সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ৩০)

পঞ্চমধ্যায়
প্রথম পর্বের শেষাংশ
মা’র পছন্দ মত মেয়ের সঙ্গে বদ্যিনাথের বিয়ে সু- সম্পন্ন হল। সব আত্মীয়- স্বজন আনন্দে মাতলো;
লক্ষ্মী- মেয়ের ঘরটা এখন শূন্য। ঘরের লক্ষ্মী অস্ত গেছে। আবার সেই পুরোনো দুঃখের দিনগুলো যে আস্তে চলেছে, সেটা তিনি যেন চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছেন; একেই বোধ হয় বলে কালচক্র, আবর্তিত হতেই থাকে; কোথাও ধীরে, আবার কোথাও দ্রুত গতিতে, পরিবর্তণ ঘটবেই। আনন্দোৎসবের মূর্ছনা অস্তমিত;মা’র অনুমতি নিয়ে ভাইয়েরা নিজেদের সংসার নিয়ে নিজেদের আলাদা আলাদা বাড়িতে চলে গেছে। মা, এখনও জীবিত আছেন বলেই হয়তো তারা এখনও বাড়িতে আসছে; মা’র অবর্তমানে——।
পেট্রোল- পাম্পের আয় প্রথম দিকে খুবই ভালো ছিল; ওটা ধুরন্ধরের নামেই আছে। সে, ব্যবসা ভালো বুঝলেও, বিক্রির
পরিমাণ কমে আসছে; রাস্তায়, গাড়ির আসা- যাওয়া কমেছে। জি টি রোডের পরিবর্তে আজকাল ভিন- দেশীয় বড়,বড় ট্রাক, নতুন তৈরি হওয়া, দুর্গাপুর রোড ধরে বর্দ্ধমান থেকে কোলকাতামুখী বা বোম্বাইমুখী হয়। লোকাল গাড়িতে আর কত তেল বিক্রি হবে! ফলে, বিনিয়োগ- পরিপ্রেক্ষিতে আয় কমতে শুরু করায়, এখন পাম্প চালানো দায় হয়ে উঠেছে। আবার নতুন করে এখানে অন্য কোন ব্যবসা করার মত সুবিধাও নেই।
যতদিন চুঙ্গির অফিস ছিল, ঘণ্টার পর ঘণ্টা, গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতো, অনেকেই পাম্পে গাড়ি রেখে নিশ্চিন্ত থাকতো;ভিন-দেশী
ট্রাকের মালিকেরা মাঝে মাঝে এসে, তাঁর মোটেলে রাত্রি বাস করেছে, ব্যবসা ভালোই চলছিল। সরকার, এ অঞ্চল থেকে চুঙ্গির অফিসই তুলে দিল; এত চুরি, এত অসৎ হলে, তার বিপরীত প্রতি- ক্রিয়া তো ঘটবেই– শেষ পর্যন্ত চুঙ্গির অফিস,এখান থেকে উঠে গেল; যারা, চুঙ্গির কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তারাও সব রাতারাতি বড়লোক,বিত্তশালী হওয়ার মত,
গরীব, বিত্তশূন্য হয়ে গেল—লক্ষগেল—লক্ষী
বড়ই চঞ্চলা, তাই না! ব্যবসার পড়তির কথা চিন্তা করতে করতে
ধুরন্ধরের মাথার গণ্ডগোল দেখা দিয়েছে; এ অবস্থায় পাম্প, লিজ দিয়ে একটা নিশ্চিত আয়ের ব্যবস্থা করা ছাড়া আর কোন উপায় না থাকায়, কাছেই এক ধাবার মালিক, পাঞ্জাবীকে মাসে পনেরো হাজার টাকায় পেট্রোল- পাম্প লিজ দেওয়া হয়েছে। একটা নির্দিষ্ট মাসিক আয়ের উৎস পেয়ে ধুরন্ধরের পরিবারটও আস্বস্ত হল।
চলবে