কবিতায় ধীরেন্দ্রনাথ চৌধুরী

কবি
আজ বিশ্ব কবিতা দিবস, চারিদিকে কবির ভিড়,
কে বলবে, কোনটা ভেজাল, কোনটাই বা আসল ক্ষীর।
কবিতা আসর, সম্বর্ধনা, সার্টিফিকেট, মেডেল দান,
এ করে ওর চামচাগিরি, ও করে তার গুণগান।
পথে ঘাটে, বিড়ির দোকান, মদের ঠেকে চলছে পাঠ,
ট্রামে, বাসে, ট্রেন কামরায় কবিতাতে জমজমাট।
কেউই কারোর শুনছে না তো, নিজে কখন বলবে সে,
সেই আশাতেই বসে থাকা, নাম ঘোষণায় গলবে সে।
কত কবি ছড়িয়ে আছে, লেখায় তাদের ভীষন জোর,
পাঠক পড়ে মুগ্ধ হবে, আঁধারে তে আনবে ভোর।
তাদের আলোয় কেউ ডাকেনা, পড়েই থাকে অনাদৃত,
সবাই দেখে চোখ টা ঘোরায়, হোক না তারা ভূলুণ্ঠিত।
কবিতার যে “ক” ই জানেনা, ম্যাগাজিনে লেখা ছাপে,
স্টেজে ওঠার চান্স পেয়ে যায়, সোর্স আর নোটের পরিমাপে।
ভিডিও তোলে লোক লাগিয়ে, ফেসবুকেতে হয় যে পোষ্ট,
পায় না লাইক, কমেন্ট, কারন ওটা তো কবিতার “ঘোস্ট”
নিজের আত্মীয় বলে “আহা, গো কি কবি বটে,
পরম সৌভাগ্য হলে এমন কবি ভাগ্যে ঘটে।”
পাঠক যত, তার থেকেও কবির সংখ্যা আরও বেশি,
চোরাপথে চলছে কেমন এর সাথে ওর রেষারেষি।
কবিতা কাঁদে মুখ লুকিয়ে, কোথায় এবার পালাবে সে,
কার হাতে সে পড়ে গিয়ে, ভেসে যাবে নিরুদ্দেশে।
তবুও আসে “কবিতা দিবস” অনেক আশার বার্তা নিয়ে,
কার বা তাতে কি আসে যায়, বেনোজলে গা ভাসিয়ে!