সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে নীলম সামন্ত (পর্ব – ২২)

ব্রহ্মমুখী সূর্য ও রেবতী রেবতী ঠোঁট

মাঝেমধ্যেই নিঃশর্ত স্টেশনের দিকে ছুটে যাওয়া, মাঝেমধ্যেই বাড়ি ফেরার বিকেল, অগুনতি মানুষ- হাতে ব্যাগ, সমস্ত কিছুর যোগফলকে উৎসব বলতে পারি৷ বলতে পারি হিমবাহের পেট থেকে দলাপাকা বরফের চাঁই নিজের রঙ ছড়িয়ে গলে পড়ছে৷ অবসরের ছায়ায় এখন ছাতিম বাড়ার সময়। মহাকাশে বশিষ্ঠমুনির বিশেষ খেলা।

এই সমস্ত বংশগত রোগ
অনুগত আত্মা
অমরত্বের পিঠে বোঝাই করে কে যেন চলে যায়…

তারপর থেকে সমর্থকেরা বাসযাত্রী। বাসের সিটে নিজের নাম লিখে চাদর মুড়ি দিয়ে রাসায়নিক পেখম তোলে৷ আমি উৎসবের নাম করে হাতের তালু খুলি। তালুতে ভাগ্যরেখা নেই৷ আয়ুরেখার ওপর বরফগলা নদী, বৃহস্পতির স্থানে আরব সাগর৷ এদিকে গভীরতা মাপার নেশায় যত ঝরনা প্রাণপণে দৌড়াচ্ছে তাদের পায়ে অসংখ্য চুমুর দাগ। ঝুমঝুম শব্দে কেঁপে যাচ্ছে পুরুষের প্রতীক্ষা৷

পিঠের ওপর পিঠে চেপে আছে
ঘুম ভাঙলে জানি এ আমার নবজন্ম
উৎসবের অঙ্গরাগ…

মুখগুলো যেমনই হোক ভাগবত ছেড়ে ভোগবতী হবার নেশায় টলছে। চোখগুলো লাল, ছাতিম পিছু নিয়ে পৌঁছে যায় আত্মার মিলন গহ্বরে৷ সেখানে কোমর দোলানো গৃহিণী তার ব্যক্তিগত তরলে আগুন জ্বালিয়ে রেখেছে। মৌমাছি মরে যায় । তারপর প্রবন্ধ লেখা হয়। লেখা হয় মৌমাছির আয়ুকাল সংক্রান্ত বিভ্রান্তি৷ ডানদিন ঘেঁষে আবারও জন্মসুখ খোঁজে পাখিহীন ছাতিম।

এই অনিবার্য দিনে
রাস্তায় নেমেছে প্রগতিশীল মিছিল
উদার হাতে উদাস বাসস্টপ,

এবার যাওয়া যাক। No destination, No extra polish. গতিময়তার তলায় পিষে যায় সূর্যমুখীর জীর্ণ পাটাতন। আমি আজও বাড়ি ফেরার পথে হাঁ করে দেখি হৃৎপিণ্ডের দমকে আস্ত জাহাজ দোলে, আত্মা থেকে পাখি বেরিয়ে যায়। এই ঘর আসলে কারও না৷ পায়ের ওপর পা থাকে। ক্ষণিকের রাজত্বে জমা হয় বিষধর সাপের খোলস৷

তুমি জানো
আজও একই ভাবে ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে থাকে আদ্রতা। ঘুর্ণিঝড় কেন্দ্রিক হননক্রিয়া বলে আখ্যা দেওয়ার সময় পৃষ্ঠা ওলটায় ব্রহ্মের মুদ্রাদোষ৷ সাধারণ উল্কাপাত যাকে পরশ্রীকাতরতা বলে তাও জীবনের অপরিহার্য আলপিন।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।