কবিতায় নবকুমার মাইতি

নীলাঞ্জনা তোমার জন্মদিনে
নীলাঞ্জনা তোমার জন্মদিনে কি দিই বলতো ?
বলবে ,এ আর কী এমন কথা
যাইহোক একটা দিও, গোলাপ হাস্নুহানা করবি
নিদেনপক্ষে একটা প্রেমের কবিতা
তোমার কবিতাবিতান থেকে
কথা ছিল কোন এক ফাল্গুনী গোধূলির মাহেন্দ্রক্ষণে
তোমার শূন্য কবরী রাঙিয়ে দেবো রক্ত পলাশ দিয়ে
এগিয়ে যাব অনেকটা পথ সুর ও সৃষ্টির দেবালয়ে
শেষ কথা শেষ হলো না , অনুক্ত থেকে গেল জীবন খাতার পাতায়
নিদারুণ বেদনায় নিমজ্জিত করে চলে গেলে শাল সেগুন দেবদারু
ঝাউ পলাশ কাঠমল্লিকা ঘেরা পথ দিয়ে
স্মৃতি-বিস্মৃতির অগণিত ফসিল দু’পায়ে মাড়িয়ে
তোমার প্রিয়জনের হাত ধরে,বড় অবেলায়
ফিরেও তাকাও নি। ক্লান্ত হৃদয়,ক্লান্ত গোলাপ
রামধনু রাঙ্গা টিলার উপর অস্তগামী সূর্য দিনান্তের ঘোষণা করে যায়
দুমড়ে-মুচড়ে উথাল পাথাল হৃদয়
ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুর ছিল তোমার গমনপথ, মরুভূমির তীক্ষ্ণতা
উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম দিকশূন্যপুরে
হঠাৎ দু চোখে অশ্রুর প্লাবন, কোন এক অজানিত অপরাধবোধে
আমি কবি,শব্দব্রহ্মের ঘরামি, তোমার উদ্দেশে রেখে যাব
আমার অব্যক্ত শোক ও শূচিতা,আর অনাদি অনন্ত কালের প্রতীক্ষা
ভেবো না নিছক চাতুরী, লক্ষ্যভেদী অর্জুনের গান্ডীবের মত অমোঘ এ বাণী
যদি বল, জন্মদিনে আসবে তো?
যেতে পারি, কিন্তু কোথায় যাব নীলাঞ্জনা?
এখন আর কিছু ভাললাগেনা,বুকের গহনে সুতীব্র দহন
স্খলিত বিদ্ধস্থ রমনক্লান্ত শরীর যেমন, ঠিক তেমনি
বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে টান পড়ে সত্তার শেকড়ে
কোন পথে যাব, ভোগের না বিরহের
কথা ছিল ভালোবাসার সমুদ্রে ময়ূরপঙ্খী হয়ে ভেসে যাব, পাড়ি দেব
বাউলের একতারা মিঠে সুরে কোন এক অচিন গায়ে
অনতিবিলম্বে শেষ খেয়া চলে যায় নদীর ওপারে নিঃস্ব
আমার জীবন অভিধানে তুমি শুধু এক নারী
থেকে গেলে, সার্থক প্রেমিকা হতে পারোনি
স্বয়ংসিদ্ধা দেবী হতে পারোনি !!