অনুগল্পে নীল নক্ষত্র

পুজো পরিক্রমা
মহাষ্টমীর সকালে পুজো পরিক্রমায় বেরিয়ে আমার শতবর্ষ প্রাচীন বিদ্যালয়ের সামনে উপস্থিত আমার তিন প্রজন্ম।
সুদেষ্ণা ,শোনো তাহলে পুজোর আগে আগে তোমার কবির সেই ছোটবেলার
কথা।
এখান থেকে ডানদিকে দুটো বাড়ির পরেই তাপসদের বাড়ি। স্কুল ছুটির পরে
বাড়ি ফেরার কথা বেমালুম ভুলে বইয়ের ব্যাগ কোলে নিয়ে গ্যাট হয়ে বসে পড়েছিলাম ঠাকুরের চোখ আঁকা দেখতে।
বাড়ি ফিরতেই আমাকে বুকে জড়িয়ে মায়ের সে কি কান্না। মুখে একটাই কথা “এতক্ষণ কোথায় ছিলি তুই ?”
জানো মা, তাপসদের বাড়ির ঠাকুরের আজ চোখ আঁকা হলো।আমি দেখে দেখে শিখে নিয়েছি,আমিও এখন ঠিক পারবো ঠাকুরের চোখ আঁকতে।
এর পরে কত বছর কেটে গেছে। আমি তখন কলেজে পড়ি। ফার্ষ্ট ইয়ার। হঠাৎ কি খেয়াল হলো খেলার ছলে কালীপুজোর আগে আমি একটা কালী ঠাকুর তৈরি করে ফেললাম। সবাই খুব খুশী ।
সেদিন আমি খুব ভোরে উঠে রঙ ,তুলি নিয়ে ঠাকুরের চোখ আঁকতে বসেছিলাম। মা যে কখন চুপটি করে এসে আমার পিছনে এসে বসেছিল আমি টের পাইনি।
ঠাকুরের চোখ আঁকা হয়ে গেলে মা আমাকে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো “খুব, খুব সুন্দর হয়েছে।”
“দ্যাখ না, আমিও কেমন আজ উনুন ধরানোর কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে তোর ঠাকুরের চোখ আঁকা দেখতে বসে গিয়েছিলাম।”
“তোর বাবা তো একটু পড়েই নাইট ডিউটি সেরে বাড়ি ফিরে আসবে, আমাকে তো চা করে দিতে হবে না কি!”
“আমি চলি বাবা”……..