কবিতায় নবকুমার মাইতি

বাসন্তী রঙে রাঙাই
উৎসবের আঙিনায় দোলযাত্রা এলেই
মনটা বাসন্তী রঙে রাঙা হয়ে ওঠে
বিহঙ্গরা উড়ে যায় সুনীল আকাশে
ডানায় উদাসীন পৃথিবীর মায়া
বৈরাগ্যের বিশল্যকরণী মন্ত্রে কিছু শব্দকল্প
জড়ো হয়ে প্রসব করে অমৃত রসায়ন
চরিতামৃত -শোক আর শ্লোক কখন
যেন মিলেমিশে এক হয়ে যায়
বিবাগী মনের দরজায় কড়া নাড়ে ভালোবাসার
সুর ও সঙ্গীত, ক্রমশ মুছে যায়
আত্মবিলাপ, অন্তর্গত দুঃখ ব্যথা
অগণিত যাপন চিত্র, অনিত্য বিষয় বৈভব
ফিঙে পাখি দোল খায় যজ্ঞ ডুমুরের ডালে
মুকুলিত কামরাঙ্গা রঙে নবীন কিশলয়
অনতিবিলম্বে কৃষ্ণচূড়ার ডালে বসে
সুখ -সারি গায় আত্মগত হৃদয়ের গান
‘হোলি খেলে হরি উন্মাদ রঙ্গে’
রাধ্যতে রাধা- পরমা হ্লাদিনী শক্তি
বেঁধে বেঁধে রাখে সত্তার বাঁধনে
অকৃত্রিম ভালোবাসা মানবতা প্রেম সখ্যতা
একটা আসক্তির গাড় চুম্বন
তবুও মনের অজান্তে কখন ভাব রাজ্যে
উকি মারে ভাঙ্গনের প্রশ্ন চিহ্ন
পুলওয়ামা হত্যাকাণ্ডে নিহত জোয়ানের রক্তঋণ, আত্ম বলিদান
সীমান্তে ধ্বনিত রণভেরী ছাড়িয়ে
আসবে কি একটা নিষ্পাপ নির্মল ফাগুন
ভালোবাসার সত্যিকার আত্মিক নৈকট্য
প্রেমের রঙ্গীন আবির কতখানি নিখাদ?