T3 || কবিতা দিবস || বিশেষ সংখ্যায় মিঠুন মুখার্জী

নির্দোষ আসামি
আমি একজন ভাগচাষী
ভাগ্যদোষে আজ আমি সেন্ট্রাল জেলের আসামি।
এ জগতে সতের কোনো মূল্য নেই
অসতের মিষ্টি কথাই সকলে বিশ্বাস করে।
ক্ষমতাবানের কাছে মাথানত করে থাকে
মনুষ্যত্ব আজ অকালে মারা গিয়েছে।
আমি সেদিন মাঠে চাষের কাজে ব্যস্ত ছিলাম
হঠাৎ গোটা চারেক মস্তান এলো ধান ক্ষেতে।
সঙ্গে জোর করে পশুর মতো টেনে হেঁচড়ে নিয়ে এলো একটি মেয়েকে
মেয়েটি চিৎকার করে কান্নার সহিত বলছিল– বাঁচাও, বাঁচাও।
আমার মনুষ্যত্ব জেগে উঠলেও আমি তাকে বাঁচাতে পারিনি
তাদের হাতে ছিল ধারালো অস্ত্র বন্দুক আর বোমা।
লুকিয়ে দুচোখ দিয়ে দেখছিলাম নৃশংস ঘটনা
মেয়েটিকে নগ্ন করে গণধর্ষণ করল নরপিশাচেরা।
খুবলে খুবলে খেলো মেয়েটির শরীরটাকে
তাতেও আশ মিটল না তাদের ।
প্রমান লোপাটে মেয়েটির গোপনাঙ্গে ভরে দিল লোহার রড
আগেই মেয়েটির হাত ও মুখ বেঁধেছিল তারা।
খাসি কাঁটার মতো যন্ত্রনায় লাফাচ্ছিল মেয়েটি
তার কষ্ট দেখে আমার দুচোখ দিয়ে জল পরেছিল।
আমার চোখের সামনে মেয়েটি মারা গিয়েছিল
আমি দূর থেকে বলেছিলাম— ভগবান এদের শাস্তি দিও।
আমার পায়ের কাছে একটা সাপ দেখে আমি চিৎকার করে উঠি
মস্তানেরা আমায় দেখে তাড়া করে, অকথ্য গালাগালি দেয়।
ওদের সাথে দৌড়ে না পেরে শেষে ধরা পড়ে যাই
আমার মাথায় বন্দুকের আঘাত করায় আমি জ্ঞান হারাই।
যখন জ্ঞান ফেরে, তখন দেখি আমার সামনে পুলিশ
পাশে পড়ে আছে ধর্ষিতা মেয়েটি, দূরে লোকে লোকারণ্য।
আমার হাতে ছিল মাস্তানদের সেই বন্দুকটি
বুঝতে ভুল হল না, আমায় ফাঁসিয়েছে ওরা।
আমি চিৎকার করে কেঁদে উঠি
বলতে থাকি এই নৃশংস কাজ আমি করি নি।
হে ভগবান আপনি আমায় রক্ষা করুন
কেউ বিশ্বাস করলো না আমায়, সকলের চোখে আগুন ঝরে পড়ছে।
পুলিশ নিয়ে গেল আমাকে,
মারের ঠেলায় অন্যের অপরাধ মেনে নিতে হল।
তিনদিন পর আমার বিচার হল
বিচার তো নয় যেন প্রহসন।
টাকার বিনিময়ে মিথ্যা প্রমান দিল অনেকে
আমায় ফাঁসির সাজা শোনালেন বিচারক!!
আমি বুঝেছিলাম অর্থ আর ক্ষমতার কাছে সততা অসহায়
হায় রে বিধাতার বিচার ! হায় রে দরিদ্র মানুষ !!
আজ আমি কারাগারের অন্ধকারে বন্দী।
গুমরে গুমরে কাঁদছি আর মনে মনে ভাবছি,
কার মুখ দেখে যে সেদিন মাঠে গিয়েছিলাম।
আমার মতো কত মানুষ মিথ্যা কেসের শিকার
আমাদের কষ্ট কেউ বোঝে না, অন্ধ আইন অন্ধ বিচার।