সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে নীলম সামন্ত (পর্ব – ১৫)

ব্রহ্মমুখী সূর্য ও রেবতী রেবতী ঠোঁট
বড় ইচ্ছে পৃথিবীকে বাইরে থেকে দেখি, ঠিক যেমন মেঘের ওপর থেকে দেখেছি নিচে বৃষ্টি হতে। যেন ঘর ভর্তি সুখ আর উঠোনে আমি একা ব্রহ্মচারী৷ বিদ্যার্জনের সকালগুলোতে জলের ঝাপটা সংক্রান্ত বিজ্ঞান। আলোচনায় উঠে আসছে বুনো ময়ুরের কর্কশ স্তব৷ আমার সমস্ত উদারতা ভিজে যাচ্ছে অঝোর ধারায়।
কে ভেজায়? বৃষ্টি নাকি জল? আত্মা কোনদিন মিথ্যে বা দিবাস্বপ্নেরর দেশে নিয়ে আছড়ে ফেলেনি। রাত কিংবা দিন যতবার কেউ কাউকে পাশ কাটিয়ে চলে যাবার চেষ্টা না করে পিঠ থেকে বোঝা নেমে যায়৷ অথচ কেউ কেউ ভিজতে না পারায় মহাজলকে টেনে আনে কাঠগোড়ায়৷ তাদের দিকে ফুল এগিয়ে দিই৷ তাদের মুখ থেকে খসে পড়া অভিশাপ সুগন্ধী মেখে ঈশ্বরমুখী হয়৷
এরপর ধীরে ধীরে মোমবাতির গা ঘেঁষে বসছি৷ এখানে আয়ু বিষয়ক কর্মশালা। ডান হাত বাম হাত মেলে দেখছি আয়ু রেখায় ভাঁজ নেই। অর্ধচন্দ্রাকার পথ ধরে ফেরিওয়ালা চলে যাচ্ছে দুই দিকে কচুপাতার জঙ্গল। হঠাৎ বৃষ্টি হলে জল ধরে রাখার ক্ষমতা নির্ণয়ের জন্য দাঁড়িয়ে আছে একটি মেয়ে। মেয়েটি সাপ নাকি জোঁক সে নিয়ে কোন বক্তব্য নেই৷ তবে ফেরিওয়ালা রক্তশূন্য হলে প্রতিটা আঙুল তার দিকে এগিয়ে যায়৷ আমরা হাতের বাইরে৷ প্রত্যেকেই দেখছি মেয়েটির গায়ে অগুনতি রঙিন কাগজ। উলঙ্গ শরীরে নুনের ঢিপি, কাকে সে বাঁচিয়েছে কাকেই বা ডুবিয়েছে? হাতও জানে কচুপাতা ভিজতে জানে না৷
এই নিয়ে আপাতত কথা বাড়াব না৷ থান ইটের মাপ অনুযায়ী উল্কাপাত ঘটাতে উদ্ধৃত সোনামুখ প্রয়োজনে সেমিজ খুলে দাঁড়িয়ে পড়ে৷ অধিকারের জবানবন্দীতে লিখে রাখে ব্ল্যাকমেইলের রকম ফের৷ শূন্যে তুলে রাখা পা, বাড়ন্ত নখ, বাহারি চুল সকলেই যোগ দেয় লুকোচুরি রুটমার্চে। যেভাবে তার আত্মার অশুদ্ধি থেকে নামতে নামতে দাঁড়িয়ে পড়ে খাদের ধারে। খাদ দেখে না৷ দেখে দীর্ঘ বালিয়াড়ি, মুহুর্মুহু আছড়ে পড়ছে আস্ত আরব৷ সে ছুটছে একটি পুরুষের দিকে, হাত বাড়িয়ে আছে – জ্বলন্ত বৈরাগ্য। যতই এগোয় পুরুষটি মিলিয়ে যায় গভীর আরবে৷ অযুত নিযুত নক্ষত্রের সারি। নয় গ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ মাথায় করে তুলে ধরছে আয়ুরেখার গৃহনির্মাণ৷
তুমি বুঝতে পারছ? জলই জীবন। জলই সুখ। জলই নিরাময়। জলই ব্রহ্মের শুদ্ধিকরণ।