ক্যাফে গল্পে মিষ্টু বসু

জন্মান্তর

১|
মহাবীর জয়ন্তী আর রবিবার মিলে পরপর দুটো ছুটির দিন বাড়ি বসে কি করবো?এই নিয়ে অফিস ক্যান্টিনে বসে ভাবনায় ডুবে গেছিলাম,হুঁশ ফিরল নবীনের ডাকে।
-কি রে,গম্ভীর হয়ে অত কি ভাবছিস?চা তো জল হয়ে গেছে দেখছি।আরেকটা অর্ডার করে আসি দাঁড়া।ডিম টোস্ট খাবি তো?
আমি ঘাড় হেলিয়ে হ্যাঁ বলতেই,নবীন কাউন্টারের দিকে এগিয়ে গেলো।
নবীন রানাঘাটের কাছে বানপুর নামক একটা ছোট্ট মফস্বলের ছেলে।চাকরি সূত্রে কলকাতায় এসে,দমদমের কাছে একটা মেসে থাকে।আমার মতোই অবিবাহিত।বছর দুয়েক আগে আমি আর ও প্রায় একই সাথে এই অফিসে জয়েন করেছিলাম।সমবয়সী হওয়ার দরুন খুব কম দিনের মধ্যেই আমাদের মধ্যে গাঢ় বন্ধুত্ব হয়ে গেছে।
‘কিরে কি হল,বললি না,কি ভাবছিলিস?’নবীন চা আর ডিম টোস্টের অর্ডার দিয়ে ফিরে এসেছে।
– সামনে পরপর দুটো ছুটির দিন আসছে।ভাবছিলাম,কোথায় যাবো।
– কেন তোর ভ্রমণ পিপাসু দলের কি খবর?
-ধুস,ওদের কারো ছুটি নেই।
– তোকে তো কত দিন ধরে আমাদের দেশের বাড়ি যাওয়ার জন্য বলছি।বারবার এড়িয়ে গেছিস।এই বার কি যাবি?
– তুই যাচ্ছিস নাকি?
– হ্যাঁ।এবার দাদার পয়ত্রিশতম জন্মদিন খুব ধুমধাম করে পালন হবে,তাই যেতেই হবে।তুইও চল ভালোই লাগবে।
পয়ত্রিশতম জন্মদিন!তাও আবার ধুমধাম করে।বলে কি?এও কি সম্ভব।স্বাভাবিক ভাবেই আমি প্রচণ্ড অবাক হলাম।যদিও ভদ্রতার খাতিরে মুখে কিছু বললাম না।পয়সা থাকলে ভুতের বাবার শ্রাদ্ধ হয়,সেখানে জন্মদিন তো কোন ছাড়!
– কিরে,আবার কি ভাবতে বসে গেলি?
-না,না।কিছু না।
-তাহলে,যাচ্ছিস তো?
দাদু বেঁচে থাকতে ছোট বেলায় নিয়ম করে পুজোর সময় দেশের বাড়ি কাঁথি যেতাম।সে বয়সে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করতে না পারলেও,গাছ-গাছালি,পুকুর,ধান ক্ষেত,খোলা মাঠ আর পাখির ডাকের মধ্যে কটা দিন মন্দ লাগতো না।যদিও সে সুখ আমার কপালে বেশি দিন স্থায়ী হয় নি;আমার যখন প্রায় দশ বছর বয়স,দাদু মারা গেল আর কাকারাও গ্রামের সব সম্পত্তি বেচে দিয়ে কলকাতায় চলে এল।সেই সঙ্গে আমারও গ্রাম বাংলার সাথে সমস্ত সম্পর্ক অচিরেই ছিন্ন হল। সত্যি বলতে কি,বড় হয়ে বাংলার প্রকৃতিকে সেভাবে কোনো দিনও আর ছুঁয়ে দেখার সৌভাগ্য হয়নি।তাই এবার হঠাৎ করে চলে আসা সুযোগটা আর হারাতে ইচ্ছা করলো না।নবীনের প্রস্তাবে তাই রাজি হয়ে গেলাম।ওকে সোহোৎসাহে বললাম,’হ্যাঁ।ফাইনাল।‘

২|
‘ওই যে জলকরটা দেখতে পাচ্ছিস,ওটা আমার কাকার।’নবীন বাইক চালাতে চালাতে বলল।
আমি আজ রানাঘাট গামী প্রথম ট্রেন ধরে কাক ভোরে নবীনের বানপুরের বাড়িতে এসে ল্যান্ড করেছি।তারপর কোনো রকমে পিঠের ব্যাগটা রেখেই বেরিয়ে পড়েছি,ভোরের আলোয় পল্লী বাংলার রূপ দর্শন করতে।নবীন,বাইক চালাতে চালাতে গাইডের মতো আমাকে ওর গ্রামের নানা দ্রষ্টব্য স্থান,বিশেষ করে সারা গ্রাম জুড়ে ছড়ি ছিটিয়ে থাকা ওদের পারিবারিক সম্পত্তি,চেনাতে চেনাতে চলেছে। যদিও আমার সেদিকে বিশেষ মন নেই। আমি এখন মন-প্রাণ দিয়ে গ্রামের মেঠো পথ-প্রান্তরের ঘ্রাণ নিতে ব্যস্ত। দিগন্ত বিস্তৃত শস্য ক্ষেত,পাখির কিচির মিচির ,উনুনের ধোঁয়া,টলটলে পুকুর,সবুজ শ্যামল মাঠ,সরু সরু আলপথ,বাঁশের ঝাড়,ছবির মতো ‘ইশকুল’ বাড়ি আর লম্বা লম্বা ঝুড়ি নামিয়ে নামিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন বট গাছ, আমায় মোহিত করে দিচ্ছিল।এই মোহনীয় প্ৰাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দেখতে আমার মনে হচ্ছিল,এই সেই বন্দে আলী মিয়া,জীবনানন্দ,রবি ঠাকুর বা জসীমউদ্দীনের বাংলা-রূপসী বাংলা।কত,কত বছর বাদে আবার এই নয়নাভিরাম ও অপার সৌন্দর্যের সাক্ষী হতে পারলাম।
-কিরে,কেমন লাগছে?
-খুব ভালো।
-আমি জানতাম তোর ভালো লাগবে।প্রকৃতির আসল সৌন্দর্য চিনে নেওয়ার মতো অন্তর্দৃষ্টি তোর আছে।
‘গ্যাসের’ দাম বাড়লেও,আমি নবীনকে বিশেষ পাত্তা না দিয়ে,শুধু ‘হুমম’ বলে আবার মনোমুগ্ধকর প্রকৃতিতে মনোনিবেশ করলাম।

৩|
‘কি রে ওঠ?সাড়ে পাঁচটা বাজে তো’.
সকালে নবীনের সঙ্গে ঘন্টা দুয়েক ভ্রমণের পর ওদের বাড়ি ফিরে জমিয়ে লুচি-আলুর দম উদরস্থ করে,আরো এক প্রস্থ এদিক ওদিক ঘুরতে বেরিয়েছিলাম.আরও কিছু ভালো ভালো জায়গা ঘুরে দেখতে দেখতে প্রায় দুটো বেজে গেছিল.ফিরে এসে বহুদিন পর টলটলে পুকুরের জলে জমিয়ে স্নান করে,খাবার টেবিলে বসতে দেখলাম,রাজকীয় আয়োজন.ধৈর্য্য ধরে এক এক করে সেসব গলা:ধকরন করে বিছানায় লম্বা হয়ে শুয়ে ফেসবুক দেখছিলাম,কখন যেন চোখ লেগে গেছিল।ঘুম ভাঙল,নবীনের ডাকে। তাড়াতাড়ি কোনো রকমে রেডি হয়েও বেরোতে বেরোতে প্রায় ছ’টা বেজে গেল।নবীন ওদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে বড়ো রাস্তা ধরে মিনিট দশেক যাওয়ার পর সুরকি বিছানো ঢালু হয়ে যাওয়া একটা পথ ধরল।এঁকে বেঁকে চলে যাওয়া পথটা ধরে মিনিট তিনেক যাওয়ার পর নবীন একটা বড়ো প্যান্ডেলের সামনে এসে বাইক দাঁড় করালো।গেটের সামনে বড়ো ব্যানারে ‘হ্যাপি বার্থডে প্রবীণ’ লেখা আছে।প্যান্ডেলের ভিতরে ঢুকে নবীন একটা চেয়ার এগিয়ে দিয়ে ‘একটু আসছি’ বলে সামনের একটা জটলার দিকে এগিয়ে গেল।নবীন চলে যেতে, আমি প্যান্ডেল সজ্জায় গভীর ভাবে মনোনিবেশ করলাম।আদতে এটা একটা আম বাগান।গাছ গুলোকে সঙ্গে নিয়ে খুব শৈল্পিক ভঙ্গিতে প্যান্ডেলটা করা হয়েছে।গাছের ডালে নানা রঙের টুনি জড়িয়ে দেওয়া আছে।কিছু গাছের ডালে আবার হলুদ বাল্ব ঝোলানো আছে।কেতাদুরস্ত আলোকসজ্জার পাশাপাশি ইতস্তত কিছু হ্যালোজিন লাগানো আছে,আলোর অভাব প্রকৃতই দূর করার জন্য!গোটা প্যান্ডেল টাই প্রায় বেলুন আর রিবন দিয়ে চমৎকার ভাবে সাজানো হয়েছে।বাচ্ছা দের জন্মদিনের পার্টি গুলো যেমন হয়,এটাও ঠিক তেমনই হয়েছে।বাইরে এমনকি চার্লি চ্যাপলিন আর গোপাল ভাঁড়ের ক্লোনের সাথেও দেখা হয়েছে।মনের মধ্যে একটা সন্দেহ জন্মাল।জন্মদিনটা আসলে কার?নবীনের দাদার না তাঁর সন্তানের?নবীন ঠাট্টা করছেনা তো?
আনমনে এসব ভাবছিলাম। কলকাতা থেকে বয়ে আনা সংশয়ের বোঝা ক্ষনে ক্ষনে বাড়ছিল,ঠিক তখনই নবীনের খুড়তুতো ভাইয়ের ডাকে চটকটা ভাঙল।তাকে অনুসরণ করে আমি অজান্তেই একটা জটলার মধ্যে ঢুকে গেলাম। তারপর যা দেখলাম সেই অভূতপূর্ব ও অনির্বচনীয় দৃশ্য বর্ণনা করার চেষ্টা বৃথা জেনেও নিজেকে সংবরণ করতে পারছি না।অগত্যা…
সমস্ত আকর্ষণের কেন্দ্রে একটি আম গাছ;বিশেষ নিশ্চয়ই না হলে একই সারিতে থাকা বাকি আম গাছ গুলোর মধ্যে থেকে একেই বেছে নেওয়া হয়েছে কেন?সবুজ রঙের লোহার উঁচু রেলিং দিয়ে বৃত্তাকারে গাছটা ঘেরা আছে।বৃত্তের ভিতরটা রিবন এবং বেলুন দিয়ে খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে।এখানেও বিভিন্ন রঙের আলোর ব্যবহার বেশ চোখ টানে।বোঝাই যাচ্ছে কোনো পেশাদারের কাজ।সবুজ রেলিঙের ভিতরে নবীনের ভগ্নিপতি ছাড়া ওদের পরিবারের বাকি প্রায় সকলেই আগে থেকেই উপস্থিত ছিল।হন্তদন্ত হয়ে এবার সে কোথা থেকে প্রায় দৌড়ে এসে পৌঁছাতেই,অনুষ্ঠান শুরু হল।প্রথমে উলুধ্বনি,শঙ্খধ্বনি আর ঢাকের বাদ্যের মাঝে নবীনের মা আর বোন আম গাছের গুঁড়িটাকে বেষ্টন করে একটা লম্বা রজনীগন্ধার মালা পরিয়ে দিল।তারপর নবীনের মা প্রজ্জ্বলিত দীপের পুণ্যবান আলোয় কিছুক্ষন আরতি করে গাছটার গায়ে চন্দনের তিলক এঁকে দিলো। তারপর নবীনের বাবা এগিয়ে এল দুজনে মিলে একটা বাটি থেকে চামচ করে পায়েস নিয়ে ,একটা মানুষকে চামচ দিয়ে যেমন ভাবে খাওয়ানো হয়,ঠিক সেই একই ভঙ্গিতে গাছ টাকে যেন পায়েস ‘খাইয়ে’ দিলেন।তারপর দুজনে মিলে ধান ‘দুব্বো’ দিয়ে গাছ টাকে আশীর্বাদ করলেন।পায়েস পর্ব শেষ হওয়ার প্রায় সাথে সাথে গাম্বাট সাইজের কয়েকটা সাউন্ড বক্সে তারস্বরে ‘উই উইশ ইউ আ হ্যাপি বার্থডে’ শুরু হলো।ইতিমধ্যে ট্রলিতে করে পেল্লাই সাইজের কেক এসে হাজির।নবীন আর ওর বোন এক ফুঁয়ে মোমবাতিটা নিভিয়ে দিয়ে,তুমুল হাততালি আর বিপুল হর্ষ-ধনির মাঝে কেক কাটল। এবং প্রথম টুকরোটা নবীনের বোন সেই আমি গাছ টাকেই উৎসর্গ করল,থুড়ি খাওয়াল।

৪|
‘আজ থেকে ঠিক তেত্রিশ বছর আগে আমার বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান অর্থাৎ আমার দাদা প্রবীণ মাত্র দু’বছর বয়সে তিন দিনের অজানা জ্বরে মারা যায়।প্রথম সন্তানের অকাল মৃত্যুর শোক সামলানো সহজ ছিল না।ঠাকুমার কাছে শুনেছি বাবা টানা দুদিন দাদাকে কোলে নিয়ে পাথরের মতো চুপচাপ বসে ছিল।শেষে পাড়ার লোক জন এক প্রকার জোর করেই ওই যে যেখানে আম গাছটা দেখতে পাচ্ছিস,তার ঠিক নিচে দাদার প্রাণহীন দেহ সমাধিস্থ করেছিল।বাবা প্রতিদিন ছেলের কবর দেখতে আসতেন।নিয়ম করে আগাছা সাফ করে জায়গাটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতেন।এভাবেই অনেক গুলো দিন কেটে যায়।তারপর একদিন,মানে এই আজকের দিনে ফোর্থ এপ্রিল,আশ্চর্য জনক ভাবে বাবা হঠাৎ ঠিক দাদার কবরের ওপর আম গাছের অতি ক্ষুদ্র দুটো কচি পাতা আবিষ্কার করে।ঘটনাটা যদিও অস্বাভাবিক কিছু ছিল না।এই অঞ্চলে আগে থেকেই আগে থেকেই বেশ কিছু আম বাগান ছিল।তাই আরেকটা নতুন আম গাছের জন্মানো কোনো বিশেষ ব্যাপার ছিল না।কিন্তু,বাবা এই সাধারণ ঘটনা টাকে নিছক সামান্য কিছু ভাবতে পারে নি। তিনি তার পিছনে সর্বশক্তিমানের ভূমিকা খুঁজে পেয়েছিলেন।তার মনে হয়েছিল,ঈশ্বর তার প্রার্থনা শুনেছে। তার সন্তানকে আবার তার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে।তবে এবার আর মানুষ নয়,গাছের বেশে। আর বাবার এই উদ্ভট বিশ্বাসের সপক্ষে বাবা,মায়ের সম্পূর্ণ সমর্থন পেয়েছিল।
আমার অপার কৌতূহল নিরসন করার দায়ে এতক্ষণ একটানা বলে যাওয়ার পর নবীন এবার একটু থামল।একটা বেয়ারাকে ডেকে ট্রে থেকে দু কাপ কফি তুলে একটা নিজে নিল,আরেকটা আমায় দিল।তারপর শব্দ করে কফিতে চুমুক দিয়ে আবার শুরু করলো।
‘ওই একটা আম গাছ থেকে শুরু।সেখান থেকে বাবা তিলে তিলে গোটা একটা আম বাগান দাঁড় করায়।এই বাগান থেকে যা লাভ হয় বাবা বলেন সেটা তার ছেলের রোজগার।আজ যে এতো বড়ো অনুষ্ঠান হলো সব ওই আম বাগান থেকে করা আয়ের টাকায়।’
-তাই নাকি?
‘নবীন দা,জেঠু ডাকছে।’একটা বাচ্ছা ছেলে হঠাৎ কোথা থেকে উদয় হয়ে বললো।
নবীন ছেলে টাকে ‘হ্যাঁ,তুই যা আমি আসছি।’বলে আমার দিকে তাকিয়ে একটা রহস্যময় হাসি উপহার দিয়ে জিজ্ঞাসা করলো,’কেন ডাকছে বল তো?’
– নো আইডিয়া।আমি বোকার মতো উত্তর দিলাম।
– দাদাকে ডিনার করাবে তাই।
অ্যাবসার্ড বলতে গিয়েও নিজেকে সংযত করে নিয়ে শুধু বললাম,’মানে’ ।
-সেই প্রথম দিন থেকে বাবা-মা নিয়ম করে দাদাকে চান করানো,চার বেলা খাওয়ানো নিয়ম মাফিক সব করে আসছে।
নবীন একটু থামল।তারপর আমার বিস্ময়ে এক প্রকার হা হয়ে যাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে বললো,তোর সব কিছু হজম করতে একটু সময় লাগবে।বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে।কিন্তু যা শুনলি সব সত্যি।
এটা অনস্বীকার্য যে,যা শুনলাম,যা দেখলাম,তা হজম করতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে।গাছের বিয়ে শুনেছি,কিন্তু,এমন ধরণের আশ্চর্যজনক অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি।তাই মৃদু হেসে বললাম,হুমম,ঠিকই বলেছিস।
সামনের দিক থেকে এই সময় আবার একটা হৈ-হট্টগোলের আওয়াজ পাওয়া গেলো।নবীন বললো,’চল এবার যাই’।
নবীনের পিছু পিছু শ্লথ পায়ে হাঁটছি,আর ভাবছি বিশ্বাস-অবিশ্বাস,সত্য-মিথ্যা,যুক্তি-তর্কের গতানুগতিক ধারণার নাগপাশ ছিন্ন করে যেখানে পৃথিবীর অন্য রূপ ধরা দেয়,সেখানে আমাদের মতো দুয়ে দুয়ে চার করা ঘোর বাস্তববাদী দের প্রবেশ কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।অন্ধকারের গ্লানি হতে মুক্ত সে পৃথিবী সদা আলোকময়ই শুধু নয়,অনন্ত আশার কিরণে উদ্ভাসিত।সেই পাগলের,সেই উন্মাদের জগতকে বোঝার বা জানার ক্ষমতা সাধারণের নেই।কোনোদিন হয়তো হবেও না।তাই,সন্তান স্নেহের কত বড়ো দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এই জলজ্যান্ত উদাহরণ তা বলার ক্ষমতা আমার নেই ।কিন্তু সেই প্রবল ক্ষমতাশালীর ক্রূর নিদানকে যারা অবলীলায় পরাস্ত করে এগিয়ে যেতে পারে,তাদের কে,কি অভিধায় ভূষিত করা যায়?অনন্য,অতুলনীয়,অদ্বিতীয় নাকি উন্মাদ?আমার পক্ষে বলা কঠিন।কারণ,মনের ভাব চাইলেই যে,ভাষায় প্রকাশ করা যায় না,তা আজ বুঝলাম।আমার জানা সমস্ত বিশেষণের অক্ষমতা আজ প্রকট হয়ে উঠেছে।শব্দের দৈন্যতা আজ বড়ো বেশি করে অনুভব করতে পারছি।তাতে অবশ্য ভালোই হল,ওই প্রণম্য দুটো মানুষকে প্রচলিত অভিধানের বাইরে রাখার সুযোগ পাওয়া গেল।না হলে এই ভাষাতীত অভিজ্ঞতা …
‘কি হলো,আয়।’নবীনের ডাকে আমার চিন্তার সুতোটা ছিঁড়ে গেল।আমি ভিড় ঠেলে সামনের দিকে এগিয়ে গেলাম।

কাকিমা একটা মস্ত বড়ো থালায় ভাত মেখে আম গাছটাকে স্নেহ ভরে ‘খাওয়াচ্ছে;খালি চোখে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে যে শেষ বসন্তের বেদম বাতাসে গাছটা মৃদু দুলছে কিন্তু আমি যেন মনশ্চক্ষু দিয়ে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি,প্রবীণদা দুদিকে ঘাড় নেড়ে বলছে,’আর না মা,পেট একদম ভরে গেছে।’

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।