ক্যাফে ধারাবাহিক উপন্যাসে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ২৩)

শহিদ ভগৎ সিং চরিত

সপ্তম অধ্যায় || তৃতীয় পর্ব

HSRA ‘র কেন্দ্রীয় কমিটির মিটিং বসেছে, কাহিনীকার বলতে শুরু করলো –
“আলোচনা চলছে, এই অস্থির রাজনৈতিক অবস্থায়, এমন কিছু একটা করা দরকার,যা জনমানসে গভীর ভাবে রেখাপাত করবে;নিজেদের গায়ে কংগ্রেসের ও বিদেশি সরকারের দেওয়া ‘সন্ত্রাসবাদী’ তকমাও ঝেড়ে ফেলা যাবে; মানুষ, প্রকৃত সত্য জানতে পারবে। সরকার যে পীড়ন-মূলক বিলগুলো, সেন্ট্রাল এ্যাসেম্বলীতে আনতে চলেছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও পৃথিবীর মানুষের কাছে, এ সরকারের ভালো- মানুষী মুখোশটাও খুলে দেওয়া দরকার। আর এটা করতে হলে, সেন্ট্রাল এ্যাসেম্বলীতে বিলগুলোর উপর আলোচনা ও ভোটাভুটির দিন, ভিজিটর- গ্যালারি থেকে হলের মধ্যে, ট্রেজারি- বেঞ্চের ফাঁকা জায়গায় বোমা ফেলতে হবে, যেন কোন মানুষের ক্ষতি না হয় বা খুবই অল্প হয়, এবং যে বা যারা বোমা ছুঁড়বে, পুলিশের কাছে তারা আত্মসমর্পণ করবে ও নিজেদের দলের প্রচার সারবে। এই খবর, পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য সংবাদ-পত্রে প্রকাশের ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গে হ্যান্ড বিল, লিফলেট ছড়িয়ে HSRA’ র কর্মকাণ্ডের আদর্শ ও উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে হবে অর্থাৎ এ্যসেম্বলীকে প্রচারের প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। এ মিটিং- এ সুখদেব অনুপস্থিত রয়েছে। ভগৎ সিংজি, নিজের নাম পাঠাবার প্রস্তাব দিতেই তা ধ্বনি ভোটে নাকচ হয়ে যায়; কারণ, এ কাজের পরিণতি যে মৃত্যু, তা নিশ্চিত; সদস্যেরা, ভগৎ সিংজিকে হারাতে চায় না। সংগঠনের তাত্ত্বিক দিকটা তাহলে নিষ্প্রভ হয়ে যাবে, তাই তারা অন্য একজনের নাম প্রস্তাব করে; অধিকাংশের মত মেনে নেয়, ভগৎ সিংজি। কিন্তু, পরে সুখদেব তা জানতে পেরে, ভগৎ সিংজিকে ভীরু, কাপুরুষ, মৃত্যুকে ভয় খায় ও নানা কু-কথা বলে অপমান করে। ভগৎ সিংজি, খুবই মনে আহত হন; ভবিষ্যতে আর তাঁর সাথে কথা বলতে নিষেধ করেন। এরপর, তিনি, অনেক পীড়াপীড়ি করে পুনরায় কেন্দ্রীয় কমিটির সভা আহ্বান করাতে সমর্থ হন এবং স্থির হয় যে তিনি ও বটুকেশ্বর দত্ত, এ্যাসেম্বলীতে বোমা ফেলবেন ও আত্মসমর্পণ করবেন। সারা মিটিং এ সুখদেব, চুপচাপ বসে থেকে লাহোর ফিরে যায়। নিজের বন্ধুকে চিরকালের মত হারাবার যন্ত্রণায় দুঃখ পেলেও বিপ্লবীর তা প্রকাশ করা গর্হিত অপরাধ।”
“দিল্লীতে Hausquazi Police Station’র  কাছে বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছে। বাড়ি ভাড়া, সেন্ট্রাল এ্যাসেম্বলী হলের সব ঘাঁত- ঘোঁত, দমন- মূলক বিলগুলোর উপর  কখন ভোটাভুটি হবে,তার সময় ইত্যাদি বিশদভাবে জানার ভার পড়েছে জয়দেবের উপর।”
“ব্যাচেলরদের কেউ বাড়ি ভাড়া দিতে চায় না। জয়দেব, বাড়ির মালকিনের কাছে বলেছে, দাদার নতুন বিয়ে হয়েছে, ভাবীকে আনতে গেছে; তারা, এতদিন সীতারাম বাজারে ছিল, দাদার বিয়ের জন্য ও বাড়ি ছাড়তে হচ্ছে, নতুন বাড়ি খুঁজছে। জয়দেব, নিজেকে পলিটিক্যাল সায়েন্স ক্লাসের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র হিসেবে বিশ্বাস জন্মিয়ে, এ্যাসেম্বলীর সদস্যদের সঙ্গে ভিজিটর হিসেবে হলে গিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে  সব দেখে এসেছে। অ্যাকসান পার্টিকে ভিতর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া, তার দায়িত্ব; তাদের জন্য, সদস্যদের রেকমেণ্ডেড ভিজিটর পাসও জোগাড় করেছে। এবার  সেই নির্দিষ্ট দিনে, এ্যাসেম্বলী- হল পর্যন্ত  ওদের এগিয়ে দিয়ে আসছে। “
চলবে 
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।