ক্যাফে ধারাবাহিক উপন্যাসে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ২৯)

শহিদ ভগৎ সিং চরিত
নবম অধ্যায় || প্রথম পর্বর শেষাংশ—
বায়োস্কোপওয়ালা বলে চলেছে,সঙ্গতি রেখে বাক্সের মধ্যে রিল ঘুরছে।
“13ই সেপ্টেম্বর1929সাল,যতীন্দ্রনাথ দাসের এই আত্মত্যাগে,সারা দেশ উত্তাল,আক্রোশে ফুটছে; ওঁরা তো রাজনৈতিক বন্দীর মর্যাদার জন্য অনশন করেছেন ।দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল,কংগ্রেস কেবল বৃটিশ সরকারের কাছে কাকুতি- মিনতি করে চলেছে;দিকে দিকে বিপ্লবের বাণী ছড়িয়ে পড়েছ। শহিদ যতীন্দ্রনাথের মরদেহ লাহোর থেকে দিল্লি হয়ে কলকাতায় আনা হচ্ছে;পথে আগ্রা ষ্টেশনে মরদেহ নিয়ে ট্রেন পৌঁছালে, হাজার,হাজার লোক ষ্টেশনে এসে মরদেহে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলেও গান্ধীজি এলেন না,যদিও কাম্প করে তিনি ঐ সময় আগ্রাতেই রয়েছেন। হতেও পারে,যতীন্দ্রনাথ, বোমা তৈরির মাষ্টার, আর তিনি,অহিংসা- বুলি আউরিয়ে, লোকের আবেগকে কাজে লাগিয়ে,তাদের মার-খাওয়ার হজম শক্তি বৃদ্ধির মাষ্টার বলে।
আবার,এও হতে পারে,না এসে বৃটিশ সরকারকে জানানো যে তিনি বিপ্লবীদের ছোঁয়া থেকে দূরেই রয়েছেন;
সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা হারাতে তিনি রাজি নন। বিপ্লবীদের মতাদর্শের সঙ্গে
কংগ্রেসের মধ্যস্বত্ব উপভোক্তার দলের মধ্যে পার্থক্য তো থাকাই স্বাভাবিক, তাই তারা পরিবর্তন বিরোধী;তারাও বিনাশর্তে গান্ধীজির কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন ।এ খবর পৌঁছালে,আজাদ অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হন; ভাগ্য ভালো গান্ধীজির,যে আজাদও
দেশের মানুষের বিশ্বাসঘাতকতার জন্য,পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান; নাহলে হয় তো, নাথুরাম গডসের জন্য ভারতবাসীকে দীর্ঘকাল অপেক্ষা করতে হতো না।”
“যতীন্দ্রনাথের মরদেহ আসছে কোলকাতায়;শহিদকে বীরের সম্মান জানাতে,শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ,সারা কোলকাতা ভেঙ্গে পড়েছে।ভাইস-রয় অফ ইন্ডিয়া,17ই সেপ্টেম্বর লন্ডনে খবর পাঠাচ্ছেন যে প্রায় পাঁচ লক্ষ লোক শ্রদ্ধা জানাতে কলকাতায় মরদেহ নিয়ে
শোভা- যাত্রায় অংশ গ্রহন করে। চিত্তরঞ্জন দাস ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়া আর.কারো মৃতদেহ নিয়ে শোভাযাত্রায় এত মানুষের জমায়েত হয়নি।”