গুচ্ছ কবিতায় হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়

তারপর. ..
তারপর অনেক রাস্তা ঘুরে একদিন গোধূলিবেলায় বিপ্লব এসে গেছে, কাঁধে ঝোলা নেই চেনা যায় না
মুখে দাড়ি নেই, নেই পায়ে অজন্তার হাওয়াই ,বসা গাল হাই পাওয়ারের চশমা চুলে জট কিচ্ছুটি নেই
হাঁটা চলার ধরন কথা বলার অ্যাকসেন্ট, সে বলে কুশল কথা ,শুনি আর হজম করি অনন্ত বিষাদ. ..
ঘটন অঘটন জাতপাত দাঙ্গায় অদম্য মানবতা ঘুড়ি
কতিপয় আকাশে ওড়ে ওড়েনা ,হতবাক হয়ে আগুনের কাছে যায় ,স্পর্শ করে স্বাধীনতা দিবসের গান গায়,ধ্বনি থেকে প্রতিধ্বনিত হ য় গগনবিদারী প্রেম,তারপর অনেক রাস্তা ঘুরে একদিন শেষতম ট্রেন ধরে বিপ্লব এসে দাঁড়ায়, আমি তাকে বলি সময় আছে তো দুটো ডাল ভাত খেয়ে যেও
সে বলে কুশলকথা সমাজের খবর নেয়
এখন আর হাওয়াই চটি নেই
গালে তিন মাসের না কামানো দাড়ি নেই
মলিন ঝোলায় কোনো ইস্তেহার নেই
মিথ্যে কেন দোষ ধরি ছাপোষা বিপ্লবীর
বিপ্লব আসবে কোনও না কোনও দিন আসবেই
এই বিশ্বাসে বুক বাঁধি
সেদিন ঠিক দীর্ঘজীবি হবে বজ্রমুষ্টিতে ভর করে ….
বুঝতে দিও না
কাউকে কিচ্ছুটি বুঝতে দিও না
যা ছিল বিস্ময় আনন্দের রেশ
চোখের দৃষ্টি প্রত্যেকের আলাদা আলাদা
কিংবা ঘৃণা অপমান ক্ষত অশ্রুহীন আরোপিত
প্রতিশ্রুতি ঝলমলে আলোর দোকান
সব কিছু একদিন ঝরাপাতা কুয়াশা সফর
ধুলোয় ধূসর নীল গোধূলি
এভাবেই একদিন নতুন দিনের গভীরে
জন্ম নেবে রাত সতত জিজ্ঞাসার
প্রাচীন অভিজ্ঞতায় নির্মাণ বিনির্মাণে শব্দহীন জলপথে প্রায় যুদ্ধ লাগে লাগে
আচম্বিতে ভূখন্ড অদৃশ্য হয় প্রবল হাওয়ায় বিষ
বেঁচে থাকা অস্থির বিকল্প যেন আগ্নেয় ব্রুহাহা…
মুখে তে কুলুপ এঁটে মুশকিল আসান যদি পারো
তবে কিছু করো,জীবনের কিছু ফুল আর ভুল নিয়ে
আকাশে ওড়াও,সাবধানে পা টিপে টিপে
ঘূণাক্ষরেও কেউ যেন কিচ্ছুটি টের না পায় ……
শোষিত ও শাসক
মহৎ বেদনার কাছে কিছু খড়কুটো রেখে যায় পাখি
গতি ময়তায় ঠোঁটের কোণে তুলে দেওয়া মাত্র
কিছু খাবার ও পানীয়
পালকের গন্ধ নেয় শাবক
টাঙ্গি ও ভল্ল নিয়ে তখন ওদিকে সামান্য সরে
দাঁড়িয়েছে শিকারী,পাইন গাছের ফাঁকে তাক করে
জানলা দিয়ে তাকে দেখছে মানমতী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কচি কাঁচাদের দল
দূরের নীল আকাশ পুটুস ঝোপ জঙ্গলের শাল মহুয়া তখন চোখ টিপে হাসছে. ..
লোকে বলে যুগে যুগে এই সব হয়
বর্ণভেদে দেওয়াল ও দালান
ময়রা ও মহাজন,শোষিত ও শাসক …….তবুও মানুষ কিছু চিহ্ন রেখে যায় পথে আলপথে হাজার হাজার বছরের পর প্রতিশোধ নেবে বলে …