কবিতায় দেবযানী ঘোষাল

চেনা অচেনা
কাল তোকে চিনতে পারিনি।
অনেক বছর পর তো!
তুই চিনেছিলি আমায়।
ঘুরে ফিরে ছুতো নাতায় ফিরে ফিরে দেখছিলি।
কেন রে?
কাল সরস্বতী পূজো।
সেই টিনেজ মনটা আবার টনটন করে উঠলো সেদিনের মত।
সব মনে পরে গেল।
জানতাম তুই আসবি।
কিন্তু বিবর্ন বসন্তে এ দেখা যে সে দেখার মত হবে না জানতাম।
তবে মনে করালো সেই স্কুলের দেওয়াল।
মনে করালো ক্লাশ এইট, নাইন, টেন।
কত অভিমান নিয়ে স্কুল ছেড়েছিলাম তুই বোধ হয় একটু হলেও জানিস।
তবু টেনের পর স্কুল ছেড়েও দেখেছিলাম তোর অতৃপ্ত চাহনি।
ঘৃনাস্পদ চাহনি।
তাই দুরে সরে গেলাম আজীবনের মত।
আছড়ে পড়া শরীরটা যেদিন প্রথম বিছানায় বুঝলো যে
আমি চূড়ান্ত ফেলিওর,
সেদিন কিন্তু ভেবেছিলাম তুই কোনদিনও আর ফিরে ফিরে তাকাবি না।
কিন্তু তাকালি আবার।
না আজ বুঝেছি আমি ফেলিওর না।
ত্রিশ বছর পর অদেখা অচেনা আমার প্রথম প্রিয় মানুষটা আমার মনটা বুঝেছিল।।
কথা কোনদিন নাই বা হোল।
তাতে কি?!!
সেই চোখের দেয়া নেয়া আর আজকের একই।
তবে এখন পাল্টে গেছে মন।
এ বসন্ত সে বসন্ত না।
সেই হৃদস্পন্দন নেই।
দেখেও চিনতে না পারার ভানটা ধরতে পেরেছিস?
অনেকেরই অস্বস্থি আমার জন্য দেখলাম তোকে ঘিরে।
আসলে আসল সত্যটা ধামা চাপা পরেনা।
যতই আমরা চেষ্টা করি।
তোকে উড়ো চিঠি দিলাম।
ভাল থাকিস।