সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে নীলম সামন্ত (পর্ব – ১১)

ব্রহ্মমুখী সূর্য ও রেবতী রেবতী ঠোঁট
festivals are like an entertainment in your life. কথাটা বুঝে নেওয়ার পর থেকে নিজেকেই উৎসব ভাবি৷ সারা শরীরে আলো জ্বালিয়ে রাখার প্রক্রিয়ায় ব্রহ্মান্ডের মস্ত হাত আছে৷ এ কথা অস্বীকার করিনা৷ তবে কৌশল যেমনই হোক তাকে নিজেকেই আত্মস্থ করতে হয়৷ কারণ প্রভাবশালী রাস্তাগুলো বেশিরভাগ বিপরীতে প্রসস্থ। এই সব পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়া সহজ। আমি বসে দেখেছি৷ রথ থেকে বাতাসা ছড়িয়ে দিচ্ছে বৃদ্ধ বামুন৷ আর জগন্নাথ হাসছে একই রকম ভাবে৷ বছরের পর বছর৷
আজ আষাঢ়স্য প্রথম দিবস। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে নিজের মতো করেই৷ সকাল থেকে ভাবছি উৎসবের উৎস নিয়ে। ঠিক যেভাবে একটা নদীর উৎস কোন দূর পাহাড় পেরিয়ে কোন গ্লেসিয়ার থেকে বা অন্য কোথাও থেকে আর তারপর মহাগতিতে বয়ে চলে। এই বয়ে চলাকে উৎসব মনে করলে নদীতে ভাসানো প্রদীপ গুলোকে ঐশ্বরিক আলো হিসেবে লিপিবদ্ধ করা যায়৷ আমি বা আমার মতো অনেকেই কিংবা প্রত্যেকেই বয়ে চলে। কেউ হাত পা ছড়িয়ে কেউ আঁকড়ে ধরে৷ তারা প্রতিদিন কোন না কোন উৎসবে যোগদান করে এবং কিভাবে উৎসব হয়ে ওঠে তা নিজেরাই টের পায় না৷
এই যে বৃষ্টির ফোটা আর ঘামের ফোটা মিশিয়ে ভাবছি জলে লবনের পরিমান বাড়ল নাকি এ প্রচন্ড জটিলতা তৈরি করে। জীবন কি সত্যিই এতো জটিল? নাকি আমাদের ভেতরে ভালোবাসার অভাব? যার কারণে জীবন নারী পুরুষ বিভেদে খরচ করে দেয় দীর্ঘ সময়। আর তলা দিয়ে সিঁধেলচোর ঢুকে চুরি করে নেয় মূল্যবান নথি।
আচ্ছা আপনারা বলুন তো উৎসবের প্রধান উদ্দেশ্য কি? আমার মনে হয় ব্রহ্মের সাথে বৃহত্তর সমাবেশ৷ যেখানে আলো জ্বলে৷ যেখানে ফুলেল শামিয়ানা ভাসিয়ে নিয়ে যায় সুখের দিকভ্রান্ত নগরে৷ সেখানে কি আছে জানেন? পরম আত্মা। অর্থাৎ একটি উৎসবের শেষে যদি পরমআত্মার সাথে মোলাকাতই না হয় তবে সে উৎসব পরিপূর্ণ হয় না৷ সম্পর্কই তো আসল সূর্য যা ব্রহ্মের দিকে মুখ করে ব্রহ্মান্ডের বাকি নক্ষত্রদের বার্তা পাঠায়। মহাকাশে ধ্বনিত হয় মিলনের জৈবিক গুজব। ততক্ষণে একটা ঘন নীল শাড়ি শরীরে জড়িয়ে নিলাম আর বন্ধুবান্ধব সহ রেবতী বুক খোলে আমার বুকের ওপর৷
এভাবেই উৎসব হয়। নিজের ভেতর নিজের৷ একাকী যাপনে বিষন্নতায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠে মোমবাতির বন্ধ চোখ। ও পরম তুমি কি আসছ? এই তো রথ এসে গেল!