সম্পাদকীয়

পৃথিবী আবার শান্ত হবে

সম্পাদকীয় লিখতে বসে পাক্কা এক ঘন্টা মোবাইলের স্বচ্ছ কিবোর্ডের ওপর আঙুল বুলিয়ে গেলাম। কি লিখবো? কি লেখা উচিত? কখনো কখনো পরিস্থিতি এমন হয় যখন চুপ থাকতে হয়। চুপ থাকা মানে কাপুরুষতা নয়, পালিয়ে থাকা নয়। চুপ করে অনেক বেশি পর্যবেক্ষণ করতে হয়। মন্তব্য তো করাই যায় আলটপকা। কিন্তু সেই মন্তব্যের ফল কি হবে, সেটা কি ভাববো না? আমি প্রথম, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেখিনি, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন দেখিনি, সত্তরের দশকের দুই বাংলার উত্তাল পরিস্থিতি দেখিনি। সোভিয়েত, যুগোস্লাভিয়ার পতন দেখিনি, দেখিনি জার্মানি, ভিয়েতনামের জোড়া লেগে যাওয়া। কিন্তু ধীরে ধীরে শুনতাম মধ্য প্রাচ্যের অশান্তির কথা, মিডিয়ার কল্যাণে দেখছি বর্তমানের সব টানাপোড়েন। কিন্তু সব কি বুঝতে পারছি? কার্যকারণ সম্পর্ক? তাও যদি আমার দেশে কিছু হয়, কিছুটা অনুধাবন করতে পারি। তখন হয়তো কিছু কথা বলার অধিকার জন্মায় বা দায় বর্তায়। কিন্তু ঘটনা যখন অন্যদেশে ঘটে? তখন কি উপযাচক হয়ে মন্তব্য করা সমীচীন? কতটুকু জানি সে দেশ সম্পর্কে? আজ এক কথা বলে দিলাম, কাল যদি শুনি অন্য বিষয়, তখন নিজের বক্তব্য থেকে ১৮০° ঘুরে অন্য কথা… যদি তুমি নিশ্চুপ থাকো, পক্ষে বিপক্ষে আলটপকা মন্তব্য না করো, দেখবে তুমি সম্মান পাবে। যদি তোমার ওপর আক্রমণ হয়, তখন নাহয় ফোঁস কোরো। তাই ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ হোক মন্ত্র। আর পক্ষে বিপক্ষে যারা আপনার জন আছে, তাদের পাশে থেকো মানসিক ভাবে… এটাই কাম্য… এটা সেই অগাস্ট মাস, যে মাস দেখেছে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ানক ধ্বংস যজ্ঞ। তারপর তো আমরা সবাই শপথ নিয়েছিলাম এমনটা না করার… সে শপথ বাণী কি ক্রসিং ওভারে মুছে গেছে? তা তো আরও জোরদার হওয়ার কথা… তবে কেন এত অসহিষ্ণুতা? ধৈর্য্য ধৈর্য্য ধৈর্য্য… ধৈর্য্যই পারে পৃথিবীকে শান্ত করতে।

সায়ন্তন ধর

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।