সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ১৭)

স্ট্যাটাস হইতে সাবধান
উফ্, ফুলটুসি এখন কী করে! ওর চোখকে ও বিশ্বাস করতে পারছে না। ফের একবার আই হোল দিয়ে উঁকি দেয় ও। সত্যিই একেবারে নিখাদ নিপাট সুমন। আর ওর হাতে… উফ্, সুমন কিভাবে জানলো যে লাল গোলাপ পেলে ও সবকিছু ছেড়ে মঙ্গলগ্রহতেও চলে যেতে পারে! ওর বুকের শব্দ ও নিজেই শুনতে পাচ্ছে। কী মুশকিল, ও শব্দ বেড়েই চলেছে কেন? ছেলেটা আবার দরজার ওপারে দাঁড়িয়ে শুনতে পাচ্ছে না তো?
পড়নের জাম রঙের শাড়িটাকে ঠিক করে নেয় ফুলটুসি। সাথে ইঞ্চিমাপের রূপোলি ব্লাউজটাও একটু টেনেটুনে ঠিকঠাক করে নেয়। কপালের ওপর এসে আশ্রয় নেওয়া চুলের ঢেউগুলোকে ডান হাতের আঙুল দিয়ে ঠেলে পেছনদিকে সরিয়ে দিয়ে দরজাটা খুলতে যাবে, ঠিক এসময়েই মনে পড়লো — মুখ তার শ্রাবস্তির কারুকার্য।
সাথে সাথেই মুখটা কঠিন হয়ে গেলো ফুলটুসির। ওর মুখ বস্তির মতো? নোংরা? বদখৎ? খুলবে না দরজা। দাঁড়িয়ে থেকে বিরক্ত হয়ে ফিরে যাক শয়তানটা। ফুলটুসির ওকে কোনো প্রয়োজন নেই।
— কি গো ফুলু, ওরকম দরজার গায়ে কান পেতে দাঁড়িয়ে আছো কেন? শুনছো না, সেই কখন ডক্টর সরকার বেল বাজিয়েছেন, শুনতে পাও নি?
— কে বেল বাজিয়েছেন?
— ডক্টর সরকার। আমি সেন্সলেস হয়ে পড়েছিলাম শুনেই বললেন কোনো চিন্তা করবেন না মিষ্টার তলাপাত্র, আপনার কিছু একটা ঘটে যাওয়ার আগেই আমি আসছি।
— কি বলেছে? আপনার কিছু একটা ঘটে যাওয়ার আগেই তিনি আসছেন? হায় রে মূর্খ! এ কথা কোনো ডাক্তার তার পেসেন্টকে কখনও বলেন?
— মূর্খ ! হ্যাঁ, আমি তো মূর্খই, নইলে ওই অঙ্গে এরকম বারোহাজারী শাড়ি ওঠে? দেখি সরো দেখি, আমাকে দরজাটা খুলতে দাও।
বলেই মিষ্টার তলাপাত্র ফুলটুসিকে একরকম ঠেকেই দরজাটাকে খুলে ধরেন। খুলেই দেখতে পান জুনিয়ার নজরুল হাতে গোলাপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। যতটা না সুমনকে দেখে তার থেকেও ওর হাতে ধরা গোলাপগুচ্ছ দেখে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন মিষ্টার তলাপাত্র
— অ, আপনি মিষ্টার জুনিয়ার নজরুল এয়েচেন? আহা — হাতে ওগুলো কী কবি? ওগুলো বুঝি কবিতা? তা ওগুলো কবিতা না যাকে উপহার দেবে বলে নিয়ে এসেছো তিনি তোমার কবিতা? আঁতলামো করার আর জায়গা পাওনি? বেরোও, বেরোও এখান থেকে। তুমি কি আমাকে সুস্থ করতে এসেছিলে না কি তোমার কবিতাকে?
সুমন আর এক মুহূর্তের জন্যও দাঁড়ায় না। গোলাপের তোড়াটা ফুলটুসির দিকে ছুঁড়ে দিয়ে সিঁড়ি দিয়ে তরতর করে নামতে থাকে। পুরো ঘটনাটার আকস্মিকতায় ফুলটুসি বোকার মতো দাঁড়িয়ে থেকে ভ্যাঁ করে কেঁদে ফেলে।
— তুমি আমাকে এইভাবে অপমান করলে, আমি আজই বাপের বাড়ি চলে যাবো।
ক্রমশ…