T3 || ঘুড়ি || সংখ্যায় আলতাফ হোসেন উজ্জ্বল

সোফি আমার ঘুড়ি 

সেপ্টেম্বর ১৪,২০২৩।
২০০৫ সালের আগস্ট মাস অদ্ভুত দর্শন বহনে এক কন্যাকুমারীরূপে একটা স্বপ্ন ছায়া আছে আমার হৃদয়ের পটভূমিতে, বহুদিন বহুরুপে- হৃদয় কথোপকথন বইছে। সুইজারল্যান্ডের রাইন Rhein নদীর পাড়ে : যেখানে মিশে আছে তিনটি দেশের ভালোবাসার সমাহার জার্মান, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ড (Deutsch, France and Swiss. তিনটি দেশের ভালোবাসা ( Liebe zu drei Ländern) . ভালোবাসা একটা নেশা ঠিক ঘুড্ডি ওড়ানো মতো। সুইজারল্যান্ডের রাজকীয় সুইস আল্পসে অবস্থিত জন্ম সোফি নামে এক যুবতী । কাজের জন্য তিনি বাসেল সিটি ( Basel-Stadt) বসবাস করেন, বয়স আনুমানিক বিশ একুশ হবে, গঠনে তরতাজা প্রাণ, বাতাবীলেবু মতো, নাকের সুচারু কারুকার্য শোভিত মনোমুগ্ধকর ঠোঁট বিশ্লেষণ করা অসম্ভব যেমন হিমালয়ের তীক্ষ্ণতা, উষ্ণতা, মাধুকরী প্রবৃত্তিকে কখনই ভোলেনি কেউ, তেমনই আমার বিস্ময়কর সুইজারল্যান্ডের কন্যাকুমারী সোফি। ছোট ক্যাফেতে কাজ করতেন। সোফি প্রকৃতির প্রেমিক ছিলেন এবং সুইস গ্রামাঞ্চলের আদিম সৌন্দর্য তার হৃদয়কে মোহিত করতো। একদিন, যখন সে একটি সুন্দর পথ ধরে হাইক করছিল, তখন আমার সাথে ( উজ্জ্বল) দেখা হয়। তিনি একজন মানবমুখিতা ছিলেন, আমি তাকে দেখে অবাক দৃষ্টিতে তাকাই! অবাক করে সে বলে ওহে তুমি কি দেখছো? এই পৃথিবীর শুভ্র শ্বেতকায় নারীর প্রতি! আমি থমকে গেলাম অদৃশ্য এক অজানা অচেনা মানুষের মধ্যে, ভালোলাগা টুকু হারিয়ে গেলেও নতুন আবিষ্কার তোমাকে চাই সুপ্তিকালীন হৃদয় কথোপকথনে। এমতাবস্থায় চিরসবুজ, অমৃতবাণী নিয়ে বলে উঠলো, ওহে (Woher kommst du?) তুমি কোথা থেকে এসেছো? আমি তার উত্তর সরাসরি দিয়েছিলাম ভিন্নতা মিললো আমার হৃদয় কথোপকথন থেকে – আমি বললাম, তুমি সুন্দর, তুমি আমার ভালোলাগা ও ভালোবাসার মতো সেই উপাদান যা শুধু ঘুড্ডি ওড়ানো মতো নেশা, যার চোখ কপালে মনে ছায়া পরে দুরূহতম বিস্তৃত অজানা মাকড়সা জালে, হাতের লাটাই ও ঘুড্ডি কেহ কারো সহজে না ছাড়ে। ( Ich sagte, du bist schön, du bist der Stoff der Zuneigung und Liebe, der genau wie ein fliegender Drachen ist, dessen Augen auf der Stirn verschattet sind, in den seltsamsten, weiten, unbekannten Spinnweben, den Händen und den Drachen, die niemanden so leicht verlassen.) মেয়েটি ( সোফি) অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ কিছুটা বিচলিত হলেও স্বাভাবিক ভাবে উত্তর দিলো তুমিও সুন্দর ( Du bist auch schön) যদিও ওর কাছে কাছে ধুসর গোধূলীর আপলোড মানুষ। তোমার নাম কি? আমি সোফি। ( wie heißt du Ich bin Sophie.) উত্তরে আমি বললাম আমি উজ্জ্বল। এরপর সোফি বললো আমি একটা বারে কাজ করি। ( Ich arbeite in einem Café und einer Bar) ব্রাউন মুটস বাসেল সিটি ( Brown Mutts Basel-Stadt).
“না হয়,না হউক প্রেম-তাতে কি আসে যায়!
“উড়নচণ্ডী দশার পরিচয়,
বিদ্যাবুদ্ধি হয় হউক বা না হউক.
জীবজগত সম্পর্কিত ভালোবাসার তথ্য নিরাময়
কোথায় কি কারনে উদয়ন অথবা অস্তাচল ”

. বাসায় ফিরে এক সিনিয়র ভাইকে জিজ্ঞাসা করলাম আমার সাথে সুন্দরী মেয়ের পরিচয় হয়েছে, আমি তার সাথে প্রেম করতে চাই এখন কি করবো তিনি সাদামাটা উত্তর দিলেন লেগে থাক হতে পারে তোমার সাথে প্রেমপ্রীতি,এখানে সাদাকালো ধনী-গরিব কোনো ভেদাভেদ নেই। চেষ্টা করো শুভেচ্ছা রইলো। সারারাত ঘুম হলো না, পরদিনই সকালে বার( BAR) গিয়ে হাজির, কি করবো কি বলবো জীবনে চা ঠিকমত পান করি নাই তারমধ্যে কফি বা এলকোহল; যা-ই হোক একটা কিছু পান করতে হবে, তাই সাহস করে বলেই ফেললাম শুভ সকাল, দয়া করে এককাপ কাফে এসপ্রেসো দেন। ( Guten Morgen, bitte eine Tasse Kaffee-Espresso. ) সেই থেকে শুরু হলো Cafe espresso পান, কার সাথে আঁতাত করতে গিয়ে তিতাকেও ভালোবাসলাম আজো ছাড়েনি, যেন সে-ই ছোট্ট বেলার ঘুড্ডি ওড়ানো মতো,হাতে লাটাই আকাশে চাঁদ ছোঁয়া ঘুড্ডি,মাঝে সুতোর বাঁধন। সোফি মিশ্রহাসির গোলাপী ঠোঁটে বললো ( Gutten Morgen,) শুভ সকাল, কাফে এসপ্রেসো পূর্বে কখনো পান করেছেন ? আমি বললাম – না, তবে পারবো! শুধু আপনার জন্য :: সোফি বললো আমার জন্য কেন ! (আমি জানি সুইজারল্যান্ডের সংস্কৃতি), কোন মেয়েকে ভালো লাগলে একবার বলা যায় -তোমাকে পছন্দ করি অথবা ভালোবাসি : তাই আমিও উৎসাহ সহকারে বলে ফেললাম ” আমি তোমাকে অনেক পছন্দ করি ” ( Ich mag dich sehr”) ধন্যবাদ, তুমিও সুন্দর। ( Danke, du bist auch wunderschön.) জানি – শুন্যে ভেসে যাবে আমার হৃদয় কণ্ঠ, স্বপ্ন সুখগুলো মিষ্টি আলোর সঙ্গে যুক্ত হবে না, কাঁপা কাঁপা হাতে কফির কাপ নিয়ে চুমুক দিতেই তিতা হয়ে গেল আমার মুখের গহব্বর, কল্পসাহিত্য শুরু হলো আমার নবরূপে সাজিয়ে রাখা কত ভাবনাচিন্তা। গোলাপী বর্নের চামড়ার কালো কেশী চুল সুঠামদেহের অধিকারী সেই সাথে ঠোঁটের মসৃণ নবায়ন, চোখগুলো হরিণী মায়াবী জালে আবৃত, ছুঁতে ইচ্ছে করছিলো কিন্তু উপায় নেই এখানে মেয়ের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ আদালত। সোফি বললো আমার একটা বয়ফ্রেন্ড আছে তা-না হলে তোমার সাথে প্রেম করতাম। তুমি কালকে বিকাল ছয়টা কফি সপে এসো, কফি পান করার দাওয়াত রইলো এবং সাথে আমার বয়ফ্রেন্ডকে দেখাবো। পরদিন সকাল, দুপুর বিকাল কঠিন মনে হচ্ছিল কি রকম দেখতে সোফি’র বয়ফ্রেন্ড বুকেতে আচমকা শক্ত অবস্থান, সোফি যেহেতু সুন্দরের রানী ওর বয়ফ্রেন্ড সুশ্রী সুদর্শনাদের একজন, ভাবতেই অসহায় হরিণের বাঘের থাপা থেকে বাঁচার চেষ্টা যাইহোক শুভ সন্ধার পরে প্রেয়সী পটুত্ব সাজিয়ে চললাম বার ও কফি সপে। আমি কফি সপে ঢুকতেই চোখে মুখে নতুনত্ব রুপ ;সৌন্দর্যের বটবৃক্ষ, মায়াময় আঙুলের গড়ন, কফি কাপে প্রানবন্ত চমৎকার মধুমাখা হাসি মুখে বসে আছে সোফি। সে বললো – শুভ বিকাল ( Guten Abend) আমিও বললাম শুভ বিকাল। কফি সপে দেখি ব্যতিক্রম এক কালোকিষ্ট বিস্ময়-বিহ্বল বালক :যার ঠোঁটের জায়গায় ঠোঁট নেই, চোখের জায়গায় চোখ নেই, শরীরটা যেন দৈত্যের মতন। মহুর্তে মধ্যে সোফি বললো -এই যে আমার রাজপুত্র, স্বপ্নময় জগৎ – মি. জন হপকিন্স ( Mr. Hopkins)। আফ্রিকার নাইজেরিয়া দেশ থেকে এসেছ। মাথাটা ঘুরছিলো, তড়িৎ সমাধান দিলাম তোমার বয়ফ্রেন্ড তো অনেক সুন্দর,সোফি উত্তর দিলো- ধন্যবাদ (Danke). অথচ সুইজারল্যান্ডের কত সুন্দর ছেলে আছে বা আমিও এই ছেলের চেয়ে বেশী সুন্দর। ভাবনার প্রতিফলন ঘটেছে মস্তিকে আমার, শারীরিক চাহিদা, শারীরিক শক্তি এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশীয় লোকজনের চেয়ে নাইজেরিয়া পুরুষ বেশী শক্তিশালী। আমার হাতের লাটাই হাতে রইলো ঘুড্ডি গেলো অজানা এক মাকড়সা জালে, সুতা গুলো অপশনাল, আমার সহৃদয়া ভূবলয়।।।।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।