অণুগল্পে নীল নক্ষত্র

হেব্বি ক্যাচাল

ভাদ্রের শেষ দিনে স্বর্গে হেব্বি ক্যাচাল।

মোবাইল কার আন্ডারে ?
বাবা বিশ্বকর্মা না মা সরস্বতীর!

সরস্বতীর অত জোর নেই ‌এখন। উনি
তার ছোট ভাই কার্তিকের মতো প্রায় অপাঙক্তেয় হতে বসেছেন। গণেশ দাদার পেটটি যতই নাদা হোক না কেন গণেশ চতুর্থী রমরমিয়ে চলছে আরবসাগরের
পাড় থেকে বঙ্গোপসাগরের পাড় পর্যন্ত। হৈ ,হৈ রৈ,রৈ করে চলছে।

সারা বছর ধরে লক্ষীদিদির ঠাট বাট বেশ ভালই। এই সুবাদে গ্রামে গঞ্জে কত বাপ,মা সোহাগ করে তাদের মেয়ের নাম রেখেছে বেস্পতি শুধু দিনটাকে মনে রাখার জন্য। ভুলে গেলেই সর্বনাশ। লক্ষীদিদি যে বড় চঞ্চলা সে কথা কে না আর জানে। এর সাথে কোজাগরী পূর্ণিমা ,সে তো এক বিশাল ব্যাপার।

স্বর্গের রাজাধিরাজ ইন্দ্রদেবের কাছে শেষ পর্যন্ত আর্জি জানাতে বাধ্য হতে হয়েছে মা সরস্বতীকে। ইন্দ্রদেব আশ্বস্ত করেছেন এই বলে যে এই বছরেই আসন সংরক্ষণের কথা বিবেচনা করে দেখা হবে বিদ্যাদেবীর স্নেহভাজন ভক্তকুলের জন্য।

এই বছরে মাধ্যমিকে ছিয়াত্তর জন প্রথম স্থান অধিকার করেছে ভাল কথা , তবে সে তো সব অনলাইনের বদান্যতায়। এখন থেকে সবাই প্রথম। কারোর বাবা , মা তার ছেলে মেয়েকে বলবে না আর “প্রথম হতে পারলি না তুই।” আজকালকার ছেলেমেয়েরা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে।

ওদের দেখে এখন সত্যি আমার খুব হিংসে হয় । এখন যদি জন্মাতাম কতো ভালোই না হতো। পুস্তক প্রকাশনী সংস্থার কাছ থেকে অ্যাড দেওয়ার চান্স পেয়ে যেতাম। পড়ি আর না পড়ি শুধু, বলতে হতো আমার এই সাফল্যের পিছনে এই প্রকাশনীর সহায়িকার দান অনস্বীকার্য। সরস্বতী, বিশ্বকর্মার নাম তখন কেউ মুখেই আনতো না। এখানে গণেশ দাদার কিছু জারিজুরি নিশ্চয়ই আছে। সিদ্ধিদাতা বলে কথা। সে কি এমনি এমনি। তবে আমার মতো কুচুটে লোকের মনে হতেই পারে ছিয়াত্তরের মাঝে মন্বন্তরের কথা। দু’টো কথা কাঁঠালের আঠার মতো লেগে আছে, এ আঠা লাগলে পরে ছাড়ে না এ কথা বলে গেছে ও পাড়ার পূর্ণ বাউল।

সকাল থেকে আজ আবার পবনদেব কাঠি করা শুরু করে দিয়েছে সকাল থেকে। সারাদিন শুধু বৃষ্টি, বৃষ্টি আর বৃষ্টি। বিশ্বকর্মার হাতে পেটকাটি চাঁদিয়াল সারাদিন শুধু ঝুলে রইলো, নীল আকাশের নিচে ওড়াউড়ী আর হলো না তার। লাটাই হাতে বোসেদের পুঁচকে ছেলেটা শুধু বসে রইল ছলছলে চোখে জানালার পাশে।

এর পরেও কিন্তু মানতে হবে বাবা বিশ্বকর্মার কেরামতি। অনলাইনে সব কিছু পাওয়া যাচ্ছে। শুধু আপনজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যাঙ্কের টাকার মতো হ্যাক হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। হ্যাকারদের সাথেও বাবা বিশকর্মার দহরম মহরমের কথা কে না জানে। কথায় আছে না “চোরকে বলে চুরি কর, গৃহস্থকে বলে সজাগ থাক”।

খুব সাবধান। “চাচা আপন প্রাণ বাঁচা”, “পেটে খেলে পিঠে সয়” গুরুজনদের সব কথা এখন মনে পড়ছে। স্বর্গের দিকে না তাকিয়ে এখন মর্ত্যভূমির দিকে তাকিয়ে দেখার খুব প্রয়োজন।মর্ত্যে মানুষ না থাকলে বাবা বিশ্বকর্মাই বলো আর মা সরস্বতীই বলো পুজো আর কেউ পাবে
না। তখন সব দেবা দেবী হাড়ে হাড়ে ঠিক টের পাবে কত ধানে কত চাল।

হুঁশিয়ার, হুঁশিয়ার।

জাগতে রহো, জাগতে রহো ।।

পুনশ্চ:- আশ্বিনের প্রথম শারদ প্রাতে জগজ্জননী মা দুর্গার অনুরোধে বিশ্বকর্মার পিতৃদেব ব্রহ্মা সাতসকালেই টুইট করে জানিয়ে দিয়েছেন সফটওয়্যার সরস্বতীর আর হার্ডওয়্যার বিশ্বকর্মার। আর কোন ক্যাচাল নয়।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।