কবিতায় তপন মন্ডল

পাগলের কথা
আঁকি-বুকি স্বপ্ন মায়া হাজার বচন আপন চৈতন্যে।
কখনোবা গলির মোড়ে, কখনোবা পরিত্যক্ত আবাসে, কখনোবা স্টেশনে বসে হরেক রকম অঙ্গভঙ্গিতে—
কখনোবা বক্ষ চাপড়ে বা শান্তভাবে হরেক বায়না।
নেই দুঃখ, নেই সুখ, নেই স্বাচ্ছন্দ, নেই পোষাকে আসক্তি।
আসমান পানে চেয়ে করে না চিন্তন বারিধারার।
নেই ভাব, নেই অভাব, সমস্ত পৃথিবীই যে আশ্রয়।
নেই দিগ্বিজয়ী হওয়ার স্বপ্ন, চাই শুধু ছেঁড়া কম্বল।
নেই স্বজন হারানোর ভয় মনের অট্টালিকায়।
সহস্র সভ্যতা সংস্কৃতির বিবর্তনে এখনো অচেনা, ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে আপন গোত্র।
সাক্ষী হয়ে রয়ে গেছে প্রাগৈতিহাসিক দৃষ্টান্ত।
অনন্তের শিলাখন্ডে মরেও বেঁচে হাজারও প্রাণ!
বুদ্ধিদীপ্ত সভ্য সমাজ কেবলই শুধু ভাবে অহংসর্বস্বে।
বহু অর্থ ব্যয়ে, করে মন্দির মসজিদ অট্টালিকা।
আর খাদ্যভাবে ক্ষ্যাপা মরে ফুটপাতের আবর্জনার স্তুপে—
সমাজ বৈষম্যে ক্ষমতার মোহে প্রতিহিংসায় ডুবে অতিমানব জাহির করে মনুষ্যত্বহীন কর্ম।
অথচ অতিমানবেরই কন্ঠে সরল আমরা যে মানসিক ভারসাম্যহীন!
দাম্ভিক সমাজে আমরাই যে প্রকৃতই সেরা সুখী।