T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় সুমিত মোদক

সন্ধিক্ষণে

কাদাবন ডিঙিয়ে , বাদাবন মাড়িয়ে
মেয়েটাকে যেতে হয়ে ছিল
অচেনা এক শহরে ,
দু বেলা দু মুঠো পেট ভরে খেয়ে পরে বেঁচে থাকার জন্য ,
পুরো পরিবারটিকে বাঁচাবার জন্য ;
বেঁচে যায় বাড়ির ছিটেবেড়া , খড়ের চাল ;
আর মেয়েটা এক শহর থেকে আরেক শহরে ,
এক নিষিদ্ধ পড়া থেকে আরেক নিষিদ্ধ পাড়ায় ;

পাড়া গাঁর সহজ সরল কিশোরী মেয়েটা
রাতের পর রাত জাগতে জাগতে
কখন যে সে যুবতী হয়ে উঠে ছিল বুঝতে পারেনি ;
বুঝতে পারেনি কখন শরীরে ভিতর
বাসা বেঁধে ছিল মরণ ব্যাধি ;
আর যখনই বুঝতে পারলো , ঠিক তখনই
সকলে মিলে বার করে দিলো গলি থেকে ,
শহর থেকে , আরেক অন্ধকারে …

এ গল্পটা আমার বাদাবনের কাদাজলের
প্রায় দিনের সঙ্গে জড়িয়ে ;
এ গল্পটা আমার ঘরের মেয়ে উমার গল্প ;
দু বেলা দু মুঠো খেয়ে পরে টিকে থাকার জন্য
হারিয়ে যাওয়ার গল্প ;
আবার কখনও মরণ ব্যাধি নিয়ে ,
কখনও পেটের বাচ্ছা নিয়ে ফিয়ে আসে ,
ফিরে আসতে হয় মায়ের কাছে ,
এই জল জঙ্গলের দেশে ;
এসেও মুক্তি নেই ,
মুক্তি দেয় না এ সমাজও …

যে সমাজ দু বেলা দু মুঠো ভাত দিতে পারে না ,
আগলে রাখতে পারে না ঘরের মেয়েকে ,
আমার উমাকে , আমাদের উমাদের …
তারাই আবার দুর্গা অষ্টমীর অঞ্জলী দেয় ,
ঘটা করে ভোগ বিতরণ করে ;

আর আমার উমা , আমার ঘরের মেয়ে উমা
এখনও দুর্গা হয়ে উঠতে পারলো না ;

আমি এই সন্ধি পূজার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে
আমার উমার হাতে তুলে দিচ্ছি
একের ওর এক অস্ত্র , নারী শক্তি , মাতৃ শক্তি ,
চন্ডী মন্ত্র …
জাগো মা জাগো … শক্তি রূপেন সংস্থিতা …

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।