সম্পাদকীয়

জৈষ্ঠ্য মাস ফুরিয়ে এল । যাবার বেলায় সে যেন প্রচন্ড ক্রোধে বিশাল জিহবা বার করে তপ্ত অগ্নিশ্বাসে পৃথিবীর মানুষকে সচেতন বার্তা দিয়ে যাচ্ছে । বারবার বলছে ‘সংযত হও ‘ । ‘বৃক্ষ নিধন বন্ধ কর’ । ‘জলাজমি রক্ষা কর’ । না হলে প্রলয় থেকে রেহাই নেই ।
এত সবের মধ্যে এসে গেল অরণ্য ষষ্ঠী যা জামাই ষষ্ঠী নামে বেশি প্রচলিত । নারী এবং জমি সমার্থক । উভয়েই উর্বরতা এবং উৎপাদনের সাথে জড়িত। কর্ষনকারী পুরুষ এবং উর্বর জমি নারী । অরণ্য ষষ্ঠী একসময় অরণ্যকে বন্দনা করে পালিত হত।
আধুনিক শাশুড়ি মায়েরা যদি ৬, বালিগঞ্জ প্লেস বা তাজের বাতানুকুল ঘরে টেবিল বুক করার আগে দুটি গাছকে দত্তক নেন তাহলে বোধহয় সবদিক রক্ষা হয় ।
আজ দেখলাম একটা ঝড়ে পড়া নারকোল গাছের কোটরে এক কাঠঠোকরা দম্পতি বাসা বেঁধেছে । একজন লালঝুঁটি বাগিয়ে বাসা থেকে মুখ বাড়িয়ে ডিমে তা দিচ্ছে , অন্যজন খাবার নিয়ে আসছে। একটুপরে আরেকজন উড়ে যাচ্ছে , অন্যজন ডিমে তা দিতে বসছে । সকালের চায়ের সময় এমন দৃশ্য বারান্দার কাছে দেখে প্রকৃতির ভারসাম্যকে কূর্ণিশ করি । ষষ্ঠীর প্রাক্কালে কাঠঠোকরা দম্পতির ছানাদের মঙ্গল কামনা করি । দুয়োরানীর বাঁদরের মত এরাও যে খোলা আকশের নীচে পলকা কুঁড়ে ঘরে থাকে থাকে ।
সব প্রলয় থেকে সব ছানারা রক্ষা পাক । সব ছানারা বেঁচে বর্তে থকুক ।
শুভেচ্ছা নিরন্তর ।