সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ২০)

শহিদ ভগৎ সিং চরিত
ষষ্ঠ অধ্যায় || প্রথম পর্ব
কাহিনীকার বলতে শুরু করেছে—, ” ভগৎ সিংজিকে যখন লাহোর ষ্টেশনে,1927 সালের 29মে তারিখে কাকোরী ষড়যন্ত্র ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে প্রথম গ্রেফতার করা হয়, তখনই তাঁর অজান্তেই পুলিশ ছবি তুলে রেখেছিল— খাটিয়ায় উপর বসা, বাঁ হাতটা খাটিয়ায় একটা পা’র সাথে চেন দিয়ে আটকানো-এভাবেই, ঐসময় অভিযুক্ত সন্দেহে আটক ব্যক্তিকে ইনভেস্টিগেশন করার জন্য লক- আপে রাখার নিয়ম ছিল। খাটিয়ায় বসা, গায়ে বিবর্ণ শার্ট, ডান দিকটা কোন কিছুতে আটকিয়ে ছেঁড়া, গ্রাম্য লোকের মত পরনে চাদর, হাঁটু পর্যন্ত গোটানো, মাথায় অবিন্যস্ত চুল,
শিখ প্রথামত ঝুঁটি বাঁধা, পাশে চেয়ারে বসা, একজনের মুখের দিকে তাকিয়ে রহেছেন। এ ছবির কপি, নিশ্চয়ই বিভিন্ন থানায় পাঠানো হয়েছে, বিশেষ করে, ভগৎ সিং’র নাম যখন পুলিশের সন্দেহ তালিকা ভূক্ত; তারপরও আছে, তার নামে আসা পোষ্ট- অফিসের সব চিঠি-পত্র, পরীক্ষা প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্তি। “
“এদিকে , পুলিশ- অফিসের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে
হত্যা করা হয়েছে;চলছে, লাহোর
শহরের সর্বত্র চিরুনি তল্লাশি;
পাকড়াও করা হয়েছে ‘নৌ- জোয়ান’ সদস্যদের অনেককে;কিন্তু, পুলিশ রয়েছে অন্ধকারে। প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশ- অফিসার হত্যা, তারপর
শহরের বিভিন্ন জায়গায় লিফলেট বিলি—
‘Saunders is dead, Lalaj’s
death is avenged’-
Balraj, Commander- In- Chief,
HRSA ”
” শহরের যুব- সম্প্রদায়ের মধ্যে সাড়া পড়ে গেছে। না, লাহোরে থাকা, এখন মোটেই নিরাপদ নয়; আ্যকসনের সময়, কেউ না কেউ ওদের দেখে থাকতেই পারে;
অতএব, এ শহর থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চলে যেতে হবে। “
“দুর্গাভাবীর বাড়িতে সুখদেব এসেছে; যে করেই হোক, ঐ তিনজনকে, এ শহরের বাইরে নিয়ে যেতে হবে। দুর্গাভাবীর স্বামী, ভগবতী ভাই, মীরাট- ষড়যন্ত্র কেসে অভিযুক্ত, রহেছেন ফেরার। কয়েক দিন আগে কোলকাতায় কংগ্রেস- অধিবেশনে যাবার আগে একবার বাড়িতে এসে কিছু টাকা দিয়ে গেছেন। দুর্গাভাবী, স্থানীয় আর্য- কন্যা বিদ্যালয়ে হিন্দি পড়ান। ঐ দিন, 17ই ডিসেম্বর, স্কুল থেকে ফেরার পথে, ‘হত্যা- সংবাদ’ শুনেছেন। “
“এই কয়েকদিন আগে, মাত্র সেপ্টেম্বর মাসেই দিল্লির
ফিরোজশাহ- কোটলা মাঠের সভায়’ HRPA’ নামের পরিবর্তন ঘটিয়ে পার্টির নামকরণ করা হয়েছে’HSRA’;উদ্দেশ্য, ভারতে
সোস্যালিস্ট আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া; যুক্ত করতে হবে সর্বস্তরের মানুষকে, শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র, সবার মধ্যে, সমাজতান্ত্রিক ধ্যান- ধারণার বিস্তার ঘটাতে হবে, আর তা করতে হলে, সেটা প্রকাশ্যেই
করতে হবে। সুতরাং, হিংসার পথ এড়িয়ে যেতে হবে; কিন্তু, এখন! সময় যে বড় কম, পুলিশের হাতে তো পড়তেই হবে; ভগৎ সিং, খুবই উদ্বিগ্ন, তাঁকে এই অল্প সময়ের মধ্যেই সব কাজ সারতে হবে। ইতিমধ্যে, প্রায় বিয়াল্লিশ জন বিপ্লবী, গাদার পার্টির শহিদদের জীবনের স্কেচ, বিভিন্ন ভাবে, বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন; ম্যাজিক লন্ঠনের মাধ্যমে শহীদের
প্রতিকৃতি দেখিয়ে তিনি বক্তৃতা শুরু করেছেন। এভাবেই, ছাত্র- যুবদের মধ্যে উদ্দীপনার সঞ্চার করে এসেছেন; মানুষ মারা তো নয়, মানবতার আদর্শ তুলে ধরাই উদ্দেশ্য; একজন মানুষকে হত্যা করে কখনই সোস্যালিজম আনা যায় না; নেহাতই বাধ্য না হলে হত্যা নয়, এবং তা সর্বতোভাবে পরিত্যাজ্য। কিন্তু–,কংগ্রেস ও বৃটিশ সরকার, এবার গায়ে সন্ত্রাসবাদ তকমা সেঁটে দিতে তৎপর হবে। যাই হোক, শুরু হ’ল
ভগৎ সিং’র গোপন ক্রিয়া-কলাপ।”
চলবে