সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ১২)

বাউল রাজা
তৃতীয় খন্ড ( দ্বাদশ পর্ব )
পদীপদাদা, তুমি ভাবতেছো বুঝি এতোদিন ধরে না আসার দোষটা বুজি তোমার। সেটা পকিত সত্যি নয় গো। আমার দিক তেকেই নিচ্চয় তোমারে দেকার জন্য সেরকমটা আকুলতা চিলো না। এই যে দেকতি পাচ্চো সমুদ্দুরের পানি পাড়ে এসে লুইটে পড়চে, সেকি আসলে সমুদ্দুরের পেমের কারণে? একেবারেই লয় গো। চাঁদ যদি কাছি দরে না টান দেয় তালেপরে সমুদ্দুরই বা কী আর পাড়ই বা কী?
আমি তখন কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। কানাইদার আদরের উষ্ণতা আর অশ্রুপাত আমাকে বাকরহিত করে দিয়েছে।
— ইনিই কি তোমার সেই আদরের ধন নাকি গো বাউলদা, পেন্নাম হই গো কত্তা, কতো ধরণের পেমের গানই না আমরা গাই, কিন্তু এরকম বিচিত্তর পেম কোনোদিনও দেকি নি গো, সেই দুপুর তেকে কারো কোনো কতাই কানে লিচ্ছে না গো। শুদু বলে কিনা, তোরা আজ কেউ আমারে জ্বালাসনি, আজ আমার পরাণের পদীপদাদা আসবে। কতোদিন পর যে তারে দেকপো! তা আমি বলি — তুমি নেমন্তন্ন দিয়েচো বুজি? বাউলনি কই? তারে বলো সে যেয়ে উনুনে মাংস পোলাও বসাক। উত্তরে কী বলেন জানেন গো কত্তা — কিষ্ণা মায়েরে তো প্যায়দা করে পাইটেচি। আর মাংস পোলাওএর এমন কী ঘেরাণ গো উদাস, তার ঘেরাণ আমি সাগরের ওপার তেকেও পাই গো।
মানুষটা সমানে বকরবকর করেই চলেছে। আর আমার কানে শুধু বেজে চলেছে — চাঁদ যদি কাছি ধরে টান না দেয় তালেপরে সমুদ্দুরই বা কী আর পাড়ই বা কী?
আমার এই যে এখানে আসা সেটা তাহলে কানাইদার কাছি ধরে টানার ফল!
সাধনমার্গের বিন্দুবিসর্গ আমার জানা নেই, কিন্তু যে সাধক কেবলমাত্র তার ইচ্ছাশক্তির জোড়ে অন্য একজনকে বাধ্য করতে পারেন টেনে নিয়ে আসতে কাছির সে টান যে কী মারাত্মক শক্তিশালী সেটা আমার চিন্তাভাবনারও অতীত।
— পদীপদাদা —
আমি নিশ্চুপ।
— আমার বড় অহংকার হয়ে গেচে গো। আমি আমার অজ্ঞানে বড্ড ক্ষমতার বড়াই করে ফেলেচি।
বলে কী মানুষটা! মানসিকতার কতোখানি জোর থাকলে নিজেই নিজের কৃতকর্মের এভাবে বিশ্লেষণ করতে পারেন!
— তবে এ কতাটা ঠিক, আজ কদিন দরে তোমারে বড্ড দেকতে ইচ্চে হচ্ছিলো। এরকমটা হয় না, যে দরো না কেন, কদিন দরে তোমার একটু বেগুনভাজা খেতে ইচ্চে হচ্ছে, একদিন দেকলে তোমার মা, তোমাকে বাজারের ফদ্দ দইরে দিলেন আর তাতে নেকা আছে দুকিলো বেগুনের কতা, সেইরকমটা আর কি।
সেই ভদ্রলোক আবার এগিয়ে এলেন, — বাজে কতা বোলো না কানাইদা, তুমি বলোনি যে, পদীপদাদা আইসবে বলে আজ এ সাজে সেজেচো? সে তালেপরে কিসের টান শুদোই?
ক্রমশ