T3 || সমবেত চিৎকার || বিশেষ সংখ্যায় অর্ণব

ন্যায় বিচার

কলঙ্কিত আবারও মনুষ্য সমাজ
চিকিৎসকের নীচ ধর্ষণ ও খুনে,
অপরাধী প্রতিনিয়ত রাতের আঁধারে
ঘৃণ্য মানসিকতার জাল যাচ্ছে বুনে।
যে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব সামলে
চেয়েছিল সামান্য একটু অবসর,
ভাবেনি সে কভু, অবসর মিলবে ঠিকই
থেমে যাবে জীবনের সকল প্রহর।
গভীর রাতের নিশুতি নিঝুম
গুনছে প্রহর অসভ্য সমাজ,
ভোগবিলাসী নেকড়ের দল প্রস্তুত
তারে থমকে দিতে চিরতরে আজ।
প্রতীক্ষা শেষে কদর্য পিশাচ
ঝাঁপিয়ে পড়ে অভয়ার উপর,
ক্ষতবিক্ষত সাজে ভরায় শরীর
উপহারে একশত তেরো হিংস্র কামড়।
ধর্ষিতা তকমা এঁকে দেয় তারা
অভয়ার পবিত্র শরীর জুড়ে,
শেষে জীবনদায়ীর কাড়ল জীবন
সুরেলা প্রাণে কর্কশ সুরে।
“না এটা ধর্ষণ নয়, নিছক আত্মহত্যা”
সহজ বিচার দোষীর কাছে,
তবু ভীতু মনে অভাব সৎসাহসের
ছুটল প্রমাণ লোপাটের পিছে পিছে।
নারী অর্থেই কি ভোগ্য বস্তু?
প্রশ্ন করুন নিজের কাছে,
আপনিও সন্তান কোনো জননীর
এটা তো সত্য, নাকি এও মিছে?
আচ্ছা জানেন তো, দেশটা স্বাধীন
মহিলারা বুঝি দেশের নাগরিক নয়,
যদি সবাই স্বাধীনতা পায়
তবে নারীদের কেনো একাকীত্বে ভয়?
থামুন তাদের দুর্বল ভাবা
স্বাধীনতা দিন তাদেরও সমান,
অধিকার তারাও অর্জন করুক
কভু না হয় তাদের সম্মান ম্লান।
গর্জে উঠুন ন্যায় বিচারের দাবিতে
কন্ঠ মেলান আজই সমবেত সুরে,
মুখোশধারীদের শাস্তি দিতে
সকল মুখোশ ফেলুন ছিঁড়ে।
মা-বোন আমার আপনার প্রতিটা ঘরে
গর্জে উঠুন তাদের স্বাধীনতা নিয়ে,
আমি আপনি মায়েরই সৃষ্টি
নারীর অধিকার নিয়ে উঠুন চেঁচিয়ে।
নারী সুরক্ষা নয়, চাই নারী স্বাধীনতা
অবিচার নয়, চাই ন্যায় বিচার,
চাই উপযুক্ত শাস্তি সকল দোষীর
অন্যথায় চলবে আন্দোলন সবার।
চিকিৎসক নামের কলঙ্ক যারা
ঝুলুক তাদের ফাঁসির দড়ি,
চাই তিলোত্তমার সঠিক বিচার
হোক আইনের ধারা অতন্দ্র প্রহরী।
আসুন একসাথে মোরা গর্জে উঠি
ভুলে গিয়ে সকল কর্মব্যস্ততা,
লক্ষ্য হোক সবার এক ও অভিন্ন
ধ্বনিত হোক চারিদিকে নারী স্বাধীনতা।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।