কবিতায় দেবযানী ঘোষাল

ঘোর অমাবস্যা
সারাদিন ছিল মেঘলা আকাশ।
কখনো অঝোর ধারা।
কখনো ঝিরঝিরে বৃষ্টিফোটা।
সন্ধ্যা নামলে সুজুকিটা সাইসাই করে শহুরে রাস্তা পেরিয়ে গ্রামের পাকা রাস্তায় গোবড়ডাঙার পথে।
মাঝরাস্তায় টায়ার ফুটো হওয়ায় বিরতি অনেক্ষণ।
কার্তিকের অমন ঝিরঝিরে বৃষ্টির সাথে ছিল উত্তরের ঝোড়ো হাওয়া।
অনুভবে ছিল অনন্য শ্যামাপূজোর সে দিন।
গাড়ি আবার স্টার্ট নিল।
পৌঁছালো গন্তব্যে।
আধ ভিজে অবস্থায় বনেদি বাড়ির সেই সাত পুরুষের শ্যামা পূজো ছিল এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।
আত্মীয়দের গল্প-গুজব
ফল কাটা, ধামা ভরা নাড়ু মুড়কি, ভোগ রান্না সবে মিলে নিজের বাড়ির পূজোর আনন্দই যেন আলাদা।
পূজো আরম্ভ হতে তখন অনেক সময় বাকি।
সেলফোনে তোমার হঠাৎ রিংটোন।
ব্যস্ততার রোজনামচায় সম্পর্কটা ফিকে না হয়েও ফিকে!
তবু এমন একটা দিনে তোমার আমাকে মনে পড়া, সে যেন এক ভীষণ ভালোলাগা।
সলজ্জ কন্ঠে সব পেয়েছির আমি কত না কথা হল।
জানতাম নাতো প্রেমিক প্রেমিকেরা কি এত কথা বলে! তুমি বুঝিয়েছো তা।
কি করে যে ঘন্টা পার হয় হুশ থাকে না।
সে যেন আলাদা করে তোমায় পাওয়া শ্যামা মায়েরই ইচ্ছাতেই।
প্রসাদ পাবার পর ফিরে এলাম সেই ভালোলাগার অশেষ রেশ নিয়ে। বছরটা কেটে গেছে।
তোমার ব্যাস্ততা বেড়েছে। পিতৃ বিয়োগ, শ্বশুর শাশুড়ি বিয়োগ তোমাকে পাল্টে দিয়েছে দুর থেকে দেখি।
অনেক দায়িত্ব এড়িয়ে আমাকে ভাবা বিলাসিতা।
কিন্তু অবুঝ মন মানতে নারাজ।
জন্মদিনটা প্রতিবারই ভুলে যাও। এবারও গেছো।
অথবা ভান করেছো।
অনেক উপেক্ষায় ক্ষত বিক্ষত মনটা অনেকবার চেয়েছিল দুরে সরে যেতে।
কিন্তু লোভী মনটা পারেনি।
আজও পারেনি।
পুরোনো হলে কদর কমে।
নতুনরা বেশী প্রাধান্য পায়।
হিংসা অবহেলা তাই মুছে দিল ফেসবুক থেকে।
সান্ত্বনা তুমি হোয়াটসঅ্যাপে আছো।
তবু তো নির্বিকার!
শেষ আঘাতটা আমিই হানলাম।
জন্মদিনের দিন।
বলেছিলাম “নিজেকে সোনাগাছির মেয়ে মনে হয় আজকাল”!
কথাটা বলা কতটা কঠিন ছিল,
কতটা ক্ষতের শিকার তা তুমি বুঝবে না।
সেই বৃষ্টি ভেজা রাত ভুলিনি আজও,
ডুকরে ওঠে আমার লোভী মন।
তোমার শেষ কবিতায় তোমার ভাল থাকার খবর আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
লকড প্রোফাইল করে বেশ করেছো।
আর এনকয়্যারি করতে হবে না।
তোমার ভাল থাকার জন্যই আমার এত কর্মকান্ড।
তোমার ভাল থাকাই আমার ভাল থাকা।
মনে পড়বে এবারের শ্যামা পূজোর সন্ধ্যেটা আগের বারের মত?