সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে কৌশিক চক্রবর্ত্তী (পর্ব – ২৮)

কেল্লা নিজামতের পথে
নির্লিপ্ত মুর্শিদাবাদ। কেউ সাত চরে রা কাটে না। নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে নিয়ে যা একটু কথা কানে ভেসে আসে আর কি। বাকি নবাবদের তো খুঁজে পাওয়াই দায়। কিন্তু অতীত যে পাল্টাবার নয়। সবকিছু আঁকড়ে ধরে সে ডুবে থাকে একটা সময়ের গভীরে। সেখানে পৌঁছনোটাই যেন চ্যালেঞ্জ। আর পৌঁছতে পারলেও ছুঁয়ে দেখা বড় কঠিন। কত পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি৷ কোথায় আজ আর নবাবতন্ত্র? কোথায় আজ মদনদ? তবু তাঁরা থেকে যান। মাটি খুঁড়ে যেভাবে ঠিক একদিন বেরিয়ে আসে চন্দ্রকেতুগড়, সেভাবেই মাটির ওপরে দাঁড়িয়েই যেন কথা বলে মাত্র তিন শতাব্দী প্রাচীন নগরী মুর্শিদাবাদ। তিনটে শতাব্দী কি সত্যিই কি অনেকটা পিছিয়ে যাওয়ার সময়? মুর্শিদকুলির সময় থেকে সিরাজউদ্দৌলার সময় মাত্র ৬০ বছর মুর্শিদাবাদের ইতিহাসের স্বর্ণযুগ। এরপর ধীরে ধীরে প্রায় তিনশ বছর ধরে একটু একটু করে গড়ে উঠেছে কলকাতা আর সকলের অলক্ষ্যে হারিয়ে গেছে একটা আস্ত নগরী মুর্শিদাবাদ। কিন্তু ওই ৬০ বছরের ছোট্ট সময় মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্য ও সম্পদ অনায়াসে তাক লাগিয়ে দিতে পারত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রাজধানী লন্ডনকেও। এই আশ্চর্য মায়ানগরীর উত্থান বড়ই চমকপ্রদক। হয়তো মোঘলরা কোনদিন ভেবে উঠতে পারেনি যে তাদের সাম্রাজ্যেই বাংলার বুকে তৈরি হতে চলেছে এমন এক আশ্চর্য নগরী যা মুঘল সালতানাতের সমস্ত সাম্রাজ্যে সবথেকে বড় নগরী হিসেবে পরিচয় পাবে। এমনকি বাদশা ঔরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর এই মুর্শিদাবাদ পাবে মুঘল সম্রাটদের আওতার বাইরে এক স্বতন্ত্র রাজ্যের মর্যাদা। এইসবই এক সময় কল্পনার অতীত। কথায় বলে ৩০০ বছরের কলকাতা। কিন্তু সত্যিই কি তাই? যদি তাই হবে, তবে মুঘল সম্রাট আকবরের সভাকবি আবুল ফজলের আইন-ই-আকবরীতে কলকাতার নাম উল্লেখ কি করে সম্ভব হয়? অর্থাৎ মহানগরীটির উৎপত্তি ৩০০ বছর হতে পারে কিন্তু কলকাতা নামক স্থানটির পরিচয় বহু পুরনো। আর কলকাতা গ্রামের, মহানগরীতে উত্থানের পিছনে যে ঘটনাটি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল, তা হল নিঃসন্দেহে পলাশীর যুদ্ধ। পলাশী এক মাহেন্দ্রক্ষণ। পলাশী এক অধ্যায়। আজকের বাঙালি মীরজাফর এর পিঠে খুব সহজে বিশ্বাসঘাতকের তকমা এঁটে দিতে পারে। বিশ্বের ব্যাংকার জগৎশেঠকে প্রবল বিশ্বাসঘাতক বেঈমান বলে আখ্যায়িত করতেও পারে। কিন্তু প্রশ্ন উঠে আসে যে জগৎশেঠ, মীরজাফররা আগের সমস্ত নবাবের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করে গেলেন, আলীবর্দী খানের আমলে নবাবের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বর্গী মারাঠাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে গেলেন, তারা হঠাৎ বৃদ্ধ আলিবর্দীর মৃত্যুর পর কেন তরুণ নবাব সিরাজের বিরুদ্ধে চলে গেলেন? মুর্শিদাবাদ ঘুরতে ঘুরতে এই চিন্তা বারবার মাথায় আঘাত করে যায়। কিন্তু উত্তর কই? উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই কেল্লা নিজামতের দরজায় গিয়ে দাঁড়ানো। আশপাশে কান পাতলে শোনা যায় বহু কথা। দাদুর মৃত্যুর পর যে তরুণ নবাব সবেমাত্র বাংলার সিংহাসনে বসেছেন, এমনকি তখনো ঠিক মতো গুছিয়ে উঠতে পারেননি রাজকোষ এবং রাজত্ব, তার মধ্যেই শত্রুদের মোকাবিলা করতে করতে তার রাজকোষ উজাড়। মুর্শিদাবাদ বলে, বাংলার আকবর আলীবর্দী খাঁ। মুর্শিদকুলি বাংলার বাবর হলেও আলীবর্দী সবদিক থেকে গুছিয়ে যেভাবে বাংলার হাল ধরেছিলেন তার আগে পরে নবাবদের ক্ষেত্রে তেমনটি কোনোভাবেই দেখা যায়নি। তবুও বাংলার ইতিহাসে নায়ক নবাব সিরাজ।
সময়ের হাত ধরে বারংবার রাজধানী পরিবর্তন করেছে বাংলা। রাজমহল থেকে ঢাকা হয় মুর্শিদাবাদ এবং অতঃপর কলকাতা। আজও কলকাতা মহানগরী ভেঙে যাওয়া বাংলার পশ্চিম দিকের রাজধানী। আর ঢাকা গেছে পূর্বে। কিন্তু অবহেলায় অন্ধকারে তলিয়ে গেছে মুর্শিদাবাদ। তার সমস্ত গরিমা দিয়ে ধীরে ধীরে সাহেবদের ইচ্ছায় তৈরি হয়েছে কলকাতা। এই কাজ একদিনে হয়নি। হওয়া সম্ভবও না।
কেল্লা নিজামত এর অবস্থান একেবারেই ভাগীরথীর তীরে। কিন্তু আজ যে অংশগুলি ইতিহাসপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য বেঁচে আছে, তা পুরনো কেল্লা নিজামতের এক-তৃতীয়াংশেরও কম। কেল্লা নিজামত অর্থে নবাবদের বাড়ি। কিন্তু সে নবাব আজ আর নেই আর তাদের বাড়িও নেই। এক এক করে প্রায় সবকটি বাড়িই আজ নয় ভাগীরথীর নদীগর্ভে বিলীন আর না হয় ইংরেজদের হিংসা চরিতার্থ করবার ফলাফল হিসাবে মিশে গেছে মাটির সাথে।
মুর্শিদাবাদ অনেক কথা বলে। শহরটি তৈরীর আগের মুহূর্তে বাদশা ঔরঙ্গজেবের নাতি আজিমুশ্বান তখন ঢাকা থেকে বাংলা শাসন করছেন। দিল্লির দেওয়ান হিসাবের মুর্শিদকুলি বা করতলব খান ওই ঢাকাতেই অবস্থান করছেন। এই করতলব খান উপাধিও বাদশারই দেওয়া। এদিকে ঢাকায় খামখেয়ালি আজিমুশ্বানের কার্যকলাপে একেবারেই সন্তুষ্ট ছিলেন না সম্রাট ঔরঙ্গজেব। এমনকি তার কার্যকলাপের কথা শুনে বাংলায় পরপর চিঠি পাঠাতে শুরু করেছিলেন সম্রাট। স্পষ্ট করেছিলেন তার অভিমত। বলেছিলেন, “প্রজাদের সেবা করতে গেছো, অত্যাচার করতে নয়। সুতরাং বিলাসব্যসন ছেড়ে রাজকার্যে মনোনিবেশ করো। তুমি রাজ পরিবারের সন্তান। সেই মান রেখে চলার চেষ্টা করো।”
কিন্তু কোথায় কি? পরিবর্তন হওয়ার মানুষ আজিমুশ্বান নন। এদিকে মুর্শিদকুলি বড় প্রিয় পাত্র বাদশার। তাই বাদশা ঔরঙ্গজেবের প্রশ্রয়েই মুর্শিদাবাদ গড়ে ওঠা ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা। অপেক্ষার অবসান হয়েছিল, তৈরি হয়েছিল মুর্শিদাবাদ। মুর্শিদকুলি সুজাউদ্দিনদের হাত ধরে ও জগৎশেঠ ফতেচাঁদ, মহাতপচাঁদদের যোগ্য পৃষ্ঠপোষকতায় মুর্শিদাবাদই হয়ে উঠেছিল মোঘল ভারতের অন্যতম সম্পদশালী নগরী। ভাবতে অবাক লাগছে না? আজ কোথায় সেই সব গল্পকথা? মাত্র ৬০ বছরে গড়ে ওঠা এক আশ্চর্য মায়ানগরী কিভাবে তুরুপের তাস এর মত হুড়মুড়িয়ে ধ্বসে পড়ল শুধু একটি যুদ্ধের পরেই। আর ধীরে ধীরে বদলে গেল বাংলার ভবিষ্যৎ। বলতে পারেন কেন তবে পলাশীর যুদ্ধ বাংলার ইতিহাসে এক মহা সন্ধিক্ষণের ভূমিকা নেবে না?
খুঁজতে গেছি কেল্লা নিজামত। কিন্তু চারপাশে কত বাড়ি। সমগ্র অঞ্চলটায় হাজারদুয়ারি ছাড়া আর কিছু খুঁজেই পাওয়া যায় না ঠিকমতো। এত বছরের রাজনীতি, ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন স্বার্থে ইতিহাস চাপা দেওয়ার চেষ্টা, এই সবকিছু নিয়েই আধুনিক মুর্শিদাবাদ। শুধু ভাগীরথীর দুপাশে ছড়িয়ে থাকা অজস্র ঐতিহাসিক নিশান। সে একটা ইটই হোক, অথবা একটা জীবন্ত প্রাসাদ। এসব ঘুরতে ঘুরতেই ঠিক করলাম সকাল সকাল খুঁজতে যাব হীরাঝিল। অর্থাৎ নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাধের হীরাঝিল প্রাসাদ। এই প্রাসাদটি নিয়ে তাঁর আবেগ কিছু কম ছিল না। এসব কথা আগেও বলেছি। কিন্তু যেটা বলিনি তা হল প্রাসাদের বর্তমান অবস্থা। একটা মাঠের উপর দাঁড়িয়ে কেউ যদি বলে যে দাঁড়িয়ে রয়েছি একটি সুবিশাল প্রাসাদের উপর, আদৌ কি তা বিশ্বাসের জায়গা তৈরি করে? বিষয়টি যেন ঠিক সেরকমই। একপাশে কুল কুল করে বয়ে যাওয়া ভাগীরথী, আর তার পাশেই ঘন বাঁশঝাড়। আর এই পুরো বাঁশঝাড় অঞ্চলটিই আদপে নবাব সিরাজের হীরাঝিল। চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে তার চিহ্ন। সরু সরু ভাঙা বাংলা ইট আর দেয়াল, চাতাল, মেঝে, পাঁচিল এইসবের ভাঙাচোরা অংশ। প্রায় সমগ্র অঞ্চলটাই ভাগীরথীর ভাঙ্গনে বিধ্বস্ত। তার সঙ্গে সংস্কার না হওয়ার চিহ্ন পরিষ্কার। দেখতে দেখতে মনে পড়ল একটা দিনের কথা। যেদিন প্রহসনের পলাশী থেকে উটের পিঠে চেপে নিজের হীরাঝিলে একরকম পালিয়ে এসেছিলেন নবাব। আর তারপর ক্লাইভ ও দলবল মুর্শিদাবাদ দখল করার আগেই নকরের ছদ্মবেশে নৌকা করে সঙ্গে স্ত্রী লুৎফুন্নিসা ও কন্যা উম্মে জোহরাকে নিয়ে রাজমহলের দিকে যাত্রা শুরু করেছিলেন নবাব। এই তার রাজত্বের অবসান। আর মাত্র কয়েকটা দিনের এক অন্ধকার জীবনের সূচনা। ২৪শে জুন থেকে ৩রা জুলাই, সময়টা খুবই হাতেগোনা। অংকের হিসেবে ফেললে মাত্র ৯ টা দিন। কিন্তু পরাজিত নবাব সিরাজের জন্য এ এক আশ্চর্য জীবনের অধ্যায়। সেই থেকেই হীরাঝিল খালি। প্রাসাদের দখল নেয় নবাব মীরজাফর ও ক্লাইভের দল। কিন্তু কেউ আর ভালোবাসেনি হীরাঝিলকে। আজও তাই ভাঙা হীরাঝিল সিরাজেরই৷ ভালো কি খারাপ সে তর্ক আপাতত তোলা থাক৷ সেসব নিয়ে আলোচনা তো হবেই। কিন্তু আপাতত হীরাঝিলের ভাঙা ইটগুলোর দিকে তাকালে আজও ঝলসে যায় চোখ। একটা মস্ত প্রাসাদ মাটিতে মিশে যেতে সময় নেয়নি খুব বেশিদিন৷
সিরাজ আর নেই৷ নেই তার হীরাঝিলও। কিন্তু আছে নিস্তব্ধতা। আর একরাশ চাপাকান্না।
কিন্তু কান্নাটা কিসের? যেদিন থেকে নাসিরী রাজবংশের প্রতিষ্ঠা মুর্শিদকুলীর হাতে, সেইদিন থেকেই মুর্শিদাবাদের গোড়াপত্তন। আর তার সাথে সাথে এক আশ্চর্য সময়চক্রের সূচনা সেখানে। জাহাঙ্গীর নগর থেকে মুখসুদাবাদ। পথটা সুগম ছিল না কোনদিনই। কিন্তু নাসিরী রাজবংশের স্থায়িত্ব বেশি কাল নয়। মুর্শিদকুলি, সুজাউদ্দিন এবং সরফরাজের পরে এক হিসাবনিকাশের অধ্যায়। মুর্শিদকুলির জামাই সুজাউদ্দিন, আর সুজাউদ্দিন-এর ছেলে সরফরাজ। তিন প্রজন্মের যোগ্য উত্তরসূরী পাওয়ার আগেই গিরিয়ার প্রান্তরে আলীবর্দী খান যে এভাবে স্বয়ং আক্রমণ করবেন তরুণ সরফরাজকে, তা ভেবেই দেখেনি আগে কেউ। সুতরাং মুর্শিদকুলি থেকে সিরাজউদ্দৌলা, এই যাত্রাপথে ভাগীরথীর জল গড়িয়েছে অনেক। উত্থান পতন হয়েছে ঢের। কিন্তু রয়ে গেছে কান্নাটুকু। গিরিয়ার যুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী আলীবর্দী খাঁয়ের একসময়ের মনিব সুজাউদ্দিনের ছেলে সরফরাজকে আকস্মিক আক্রমণ এবং তাকে হত্যা যে কান্নার সৃষ্টি করেছিল, সেই আবর্তেরই যেন সর্বশেষ পরিণতি ঘটে তরুণ নবাব সিরাজউদ্দৌলার নারকীয় হত্যার মধ্য দিয়ে। শুধু পার্থক্য প্রহসনের। তবু কেন বাঙালির মনে সারফরাজ কোনদিনই সিরাজউদ্দৌলা হয়ে উঠতে পারলেন না, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। কিন্তু ভাবতে বসলে দেখা যায়, সরফরাজ থেকে আলীবর্দী, এই যাত্রাপথটি ইতিহাসের বুকে যতটা সুগম হয়ে উঠেছিল, সিরাজ থেকে ক্লাইভ, সেই পালা পরিবর্তনের পথ মোটেই সুস্পষ্ট ছিল না। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ও শাসকের পদে থেকে লড়াইটা কোনদিনই সুখের হয়ও না৷ কিন্তু একদিনের প্রহসন নবাবকে রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছিল মুর্শিদাবাদের বাইরে বেরোবার। কিন্তু সরফরাজের মৃত্যু লাল করেছিল মুর্শিদাবাদকে। তাই তরুণ দুই নবাবের পরিণতি তুলনা করলে সকলের অজান্তেই ভারাক্রান্ত হয় মুর্শিদাবাদ।
যাই হোক হীরাঝিল প্রসঙ্গে বলি, এ এক অন্ধকার নৈ:শব্দ্যের প্রতীক। কিন্তু একটা সময় যখন ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যায় লোকচক্ষুর অন্তরালে, তখন তাকে জাগানো নিয়ে মাথাব্যথা করে না কেউ। বিলাসী নবাব সিরাজের কোনদিনই দাদুর চেহেল সেতুন প্রাসাদ পছন্দ ছিল না। তাই নিজের প্রাসাদের আনাচে-কানাচে যেন নিঃসংকোচে নক্ষত্র ঢেলে দিয়েছিলেন। আলো আর আলো, হাসি আর প্রাণের উৎসব। এই নিয়ে হীরাঝিল। মাত্র ২৭০ বছরের একটি ঝলমলে প্রাসাদ কী করে সম্পূর্ণ ধ্বংস পুরীতে পরিণত হয়, তা যেন অবাক করে সবাইকে। দিল্লি এবং আগ্রাতে আজও বাদশাদের নির্মিত সমস্ত ভবন অক্ষত অবস্থায় বেঁচে রয়েছে। আজও মাথা তুলে রয়েছে হাজার বছর আগের নালন্দা। নিজের অস্তিত্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ২৬০০ বছর আগের মহেঞ্জোদারো। তবে কি করে হারিয়ে যায় হীরাঝিল? তাহলে কি মুছে দেওয়ার চেষ্টা? পলাশীর যুদ্ধের পরে মুর্শিদাবাদ যায় ক্লাইভদের দখলে। ঘটা করে নবাব হন মীরজাফর। নিজে হাত ধরে মীরজাফরকে সিংহাসনে গিয়ে বসিয়ে দেন ক্লাইভ। আর তারপর থেকেই মুর্শিদাবাদে শুরু হয় নতুন প্রহসন। নগর, গ্রাম, পরগণা গেল ইংরেজ সাহেবদের হাতে, আর নামকাওয়াস্তে নবাব রইলেন মীরজাফর। এদিকে প্রায় নিয়ম করে চলতে থাকলো আলীবর্দী মীরজাফরকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা। হীরাঝিলের ক্ষতি করা থেকে শুরু করে সিরাজ ঘনিষ্ঠ প্রায় সমস্ত তরফের মানুষজনকে হত্যা করা, সবকিছুই চলল অবাধে। সৌজন্যে ক্লাইভ সাহেব এবং মীরজাফরের দুর্ধর্ষ বড় ছেলে মীরণ। দেখুন, গল্পে গল্পে উঠে এলো আরো এক চরিত্রের নাম। এই চরিত্রের কথা যতই বলা হয় ততই যেন শেষ হয় না। ইংরেজ সাহেবরা নবাব সিরাজকে ছাড়া যদি আর কাউকে একটু মাত্রও ভয় পেয়ে থাকে তা হলো মীরণ। কিন্তু এইসব মিলিয়ে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে বিভিন্ন প্রশ্ন। আর তা অস্বাভাবিকও নয়। তাই মুর্শিদাবাদের কান্নাগুলো জড়ো হলে, যেন মাথা তুলে জেগে ওঠে অজানা আর এক মুর্শিদাবাদ। ভাগীরথীর দুই পাড়ে জ্বলে ওঠে আলো।