গল্পেরা জোনাকি রীতা চক্রবর্তী

ফুলসায়রে ফুলটুসি

আজ স্কুলে টিফিন ব্রেকে ‘সায়র’ কি – সেই গল্প হচ্ছিল।
ফুলটুসির মনেপরে গেল চ্যাটার্জি বাড়ির সায়রের কথা। ওটা যেন কোনো শিল্পীর আঁকা
গাছপালাঘেরা পুকুর আর ফুলপাখির ছবি।
চ্যাটার্জিদের সায়রের কথা মনে পড়লে একটা ভালোলাগার আবেশ কাজ করে। সেটার কারণ যে সন্তু তাতো সবাই জানে। তবে এখন শুধু সায়রটাই চোখের সামনে ভাসছে।
পাড় বাঁধানো ঘাট আর আধখানা চাঁদের মতো ঘোরানো সাদা সিঁড়ি দেখলেই মনটা ভালো হয়ে যায়। ঘাটে নামার মুখেই রয়েছে লাল সিমেন্ট দিয়ে বাঁধানো চাতাল। লম্বা বাঁধানো রকের ওপর বিকেলে লোকজন বসে পুকুরের ঠান্ডা বাতাস খায় আর গল্পকরে। খুব সুন্দর দুটো সাদাপরী রয়েছে ঘাটে নামার মুখেই। পরীদের হাতে ঝোলানো রয়েছে বেশ বড় লাইট। রাতে ওই লাইনগুলো যখন জ্বলে ওঠে তখন সারাদিনের জলে ভেজা এই পুকুরপাড় যেন আরব্য রজনীর পৃষ্ঠা থেকে উঠে আসা কোন রূপকথার গল্প মনে হয়। যারাই প্রথমবার এখানে আসে তারাই এই সায়রটার পাড়ে এসে বসে থাকে কিছুক্ষণ। এই সায়রের পাশেই রয়েছে বিশাল আম, জাম, জামরুল, পেয়ারা, কলা, পেঁপে, নারকেল, সুপারির বাগান।
তাছাড়া মরসুমী শাকসব্জিরো চাষ করে ওদের চাষীরা। অনেকরকম পাখি আসে ওই বাগানে।
তবে এখানে দলে দলে কাঠবিড়লির দুষ্টুমি দেখার মতো। ঘাটের পশ্চিমপাড়ে রয়েছে কতরকম নাম না জানা দেশী বিদেশী ফুলের গাছ। সন্ধ্যা হতেই তাদের মিষ্টি গন্ধে ভরে ওঠে বাতাস। ওখানে বাতাবি গাছের মতো একটা গাছ আছে। কিন্তু সেটা লেবু গাছ নয়, ফুলগাছ। এর ফুলগুলো থালার মতো বড়ো হয়। পদ্মফুলের মতো অনেক পাপড়িওয়ালা এই
সাদাফুল দেখে টুসি অবাক হয়ে গিয়েছিল। বাবা বলেছেন ওটা ম্যাগনোলিয়া ফুল। রবিঠাকুর ওই ফুলের নাম রেখেছেন উদয়পদ্ম। অনেকে আবার হিমপদ্মও বলে। এর কুঁড়িগুলো জলপদ্মের থেকেও অনেক অনেক বেশি বড়ো, যেন ছোটখাট কলসী। আর আছে সাদা সুগন্ধী দোলনচাঁপা ফুল যেগুলি দেখতে কলাবতী ফুলের মতো। ধূপকাঠির মতো গন্ধওয়ালা এই ফুল দিনতিনেক সতেজ থাকে আর যদি জলে রাখা হয় তবে জলে ওই ফুলের গন্ধ ভরে যায়। ফুলটুসি ভাবে যাদের সায়র থাকে তারা বুঝি এইরকম সৌন্দর্যপ্রিয় মানুষ হয়। তাদের বাড়িতেই বুঝি সন্তুর মতো ভীষণ ভালোলাগার মানুষ থাকে! তাই আজ সায়রের গল্পে ফুলটুসির মনটাও ফুলের মতো সুরভিত হয়ে ওঠে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।