অণুগল্পে পঙ্কজ কুমার চ্যাটার্জি

অনুষ্ঠানের পরে
বেহালায় ‘যাত্রিক’ পত্রিকার অনুষ্ঠানে সুমিতের সাথে শিখার পরিচয়। সুমিত ‘বিন্দু’ পত্রিকার সম্পাদক। কবি হিসাবে বেশ নামডাক আছে। ‘যাত্রিক’ পত্রিকাতে সুমিতকে উদীয়মান সম্পাদক হিসাবে সম্বর্দ্ধনা দেওয়া হলো। মঞ্চ থেকে হলে নিজের আসনে বসতেই পাশ থেকে শিখা নিজে থেকেই আলাপ করেছিল। শিখার মধ্যে বহ্নিশিখার মতো সৌন্দর্য আছে, যার আগুনে ঝাঁপ দিতে সুমিত নিজের মনে নিজেকে তৈরি করে নিলো। পরের সপ্তাহে ‘বিন্দু’ পত্রিকার পরবর্তী সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে শিখাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ফেললো।
আজ ‘বিন্দু’ পত্রিকার অনুষ্ঠান। হল ঘরে অনেক আগেই শিখা এসে বসে আছে। সুমিত পাশে এসে বসে খুনসুটি করে গেলো। অনুষ্ঠানের মাঝামাঝি। এইবার শিখার কবিতাপাঠ। সুমিত নাম ঘোষণা করতে মাইক হাতে নিল। হঠাৎ একজন এসে বাজপাখির মতো ছোঁ মেরে মাইক নিয়ে পগার পার। অনুষ্ঠানের এই খানেই সমাপ্তি। সবাই বেরিয়ে গেল হল ছেড়ে।
পরের সপ্তাহে কফি হাউসে সুমিত কোণের এক টেবিলে একা বসে আছে। মাথা উঁচু করে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হলো কেউ এসে সামনের চেয়ারে বসলো। সুমিত চমকে উঠলো। এ যে শিখা। শিখা মিটি মিটি হাসছে। বেয়ারাকে ডেকে কোল্ড কফির অর্ডার দিল। আবার হাসছে শিখা। কিছুই বলছে না। কফি খেতে খেতে পত্রিকা নিয়ে দু’চারটে মামুলি কথা বিনিময় হলো। সুমিত বলল, “আমি আজ তাড়াতাড়ি উঠবো। অনুষ্ঠানের পর থেকে আমার গলার কাছে কিছু একটা আটকে আছে। মনে হচ্ছে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে।” “চলুন”, বলে শিখাও সুমিতের পাশাপাশি কফি হাউস থেকে নেমে এলো। রাস্তায় নেমে এসে সুমিতকে শিখা বললো, “অনুষ্ঠানের দিন আমি খুব বেঁচে গেছি, লজ্জার হাত থেকে। সেই দিন হল থেকে বেরিয়ে এসে দেখি মোবাইল হ্যাং হয়ে আছে। সুইচ অফ-অন করেও ঠিক হলো না। মোবাইলেই আমার পাঠ করার কবিতা ছিল। ইস, কি বাঁচান বেচে গেছি।” দুই জনে হো হো করে হেসে উঠলো। শিখাই প্রথম তুমিতে নেমে এসে বললো, “চলো বসন্ত কেবিনে গিয়ে বসি।”