মুক্তগদ্যে অমিত মুখোপাধ্যায়

হেমন্ত

হেমন্ত কারও কারও কাছে বিষণ্ণতার ঋতু। ধূসর কুয়াশার ঋতু। হয়তো বিকেল বা সন্ধ্যাগুলো তাই। কিন্তু আমি কার্তিক-অগ্রহায়ণের সকাল দেখতে ভালোবাসি। আমি তাকে দেখি অন্য চোখে। এই হেমন্তে ধানের শীষে রং ধরেছে। পেকে উঠছে ধান। আর কিছু দিন পরে সর্ষে খেতে সবুজ মখমলের মতো পাতা গজাবে। ফুলকপির উপর শিশির জমবে। হেমন্তের সকালে মেছো বক এক পা এক পা করে পার হয়ে যায় শীর্ণ নদী, কাঁদর। দিঘির জলে পদ্ম ফুটে আছে। স্নান সেরে গাছের নীচে ধর্ম ঠাকুরের থানে ফুল-জল দিচ্ছে গাঁয়ের বউটি। এমন হেমন্তের দিনে এসেছি দামোদর-বরাকর-অজয় অববাহিকায়। ঘুরে বেড়াব তার গ্রাম গ্রামান্তরে। মাইথন থেকে যাত্রা শুরু করে ঢুকে পড়ব বারাবনি, জামগ্রাম, কাপিষ্টা, খয়েরবনির পথে। দেখব মানুষের কয়লা আহরণের খিদে কী ভাবে গিলে খাচ্ছে কৃষিজমি। দেখব কয়লাখনি ও সবুজ খেতের সহাবস্থানও। পাকা ধরা ধানের ঘ্রাণে পূর্ণ হবে হৃদয়। চাইব সবার জাীবনের মাঠে পেকে উঠুক ধান। বাজুক নবান্নের আগমনী।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।