মুক্তগদ্যে অমিত মুখোপাধ্যায়

বাঙালির খ্রিস্ট পুজো নিয়েও চর্চা হোক। কারণ বাংলার একটা সাংস্কৃতিক ধারা আছে যীশুকে নিয়ে। তার অঙ্গ খ্রিস্ট কীর্তন।
সেই কবে থেকে দিন বড় হয়ে আসছে, কিন্তু আমাদের মন বড় হল কই! বাংলায় খ্রিস্ট সাধনার পরম্পরা নিয়ে চর্চা হয় কই। বাংলার কবিয়াল এন্টনি গান বেঁধেছিলেন ‘কৃষ্টে আর খ্রিস্টে কোনও প্রভেদ নাই রে ভাই।’ কিন্তু সে আর মনে রাখলো কই মানুষ। কেক, কমলালেবু, জয়নগরের মোয়া, ক্রিকেটে ইত্যাদির মায়া মাখা বড়দিন পেরিয়ে আজ সান্টাক্লজ, নাইট ক্লাব, ডে আউট, মদ্যপানের ক্রিসমাসে এসে পৌঁছেছে বাঙালি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবই বদলায়। আপত্তি নেই বদলে। কিন্তু বাঙালির খ্রিস্ট পুজো নিয়েও চর্চা হোক। হ্যাঁ, বাংলার একটা সাংস্কৃতিক ধারা আছে যীশুকে নিয়ে। তার অঙ্গ খ্রিস্ট কীর্তন। সেটা কৃষ্ণ কীর্তনের সুরেই। ঠাকুরপুকুর সহ নানা অঞ্চলে দারুণ প্রচলিত। বেশ মন মজানো। সঙ্গে মেলা হয় কলকাতার উপকন্ঠে কবরডাঙা, মেদিনীপুর, পুরুলিয়া সহ বাংলার নানা জায়গায়। গাজনের মেলা, রথের মেলা, ঝুলন মেলা, বৈশাখী মেলার সঙ্গে তার চরিত্রগত কোনও পার্থক্য নেই। তবে বড়দিনের বৈশিষ্ট্য হল, পুজো মণ্ডপ, মসজিদ, মন্দির, গির্জা ছাড়াও উৎসব পালন করা যায়। আদতে যীশুর জন্মদিন প্রকৃত ধর্ম নিরপেক্ষ উৎসবে পরিণত হয়েছে। আসুন, সেই উৎসবে সামিল হয়ে ধর্ম ব্যবসামুক্ত পৃথিবী গড়ার শপথ নিই৷

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।