T3 সাহিত্য মার্গ || ১৫০ তম উদযাপন || সংখ্যায় রবীন জাকারিয়া

মামনি
আমি আমাদের পরিবারের সবচেয়ে আদরের আর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য৷ কেননা পরপর তিন বোনে পর আমার জন্ম৷ একমাত্র পুত্র সন্তান৷ মামনি নারীনেত্রি হলে কী হবে! আমার ধারণা সব মায়েরাই পুত্র সন্তানের আশা করে বেশি৷ বিপরিতদিকে যেমন বাবারা কন্যা সন্তান ভালোবাসে৷ যাহোক আমাকে সবাই আদর করে আর আমার চাহিদাও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ৷ আপুরাতো আমাকে জান দিয়ে আগলে রাখে৷ বোনরা সম্ভবত ভাইকে বেশিই ভালোবাসে৷
মামনিকে ছাড়া যেমন আমি থাকতে পারিনা তেমনি আমি কোথাও বেড়াতে গেলে মামনি অসুস্থ্য হয়ে পরে৷ তাই আমি মামনি ছাড়া কোথাও যাই না৷ এখনো আমি রাতে মামনির সাথে ঘুমাই৷ মামনি মাথায় হাত না বুলিয়ে ঘুম আসেনা৷
দিনে দিনে সময় কেটে যায়৷ বড় হতে থাকি আমরা৷ ধীরে ধীরে আপুদের বিয়ে হয়ে যায়৷ মামনি একাকি হয়ে পরে৷ এখনতো আমাকে একদন্ড চোখের আড়াল হতে দেয় না৷ অথচ ইউনিভার্সিটি শেষ করে একটা মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে জব করছি৷ কিন্ত মামনি এখনো সেই ছোট্টশিশুর মতো আগলে রাখে৷ মাঝে মাঝে ভালোই লাগে তবে বেশিরভাগ সময় রিরক্ত লাগে৷
একদিন মামনি হুট করে এসে বললো তোর জন্য মেয়ে দেখে আসলাম৷ আমার ঘনিষ্ঠ বান্ধবির মেয়ে৷ অনেক সোশ্যাল৷ সব কথা ফাইনাল৷ আগামিকাল ঘরোয়া পরিবেশে তোমাদের বিয়ে হবে৷ রেডি থেকো৷ সারাজীবন মামনির আঁচলে বড় হতে হতে নিজের ইচ্ছে অনিচ্ছার কথা ভুলেই গেছি৷ সবসময় নিজেকে আদুবুধু শিশুই মনে করেছি৷ যারফলে ব্যক্তিস্বত্ত্বার তেমন বিকাশ ঘটেনি৷ তাই অগত্যা মামনির নির্দেশ মোতাবেক বিয়ে আমাকে করতেই হলো৷
মামনির সাথে সারাজীবন একসাথে থাকতে থাকতে আমার একটা বদঅভ্যাস তৈরি হয়েছে৷ সেটা সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর মামনি কাছে না পেলে চিৎকার করে ডেকে উঠি ‘মা-মু-নি’৷
আজো সেই অভ্যাসমতো চিৎকার করে ডাকলাম ‘মা-মু-নি’৷ কিন্ত কী আশ্চর্য আজ এক ডাকে ঘরে প্রবেশ করলো দুই মামনি৷ একজন আমার জন্মদাত্রি মামনি আর অন্যজন আমার সদ্য স্ত্রী৷ যার নামই হলো মামনি৷ সম্ভবত আমিই এই গ্রহে একমাত্র পুরুষ যাকে তার স্ত্রীকে সন্মোধন করতে হচ্ছে মামনি বলে!