সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে পিয়াংকী (সাবেক কথা – ২৩)

সিরিজ – সাবেক কথা

কান্দা – উঁচু 

…সাঁইয়ের ঘরে বাজনা নেই। উদাসীন অস্তরাগ সনাক্ত করতে পারে এমন কোনো কান্দাউঁচু থালাও নেই তাঁর দুয়ারে। নিরাভরণ অস্তিত্ব খুঁজে খুঁজে সে হয়রান, পেয়েছে এক মোক্ষলাভের জটিল পথ। সাঁই সায় দেয়নি কোনো কালেই। সে বরাবরই ভীতু। তাঁর উচ্চারণে জড়িয়ে গেছে যে পূর্ণিমার রাতকথা সেখানে স্নান সেরে উঠতে পারলে মোহমুক্তি ঘটতে পারে এই ভেবে সকলে ছুটেছে দলবাঁধা হরিণের মতো। যে বেষ্টনীর ভেতরে প্রতিটি ভোরে সূর্যোদয় হয়, যেখানে কান্দাউঁচু একটি পাত্রের ভিতর ক্রমশ পূর্ণ হয়ে ওঠে মন, অন্ত:শুদ্ধি মিটলে সেই সূর্যোদয়ই গ্রহণের ঢলকুসুম।

সাঁইসাঁই করে ছুটে যাচ্ছে বাতাস। আশেপাশে এদিক-ওদিক ভাঙচুর পথে মণিমালা আলোর মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছে ব্রহ্মনাদ। নাদ কি? এও কি কোনো সাধারণ শব্দ? সাঁই বলে ডাকলে ভেতর ভেতর কে যেন ফিসফিস করে, দুমদাম ঝুপঝাপ গাছ থেকে খসে পড়ে পাকা ফল।সেখানেও শব্দ। এসব গুরুগম্ভীর শব্দের অর্থ অতটাও সহজ নয়। একটি কান্দাউঁচু থালার ভিতর পঞ্চব্যঞ্জন সহ রাখা আছে জোয়ারের মাটি। সে মাটিতে পাঁচআঙুল, খুব সন্তর্পণে যেভাবে দেয়ালে সিঁধ কাটে বনজ্যোৎস্নার আলো সেভাবেই পাঁচিল ডিঙিয়ে আরেকটু আরেকটু করে সাঁই দীর্ঘ হচ্ছে। এই দীর্ঘ হবার প্রক্রিয়াটা অনেকটা পুষ্টি সংগ্রহ করার মত।

…এযাবৎ, যত ধ্রুবক চিনতে সাহায্য করেছে পথের বাঁক,যেভাবে মোহনায় বসে বালি গুনেছে অষ্টাদশ বালক কিংবা কালপুরুষের ক্ষমতায়নে ধুয়ে গেছে কলতলার পিছল মেঝে — সবেতেই যেন এক প্রবর পুরুষের ক্ষীণ উপস্থিতি। এ প্রশ্ন আসতেই পারে উপস্থিতি তো উজ্জ্বল করে, এক্ষেত্রে ক্ষীণ কেন। আসলে ক্ষীণ শব্দটি খানিক পদ্মপাতায় জলের মতো, আছে অথচ নেই। টলটলে অথচ টলমল নয়।
চাঁদ অমসৃণ হলে তারাখসার নামে প্রদীপ জ্বলে ওঠে মর্ত্যলোকে, সাঁইয়ের গোপন ডেরায় খবর ছড়িয়ে পড়ে কে যেন কুপিয়ে তুলছে ঘরের মাটি।মাটির ওপর জল, কাদা কাদা শরীরে কান্দাউঁচু থালা। কানা পেরিয়ে যেন কেউ নেমে না যেতে পারে মায়াজাল ছেড়ে।

…এহেন আয়োজন দেখে ভাবি,এখনো সামান্য কিছু কারণ পড়ে আছে বাঁচার। এখনো চাঁদের কলঙ্ক অথবা সূর্যের বৈরাগ্য থেকে ঢলকে পড়ছে কলসির জল। এসবের পর সাঁই আর তাঁর কান্দাউঁচু থালার পাশে বসে থাকি ব্যক্তিগত মোক্ষলাভের পথে একমুঠ চাল ছড়িয়ে দেব বলে…

১৪ ই জ্যৈষ্ঠ
সকাল ৮:২৫
নিজস্ব বাড়ির চিলেকোঠার সিঁড়ি

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।