গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী

জামাইষষ্ঠী
বিয়ের পর এই প্রথম জামাইষষ্ঠীতে শ্বশুরবাড়ি এলো রৌনক মানে রুনু। এইতো মাস খানেক হলো বিয়ে হয়েছে। শালুকডাঙ্গা একটা মফস্বল শহর । এখানে মেট্রো সিটির মতো লোকের ভিড় নেই। প্রতিবেশীরা সবাই একে অপরকে চেনে। তাই নতুন জামাই রুনুও সবার পরিচিত। নন্দার বর বলে কথা। নন্দাতো এই পাড়ার রত্ন। মেয়ে হয়ে কেমন ব্যাংকে চাকরি করছে। ওইতো এখানকার মেয়েদের আদর্শ। সবাই ওর মতো হতে চায়। এখানে কারও বাড়িতে অতিথি এলে পাড়ার সবাই আনন্দে মেতে ওঠে যেন কেউ পরম আত্মীয় এসেছে। নন্দা এসেছে জামাই নিয়ে, এটা তো একটা দারুণ ব্যাপার।
রুনুকে এখানে সবাই ভালোবাসে। হাজার হোক শহরের শিক্ষিত অবস্থাপন্ন ঘরের ছেলে এই ছোটো গ্রামের জামাই। তাকেতো একটু খাতির যত্ন করতেই হয়। জোড় ভাঙতে এসে প্রায় সবার বাড়িতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে হয়েছে রুনুকে। তখনই বড়রা বলে দিয়েছে “রৌনক” – অত ভারি নামে ডাকা মুশকিল। তাই নামটা ছোটো করে ‘রুনু ‘ করলে ডাকতে সুবিধা হয়। ব্যস, তখন থেকে এই জামাই “রুনু” হয়ে গেছে।
এখানের মেয়েরা ওকে খুব সুন্দর করে ডাকে “রুনুদা” বলে। অবশ্য তারা সম্পর্কে শালিকা হন বলে রুনুও ব্যাপারটা বেশ এনজয় করে। তবে অনেকে পাড়ার জামাইকে “দাদাবাবু” ডাকে। সেটাও বেশ লাগে।
আজ সকাল থেকে এবাড়িতে বেশ হৈ হৈ চলছে। জল খাবারে লুচি ছোলারডাল। সাথে আম- কাঁঠাল মিষ্টি। দুপুরে আছে, মুগ ডাল মাছেরমুরো দিয়ে। বেগুন ভাজা, ইচরচিংড়ি, পাঁঠার মাংস, আমের চাটনি, পায়েস, মিষ্টি। রুনু খাবারের লিষ্ট শুনে বলেছে,” মা বলে দিয়েছেন যে জামাইষষ্ঠীতে জামাইর সাথে পাঁচ জন শালিকে এক থালায় খেতে হয়। এটাই আমাদের বাড়ির নিয়ম।” শুনে নন্দা হেসে গড়িয়ে পড়েছে। বলেছে,” আমাদের এখানে সবাই সাবেকি নিয়ম মেনে চলে। তোমার অত জারিজুরি এখানে খাটবে না।” কিন্ত আদরের জামাই রুনুর এইf বুদ্ধির মান রাখতে ওর নিয়মে পালন করা হল এবারের জামাইষষ্ঠী।