেকে প্রথম সারির অভিনেতা অভিনেত্রী সকলের কাছেই সরোজ খান ছিলেন এক এবং অদ্বিতীয়। ৯০’s এর স্বর্ণযুগ এ মাধুরী-সরোজ জুটি ছিল হিট। এই জুটির রসায়ন ই ছিল এক কথায় অনবদ্য। ‘থানেদার’ ছবির তাম্মা তাম্মা কিংবা ‘বেটা’ ছবির ধাক ধাক করনে লাগা সবই সরোজ খানের সৃষ্টি। তাঁর নাচের মুদ্রায় জীবন্ত হয়ে উঠেছিল গানের প্রত্যেকটা কথা। এ ছাড়াও শ্রীদেবীর ‘মে নাগিন তু পেয়ারা’ বা ‘হওয়া হওয়াই’, আজও সমান জনপ্রিয় দর্শক মনে। তাঁর নাচের ভঙ্গিমা আজও নস্টালজিক করে তোলে ৯০’s এর দশক এর কিশোর ও তরুণ মনকে।
কোরিওগ্রাফি জগৎ এ দেবদাস এর ‘ডোলা রে ডোলা’, তেজাব এর ‘এক দো তিন’ এবং যাব উই মেট এর ‘ইয়ে ইশক হ্যয়’ এর জন্য তিনবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। নাচের কোরিওগ্রাফি র পাশাপাশি নানারকম রিয়ালিটি শো তেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল।
কঙ্গনা রানায়াত এর ‘মণিকর্ণিকা’, ‘তান্নু ওয়েডস মন্নু’, এবং কলঙ্ক এর ‘তাবহা্ হো গ্যায়ে’ ছিল তাঁর শেষ কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ। একজন কোরিওগ্রাফার এর দুর্দান্ত কাজ উচ্চতা এবং জনপ্রিয়তার কোন শিখরে নিয়ে যেতে পারে তা প্রমাণ করে দিয়েছিলেন তিনি।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।