মার্গে অনন্য সম্মান রীতা চক্রবর্তী (সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ১৩২
বিষয় – ভোকাট্টা
পার্শ্বচরিত্র
এমনি করেই সম্পর্কের মধ্যে চড়া পরে।
খালি হয়ে যায় নির্দিষ্ট চেয়ারগুলো।
দেঁতো হাসিতে ধীরে ধীরে হারায় সম্পর্কের মাধূর্য।
অথচ যখন সময় ছিল তখন একবারও মনে হয়নি দুরত্ব কমানোটা যে কতটা জরুরি!
ব্যস্ততার অজুহাতে অথবা ঈর্ষাদগ্ধ মন-কষাকষিতে একদিন সম্পর্কের দুরত্বটা চিরস্থায়ী হয়ে যায়।
প্রেমের মাঞ্জা দেয়া যে সুতোয় ভর করে আকাশে ডানা মেলেছিল মুগ্ধ হৃদয় লাটাইর ঢিলে সুতোয় সে মাঞ্জার ধার আর খুঁজে পাওয়া যায়না।
তখন সম্পর্কের চাঁদিয়াল হয়ে যায় ভোকাট্টা।
জীবন নদীর প্রতিটা বাঁকে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে অনেকেই ফুলের মালা দিয়ে সাজানো ছবি হয়ে দেয়ালে ঠাঁই পেয়েছেন।
তাঁদের স্মৃতি নিয়ে কাটে দিনের কিছুটা সময়।
সেই আনন্দ বেদনার মুহুর্তগুলো সবুজ হয়ে থাকে মনের মধ্যে।
দুলতে থাকা চেয়ারটা আকাশে ওড়া ওই পেটকাটি মোমবাতির মতো যখন ভোকাট্টা হয়ে গেছে সেদিনের পর থেকে তাঁর গুরুত্ব বোধগম্য হয়েছে।
একটা জীবন ছুটে চলে ঠিক যেন একবগ্গা একটা ঘোড়া।
সাফল্যের নেশায় চূড় হয়ে টগবগিয়ে ছোটে শুধু।
একটার পর একটা সিঁড়ি পার হয়ে ছুঁয়ে ফেলে এভারেস্টের চূড়া।
যাদের কাঁধে ভর দিয়ে এগিয়ে যাওয়া আশেপাশের সেই সব মানুষগুলো সবসময় পার্শ্বচরিত্রে থেকে যায়।
যখন সেই জায়গাটা খালি হয় তখনই বোঝা যায় ওই চরিত্রগুলো ছিল বলেই নিজেকে নায়কের জামা পরানো সম্ভব হয়েছে।
তা না হলে নিজের স্বপ্নগুলোও হয়ে যেত ভোকাট্টা।