কবিতায় বলরুমে রীতা চক্রবর্তী

সাগরকে নতুন করে দেখেছি যেদিন

আমরাও ছিলাম সেদিন তোমার বাহুডোরে ।
উত্তাল ঢেউয়ের সাথে দলবেঁধে মানব প্রাচীর তৈরি করে। বালুকাবেলায় তোমার সশব্দে
আছড়ে পরা আর সরসর করে রাশিরাশি বালুকনা বয়ে নিয়ে ফিরে যাবার মুহূর্তের উন্মত্ত গর্জন ‘কানের ভিতর দিয়া মরমে’ পৌঁছেছিল আমাদেরো। সত্যি বলছি তখন একটুও ভয় পাইনি তোমাকে দেখে। তোমার ওই সুউচ্চ লহরমালায় হাজার ফনাতোলা নাগিনীর মতো
সর্পিল ভঙিতে ছুটে আসাকে দেখে দামাল ছেলের দৌরাত্ম্য বলে মনে হয়েছিল। তাইতো বিস্তীর্ণ মোহনার বুকে সেদিন আমরা সবাই মিলে প্রাণখুলে জলখেলায় মেতে উঠেছিলাম ।
তোমার উচ্ছ্বলতা চঞ্চল করেছিল আমাদেরো।
দেহবল্লরী জুড়ে জেগেছিল বিভঙ্গ মুদ্রা। বিবশ শরীর জুড়ে জেগেছিল মৃদু মাদকতা। নাচেগানে ভরিয়ে দিয়েছিলাম তোমাকে। তোমার ঢেউয়ের সাথে আছড়ে পরা ভেজাবালুকনা যখন পায়ের তলা দিয়ে নেমে যাচ্ছিল তখন তোমাকে মনে হচ্ছিল যেন অভিমানী প্রিয়তমা। যেন মানিনী শ্রীমতী তুমি। কালো সাগরের জল যেন সাক্ষাৎ
কৃষ্ণকালার। তুমি তার ওপর মান করে হাত ছাড়িয়ে সামনে এগিয়ে চলেছো একবারো পিছু না ফিরে। কিন্তু পারলেনা যেতে। তখনই অভিমান ভুলে ফিরে এসে আবার আছড়ে পরেছ প্রিয়তমের গভীর কালো বুকে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।