অণুগল্পে আর্য বন্দ্যোপাধ্যায়

ও আমার খোকা
কতো সাধ্য সাধ্যসাধনা করে মিতার এতো বছর পরে একটা ছেলে হয়েছে। বাড়িশুদ্ধ সবাই খুবই খুশী। খোকা হয়েছে বলে বাড়িতে রীতিমত একটা হৈ চৈ শুরু হয়ে গেছে। শাঁখের আওয়াজ আশপাশের প্রতিবেশীরা বুঝতেই পেরেছে মিত্র বাড়িতে হয়তো শুভ কোনোকিছু ঘটেছে।
সেই যাই হোক আধুনিক যুগে খোকা হলো না খুকি হলো এ নিয়ে কেউই বড় একটা মাথা ঘামায় না।দেখা গেছে আজকাল খোকাদের তুলনায় খুকুরাই সব দিক থেকে অনেক বেশী এগিয়েই আছে।
এই যে খোকার কথা বলছি— এর এই খোকা নামটা পরবর্তী জীবনে একে পুরোপুরিই খোকা করে রেখে দেয়। কোনোসময়ে এ যেন আর বড়ই হয়না।
একটু একটু করে সকলের ভালবাসায় ও মা বাবার আদর যত্নে খোকা বড় হলো। লেখাপড়া চাকরি বিয়ে সব কিছুই ঠিকভাবে হলো। খোকা বড়ো হতেই আর কিন্তু সেই খোকাটি থাকলো না।হয়ে উঠলো খুবই বুদ্ধিমান ছেলে।
ও একদিন ওর বাবা মার কাছে গিয়ে বললো তোমরা কোনোদিন কোনোভাবেই আমাদের ছেড়ে চলে যেও না। আমাদের ভুল হলে শুধরে দেবে। মনে কষ্ট পেলে আমাদের বলবে। তোমাদের টাকা পয়সা সম্পত্তি সবই তোমাদের। আমাকে কিছুই দিতে হবে না। তোমাদের কাছে একটাই অনুরোধ আমাদের কাছে থাকো।
গল্পটি প্রথাগত ভাবে না গিয়ে একটু অন্যদিকে ঘুরে গেলো। খোকা কিন্তু সত্যিই প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠলো।