অণুগল্পে পঙ্কজ কুমার চ্যাটার্জি

লাল বিন্দি
শেষ ক্লাসটি শেষ হতে সেদিন হয়ে গেছে। অধ্যাপিকা আমিনা স্টেশনের দিকে দৌড়তে শুরু করেছে। প্ল্যাটফর্মে গিয়ে দেখে গার্ড হুইশল বাজাচ্ছে। কোন দিকে নজর নেই আমিনার। উদভ্রান্তের মতো ওভারব্রিজের ওপর দিয়ে শাড়িটা এক হাত দিয়ে তুলে ধরে প্রাণপণে ছুটছে অন্ধের মতো। দুএক জন যাত্রীর সাথে ধাক্কাধাক্কি হয়ে গেল। ট্রেন ছাড়তে কোন কারণে দেরী হচ্ছে। আমিনা এবার নামছে সিঁড়ি দিয়ে। আরও গোটা দশেক সিঁড়ি নামতে বাকি। ট্রেন ছেড়ে দিল। ধীরে ধীরে ট্রেন চলতে শুরু করেছে। সিঁড়ির কাছেই গার্ডের কামরা। গার্ড আমিনাকে দেখে হাসছেন। স্টেশনে দাঁড়ানো আরো যাত্রীরাও হাসছে। আমিনা এবার দুটো করে সিঁড়ি একবারে লাফিয়ে লাফিয়ে নামতে শুরু করলো। মরিয়া হয়ে শেষ সিঁড়িতে শাড়িতে পা জড়িয়ে সে হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেলো। গার্ডের কি হাসি। ইতিমধ্যেই গার্ড আর একবার হুইশল বাজিয়েছিলেন। ট্রেন দাঁড়িয়ে গেলো। নিজেই কোন রকমে উঠে দাঁড়িয়ে আমিনা শেষ কামরায় প্রবেশ করতে পারলো। সেটা ছিল পুরুষদের কামরা।
জানালা দিয়ে আসা হাওয়ায় আমিনার মুখের ঘাম শুকোতে থাকলো। পরের স্টেশনে নেমে আমিনা টিকিট কেটে মহিলা কামরায় উঠে বসলো। তৃতীয় শ্রেণীর কামরা। কামরা ভর্তি যাত্রী। আমিনা টয়লেটের কাছে দাঁড়িয়ে রইলো। কামরায় চারটি বেঞ্চের দুটিতে হিন্দু মহিলা যাত্রী আর দুটিতে মুসলিম যাত্রী বসে। আমিনাকে দেখে এক হিন্দু বয়স্কা মহিলা সরে বসে বললো, “বেহেনজি, ব্যায়ঠিয়ে।” আমিনা বুঝতে পারলো তার কপালের বড় লাল বিন্দিটা দেখে সেই হিন্দু মহিলা তাকে হিন্দু ভেবেছে। বাড়িতে এই বিন্দি পড়া নিয়ে কত না গঞ্জনা শুনতে হয় সবার কাছে। একরোখা আমিনা হিন্দু বন্ধুদের দেখাদেখি বিন্দি পড়ে। আজ তা কাজ লেগে গেলো অলৌকিক ভাবে।