কবিতায় জি কে নাথ

উৎসর্গ : কবি যশোধরা রায় চৌধুরী
(যশোধরা গাছের ছায়ায়)
একটানা সুখস্বপ্নের মতো বৃষ্টিশেষে
নিজস্ব কথায় পেকে ওঠা
পুরুষ্টু ফল পুঁতে রাখি শব্দহীন বল্গাহীনতায় ব্যবহৃত সংসারী শরীরের দিকে
মাটি চটে যাওয়া নিষ্ফল জলীয় আঙুলের নড়াচড়ার কাছে কোপানো আড়ালে বসে থাকা ধান্যশালিনী-বৈষ্ণব যেন আমার শুদ্ধ সম্পর্কজাত কেউ
নিমজ্জিত মেঘমাংসল মেধার তরলে সন্তান ঘোলা শ্রমনের প্রস্তরতায় লেগে ধূসরিমা এই গোধূলি সূর্যাস্তের গাঢ় চূর্ণ
উড়ে যাওয়া শিকড়-ছাইয়ে হাওয়ায় হাওয়ায়
ছেঁড়া ডুরে স্নানরতা শরীর ঢেকে যায় রক্তাভ প্রতিফলনে ধরা পড়া নিবিড় সজলতায় ক্রমে
হে নির্বাণ,
দু হাত বাড়াও তবে বিষাদ ও অশ্রুর দগ্ধতা নিয়ে এই ভিক্ষার অন্নে অন্নে
কান্নার শ্লোক লিখে উঠতে উঠতে উম্মাদিনী লক্ষী রং ছড়ায় একাকী —
অজস্র শ্রুতিশালিখ অতিক্রম করে যাদের শৈশব নেই
তারপর হারিয়ে যায় অতিক্রম করে শান্ত সুরভিত শরণার্থীরূপ শিশু পুনঃশ্রুতিময় শব্দঅঙ্কুরে
অনির্ণেয় ধূসর ওষ্ঠপুটে ঠিক এভাবেই নিজের কোমলতা ঝরা গভীরে আর্ত প্রত্ন প্রত্যয়ে সেই প্রসার কি আমাদের আছে ?
চিতাসন্নিধ মাথার উপর কিংবা পায়ের তলায় কুসুমিত শূন্য তলিয়ে যাওয়ার আগে শ্রান্ত উড়ে যায় সেই উদ্গত মাটি তার নতুন ভূপাতনযোগ্য ভবিষ্য
গায়ে লেগে উপমান হাওয়া ভাঙা সার্থক রুধিফুল
প্রার্থনা থেকে শ্রেয় নীরবতায় আমায় কেন ছেড়ে গেলে মর্মসত্তারাগ ?
ঠিক এভাবেই গভীরে
পাথরতটে হৃদয় অপসৃত বেহাগ
দুমুখো সাপের মতো বেঁচে থাকা কৌতুক ধরে এমন তৃষাতুর একই দিন যায় মানুষের চেয়ে ভাবা সব পূর্ণ ভূমিস্পর্শরেখায়
দারুণতর কাঙাল হলে মাতৃভাষা অঞ্জলি দেওয়ার মতো কোলে কি নারীরা মজা চর জাগা নদী রেখে গেছে ?
তেমনভাবেই স্বয়ংক্রিয় থেকে বায়ুশকুন পাকখাওয়া মাথার উপর
একটি মুহূর্ত অগ্নি বাক্যমালা , একটি ফুড়ুৎ বাতাস বাক্যমালা
এই লগ্নলতায় জড়ায় মৃত্যুর অধিক গৈরিক পলক
জন্ম বাঁধা মুখোমুখি মাটি ফুঁসে আকাশ
নন্দন মাথা ডোবে সেই অগ্নিহাড়ে
এভাবে রসাতলে
অস্তের ধুলোয় বুঝতে পেরে তরুণ উপচে উঠি খরস্রোত-চিহ্নে তোমার দিকে ছাই-ছায়ায়
আজন্মের কবি
সব ছেড়ে পাখির মতো জলবেগে ছোটে অন্তে লিখিত ঘর সংসার —-
লক্ষীশ্রী মুছে অঙ্গের দিন চলে গেছে
দেখি অযত্নের বাঁকা তীব্র শ্রীমাংস
জল দিলাম,
উপায়হীন যাও ভেসে পুরানো পিতলমেঘের বাসন
কীভাবে হাওয়ার চোখে আগুন ধুঁয়ে মৃত্যুজাল বুনে ঘুমন্ত সব পুষ্পঅভিঘাত রাখি ,
রাঙা আলোর মধ্যে শরীর পেরিয়ে ছইয়ের মধ্যে ঢেউ জাগরণ
কোথায় আছি বলো ?
কোথায় যাই বলো?
উপুড় হয়ে এ ওর সঙ্গে না থাকা
সূর্যের চিহ্নে শুধু দৈবাৎ
তৎকালীন রোগা হাঁ -এর উপর সাঁকো এপার ওপার —
পাতা দু চার মুষ্টির শরীরে প্রবেশ সেই ধূসর নিষেধ ,
সমস্ত বাইরে ছিলো তরুণ টাটকা জিভ
এভাবে একদিন একাকার স্বর্ণস্বপ্নের
সমান্যে ইঙ্গিত কুড়িয়ে পাওয়া
আবীর-অন্ধকারে দাঁতে নখে লেগে খুলে আসে জন্ম ছিন্ন বসন্তদিন
লাবণ্যরেখার সরল গায়ে জমা শান্ত উদাসীন
মেঘবৃষ্টির ছন্দ ফেটে স্ফুটমান সততায়
আগুন পা
সমস্ত অঞ্চল ডুবিয়ে চিকের খসখস বিশ্বাস ভুলে গেছো কি অসময়ের সহদেশদরা ?
যাও ঘুমানোর পথে নতুন বন্ধুরব করে
অপরূপ হয়ে পড়া নাচে তলিয়ে যায় একাকী নৃত্যের দিনকাল —জন্মসহোদর
ঝুলন সাজাও দয়াল,
রক্তহীন সুবর্ণ শূন্যে ওড়া হাজার দুপুরমহিষের পিঠে ভস্ম ফুরোনো ছাই হয়ে বিকেল মাঠে
দু হাত ছড়িয়ে সব গলির মাথায় মেঘ ভারে ঝুলে থাকে
আকন্দ মন অনাদরে স্রোতশ্চল
মাড়িয়ে যাই একফালি পদ্মস্পর্শে অসীম বসনাঞ্চল
গায়ের রঙ আমলকী আঁকা নীচে মিশে আছে অসীম ছেয়ে জলের কপাল ভেজা নৌকোপাঠী,
স্বপ্নের কথা শোনার মতো অনেক বিশদে মনে নেই ভাগ্যের পথিক তোমার কাছে রাখা পারাপারের দলে শ্রাবণ খোয়াই নীল অজানা কে এক মেয়ের ছন্ন আলো
উপড়ে আনা গ্রীষ্মবোধে চিরঅর্ধফল বেরোনো মাত্রই ন্যাংটো হয়ে
এইখানে
অশ্রুস্নানদোল অশ্রুস্নানদোল —অশ্রুরূপকুসুম
মনে আসা অকালরেখায় খুঁজতে যাওয়া বাতাসের অন্ধকার শাখায় অসাবধানী চোখের তলায় মুছে আসে বৃষ্টিধারার সূচিডানার প্রসারতা
আমি নিজের কোণে মেশা ভাঙা মুহূর্তের মুখটা বরণ করি
হে চন্দনডোবানো অন্ধকানাই
ঘুরে ঘুরে পাওয়া ছায়া খুঁজতে খুঁজতে নদী থেকেই পাড় ভেঙে যায়,
বিচ্ছেদে সম্পর্ক ভেদে উঠে দাঁড়াই জলপ্রতিম
অথচ বসুন্ধরার সেই ভেজা চূর্ণের ভেতর দিয়ে টলতে টলতে তখনো সেই বাদল-ঝুমঝুমি ভেসে যায়
নানান আবহাওয়ায় কখনও সখনও তৃপ্তিময়
বৈরাগী জন্মতিল জুড়ে সুচতুরভাবে মাটির বাতাসসরা ভেসে যায়
উত্তোলিত গোল হয়ে থাকা উচ্ছিদ্র বাতাস ধরি ছোরা গাঁথা দু হাত ভাসিয়ে
তোলপাড়
আগুনরক্তবমি করে পেট থেকে বেরিয়ে আসতে থাকা শব্দে সমেত দাউলণ্ঠন বাচ্চা
সামান্য হাওয়ায় তুচ্ছ গোলাকার ভিড় ক’রে অত ভিক্ষের কোলে তুমি কি উঠতে পারো সুরে ?
ভ্রমের ভুলে আমার দিকে চেয়ে দীঘিতে ভাসে সিঁড়িভাঙা রাতের চুল ছুঁয়ে শিকড়ে এ ওর আমার কথা কোনো এক জন্মদিনের
তবে এই সব থেকে এখন গান দেওয়া বাকির পথে পাখি করে বলো খুলে রাখা প্রত্যেক পাতায় তারাভরা স্নানের আগুনঝড়
সব সফল খেলায় ডানা থেকে খসে তুমি কি আমায় নিজের ছেড়ে দেওয়া বিদ্যুৎ এ দেখো অনেক জন্মপারের কাদা-পাথর-জলে সাঁতরে আসা প্রাণ
ভাসো সারাদেহে খানিক ঝুঁকে এমনিভাবেই ছড়ানো সবুজে নৌকো
সত্যের আদিতে স্ফুরিত জল ফেটে আলোড়িত উহ্য গোপন ভিতরে ভিতরে বয়ে নিয়ে যাই প্রাণের কথা উৎসব অস্তিত্বের রথ
পিছু পিছু তাকাই আকাশনীল পথে
জল ঢোলক ঘা দাও, মাথা নিচু রেখে ঝাঁকাই
ভেসে ওঠে ভরসা , সরল ভারসাম্যে ধুলোর হাত
ওড়ে মাটির গুঁড়োয় শুয়ে আলো কেটে ভবিষ্য
বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দুই টানে ঘিলুর অক্ষরের তীব্র নিঃশব্দের মাঠ ফুঁড়ে জ্যান্ত শিলা লাফিয়ে হাজার ফোঁটায় নামি আমার মধ্যে জেগে,
অভিকর্ষজ টানে ছিঁড়ে বেরিয়ে এসে একহীন পূর্বের দিকে অখন্ড প্রতিটি ইন্দ্রিয়
ভারি হয়ে উড়ন্ত হাওয়ার কণা থেকে জন্মবিন্দু দানা থেকে ঠিক অস্তপ্রণালীর ভিতর ঘুরে দেখা ধ্বনিতে স্তব্ধ কত উঁচু সেই হরিণঅনন্ত
দিগন্তের দিকে মিলিয়ে গলন্ত পাক খায় প্রাণপ্রবল এক অতিকায় ফোয়ারা এই লৌহউচ্চারণপুচ্ছ
অর্থহীন হাতে দুলতে দুলতে জলজ নৌকো উপরকার সম্পূর্ণে
কোন দিকে ?
চিহ্নিত কি পাতার গায়ে ব্যবহার করা টুকরো বিকৃত আগ্নেয়হাত
সত্য বন্ধুহীন পাশে দাঁড়িয়ে ফিরে আছি আয়ুরপ্রান্তে অপর খড়্গে এই জলের শেষ সূচিত যা কিছু ধাবমান নিঃসংশয় অশরীর
ধংসের পাশে ফাটলে ফাটলে
শান্ত করে ফেলতে পারি হঠাৎ কিছু দীর্ঘতম হৃদয়জলশস্যফলন আলো দংশায়
হা হা বাণ ঢালো শুকনো হয়ে অতিশীপর মুখ
দু’বেলা ঐশ্বর্যের এইসব আগুন অভ্যাসে সনাতন
মজা মুষলশরীরের স্রোত তোলো প্রকৃতপ্রস্তাব
এফোঁড় ওফোঁড়
পরমমাংস সমূহ স্নানের মেয়ে
নকশাদেহ খোঁজা অঘোর মোহকরতল নাচে
তারা খসে শূন্য থরো থরো বিন্যাস
মাটির শরীর শরীরের মাটি থেকে
পয়মন্ত সঠিক জাগতিক শরীরক্ষেত্র মহা সাঙাৎ
আগুন ছুঁড়ি এ ওর গায়ের উপর দিয়ে আস্থা
প্রতিভা খেলনা জাগ্রত সব
আয়ু ধার করা তৃণ-বুকে ভাসা বাসনার যে স্থলপদ্ম জিভ স্পর্শ করে
যদি জিগ্যেস করো আকুল
দেখি নির্বিঘ্নে আগুনমেঘ থেকে জন্মগাছ কেটে ফেলা হয়েছে
দুয়ারে দুয়ারে ঘুরি ঘূর্ণিত বলয় হাতে পৃথিবীর উদয়গহ্বর
পায়ের ফাঁকে আটকে নৈরাত্ম্যরীতি অনুযায়ী শব্দচিহ্ন
শিরা কেটে বসানো প্রস্তুত ফুঁড়ে উড়ে গেছে সূত্রের প্রকাশ্যে অমানী ঋণ
সমুদ্রের অন্ধকার রক্তের অতলে তারও নীচে পৃথিবীর ব্যর্থ পিঠের উপরে লোহাস্তর
ভ্রূণ খেয়ে ডোবা নৌকা নিয়ে কেন হেঁটেছ অতীত তবে নিঃসঙ্গের মতো লোকঅন্তর ?
দৃষ্টি পেলে শিল্পরূপে নিচু হয়ে ছিন্ন আমাদের নিহত বুক থেকে অবাধ ভূমির বিস্তারব্যাপী হাওয়ার কালোয় স্নায়ু ফেটে রক্তে
আরম্ভ রাঙা শস্যভাষার সরলজল দিয়ে তৈরি করতে ঘুমের মধ্যেকার জলে দৈবচোখপুষ্প স্পর্শ করে
সশস্ত্র ছায়াঞ্চল পিছনে ফেলে ছোট হয়ে আসে ধুলোর মতো খেলা লিখে চক্কর কেটে
সমস্তই হয়ত মনোহর হাত !
সবকিছুর মধ্যে বেরিয়ে পাক মারছে শবশকুন পেট্রলকুণ্ডে
নেমে এসে নরক নদী গর্ভে পান করো চিত্রস্থ
বুক চিরে অস্থি ছাড়া সীমানা বর্ষাপ্রয়োগ
হৃদকাজলের শাঁস তুলে আলো দেওয়া স্নানের মুখে রক্তকণ্টকাকীর্ণ কন্যার জলভরা আগুনধূলিকণা
রক্ত খেয়ে ভেসে যাও স্বআয়ু দূরাগত স্বর
সহস্র কৃপার জল হও , অন্তত কৃপার মাটি হও
শুদ্ধতায় বেজে গেছে বহুকল্পশিল্পমুখের যমুনা রীতি
অঝোর ফুর্তি তুলে পায়ের তলার থেকে একদাগ মাটি কেড়ে পা এসো লিপিবদ্ধ বিভাসে পূণ্যফল ,
কী জানি কেন অর্ধেক ঘুরে চোখের অক্ষরে ছাই হয়ে গেছে অনেক গোধূলিজাত স্বজন নিঃশ্বাসে তৃষ্ণা
মাটির দিকে দিনগুলো যেতে চাইলে বিষের অনুগ্রহ ভাঁড় ভেসে ওঠে প্রারম্ভে সন্ধ্যামণি
প্রতি আমার নৈঃশব্দে অসম্ভব তাকিয়েছ সর্বস্বে ওষ্ঠহারা
অন্ধকার ঢাকা মনবস্তুপিণ্ডে তুলে দেওয়া ছাড়া নিশ্চিত এইটুকুই ক্ষয়শীল যৌনতন্তু —
প্রণয়ভূক অপরে বেলা বাড়ার উপর মুন্ড লাফিয়ে লাফিয়ে উঠলে ক্রোধক্রিয়ায় অস্ত যায় পরমুখাপেক্ষী সন্দেশকৃষকের স্বার্থে দাঁড়ানো লাঙ্গলহীন অস্ত্রের বিবেক
হাত পাতো অগ্নি মুখে উড়ে , হাতের তালু মোছা কররেখায় মাতৃহাওয়ায় শুকিয়ে গেছে পিপাসা
নাড়িভুঁড়ি ফাঁসিয়ে বিদীর্ণ পাথরপেট ঠুকে জলের মাথা
বিদ্যুৎ এ ভেসে থাকা সমস্ত প্রাণজল ছেয়ে গেছে ভরে ওঠা বিষাদে গড়া সদজন্তুর লাট্টুর মতো দৈবাৎ ঘটায় যত মাটি ওঠে তা অশ্রু
ফুঁ
গুমরে ওঠে ভিক্ষান্নে ব্রাহ্মণবৃষ্টিপাত –লগ্ন ফোটা আগুন কৃতকাজ , সমর্পণ
তুমি লিখিত হয়ে আছো প্রজাতির অসম্ভব বজ্রপ্রলাপ
স্বতঃনশ্চল ভেঙে দাও শৃঙ্খল পদে তরুণ কাঙালখুকু
ভূআলোর ডালে বেঁধে দেওয়া একমুষ্টি হাতের নিঃস্বতায় এবার আসুক যত লোকঅরণ্যজাত সব হাওয়া মেয়ে শব্দ থেকে ধুলো তুলে উড়োঢেউয়ে প্রচন্ড কী এক ঘুমের তলায় আমার শিরে যা ঘর করে আসা স্বাভাবিক ছেড়ে আমায় নিলো অজানা স্থির ভাষাপুষ্পশাখা,
যে তাকায় তার ভারে ঘুমন্ত সারলবার্গীয় চোখের এক জল গড়িয়ে নিচ্ছে
চলো সহজ মাধ্যমের মাটি পথ,
ধরো সরল পাঠের শব্দে ভূমি বপনের আগুনে দগ্ধ পা
পায়ে পেরিয়ে যাওয়া রাত্রির কী নদী বাঁক ভেজাও হরি-হৃদে তবে
বাতাসঝারিতে যার আরম্ভ সেই প্রাণ হয়তো পাশ ফিরে নিঃশব্দে অক্ষআগুনে নেওয়া সমস্ত শরীর হয়ে গেছে ভেসে
সামান্য একটু ছোঁয়ার বদলে আমার নীচে ভেসে গেছে অর্ধখোলা মৃত্যু
এসো দেখো বাষ্পকরা স্বদেশাকুল ঐক্যআঙুল যা কখনো শিখে গেছে নেই দিনগুলোর ছাপে সদ্য সমাপ্ত লুকিয়ে পড়া কে কার খ্যাপাটে তাই দেখে দূর বাক্যে লেখো চন্দনমূলক গোপন মূকপুলক দেহবনরত্নরাশি—-
চিরজীবিত বহন করো তবে
জরা জন্মের পিঁপড়েগোপন ভেতর সব অতীত দূর জীবনের মৌলিকধাতুবৃষ্টির প্রতি প্রতিমা আয়ুর উতরোল
ফোঁটায় ভাসিয়ে তোলো অসম্ভব কখন কোথায় ওই কাঁপা কাঁপা দ্রবীভূত প্রাণপায়েসের সূক্ষ এতগুলো ঊর্ধ্বতন একটু আধটু বাতাসের দৃষ্টি
স্থলিত অনুতাপে শিউরে বিদ্যুৎ অনেক পরের কে বলবে মুহূর্ত একেবারে স্বচ্যুত
বাস্তবসন্ত সমস্ত চেপে ধরো, ধ্রুবপদের মতো ঘুরে ঘুরে তুষার উঠে এলো যা কিছু যাত্রার অনাগত পত্রপুষ্পিত
নাও আলো গত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মধ্যিখানে ধোঁয়া রাঙা লাল
ছেড়ে কী দেবে ঝাউবেলায় কিংবা অন্য কোনোখানে ?
মৃতার্থ খাদ্যপ্রায় ক্ষুধা দেখাও বর্ণে,
চাঁদের নয় রুটির গভীরে আমরণ অন্ধকার অস্তিত্ব
গলগ্রহ কুড়িয়ে পাওয়া জলের ফুলে তোমার অংশ
অন্ধকার তবে স্রোতে চূর্ণিত অপেক্ষমান পরাস্ত স্বপ্নহাত
ছায়া শুনিয়ে ছায়া করে বাড়ি ফেরা ছায়ায় ভ্রূণশস্য ভাবনার তিলার্ধ আপনজন বৃষ্টি দিয়ে ধুয়ে ফেলে সন্ধের পড়শী ছাদ
এসবে ভালো লাগা কড়ি ভেসে আসে নিয়তি আড়াল বাহুল্যে এমনই বহুদূর যাতে চোখে না লাগা বিদ্যুৎ অব্দি পুঁতে শূন্যের তীব্র হরণ
পারাপারে সকল কলুষ নিজের উল্টে গিয়ে নিজের কাছে পাল্টা ডাক ওঠা বালুমাটিকণায় জ্বলে ওঠে চূড়ান্ত স্মরণযোগ্য বাতাসের যৌনঘড়া
যদি স্বাদসহজ যা জলের উপরে রণসফলতা তুলে সেইসব খাদ্যথালায় ভেবে নাও সবুজ শক্ত অবস্থানে একছিটে এই খন্ড তৃষ্ণা তৃপ্ত
গরম কাঁচা গর্ভে বিলীন ভাড়ার ঘরে ধীরে জমে ওঠা মাতৃসুখে উলঙ্গ কিশোরী শব্দের বাতাসা লুটোয় ,
একগুচ্ছ নাড়ি ছিঁড়ে বিনিময় নিয়ে পৌঁছে যাওয়ার দিকে ফেরানো আমার ব্রহ্মকোটি ধান্যশীর্ষ থেকে হৃদাকাশ ছিটকে পড়ে অখন্ড ভাষার বর্ণে
টরিং ঠাং নেমে আসে স্ত্রীজাত পাইপ অন্ধকার অলিন্দে মজ্জার স্তর ঘাটতে রাশি রাশি বিশাল একটা বাজার ,
নরবাজারের উঠে আসা খনিজ তেলের কুয়ো কুয়াশার গুম করা রূপান্তরিত মুখে মুখে ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে সন্তানবন্দী লোকের মতো অবৈধ বস্তার সব সম্পর্কশাখায় ঘোরে কপালচক্র
নিঃঝুম বরফ দেওয়া ছায়াকুচির মধ্যে ঘিলুর কেজিতে দারুণ যত্ন সহ জীবিত ডানার অঙ্গ সংগঠনের তার মাটি নির্মিত জন্মদ্বার থেকে জেগে ওঠে অর্ধেকের নিটোল ধবধবে স্বচ্ছতার অন্য কেউ যদি বর্তমানের হৃত পুরুষ টলটলে
ছিন্ন করো, ধরো হাতের এই আমি যদি বাজাতে শেখা অনন্ত
তবে নাও তুলে ধরো চিরজাগরূক কল্পনা না করা স্বপ্নে শরীর সারিয়ে শরীরের তোলা আয়াসে চমৎকার কী ভালো ভুবনজবা,
ঘুমন্ত আর স্বপ্নাতুর জবার ধূ ধূ পাতা ছুঁয়ে স্তূপের নীচে গান আনার জন্য শীতমৈথুন
বীজমৃত্তিকা মাড়িয়ে পিষে ফেলা আগুনের ভেতর আমাদের উপশীষ,
মেঘের হাওয়া ধরে ডাকা সমুদ্রশুদ্ধু ভেতর ডুবে লাফিয়ে ছুটন্ত নক্ষত্রের মতো ঘূর্ণিচ্ছাসে সংযমময় ধান কেটে গেছে নিজের মধ্যে রাখা আলোতে অশ্রুর অধিক
তবে পাঁজরচূড়া খুঁড়ে ভেসে উঠি উৎক্ষিপ্ত দুই পা রেখে তারার মতো করে চন্দ্রপ্রাণপদার্থে গতি শতাব্দীর শূন্যে ভস্মমেঘপঙ্খী
ঘন অন্য এক গভীর জগতে আকুল কন্যাবৃষ্টির তলায় নৌকোকাক ভাত ছড়ালে সব হারানো মা চোখের কালো হয়ে গেছে এবং তার প্রবালতম আলো বেঁধে উৎসর্গবক্ষে ঢেউ ঝাঁকিয়ে উড়ন্ত বেজে যায় দিকহারানো তরঙ্গের তলায় সামান্য স্বজন
নির্গত ঘ্রাণের গ্রহণে লুটিয়ে পড়া ধুলোয় চিনতে পারা ছাপ পৌঁছে লিপিত উদ্ধারে শৃঙ্খলমুক্ত আজন্মের ফুটো কাঙাল উড়ে চল
বুঝতে পারা অনুভবে পাখি পাওয়া গ্রাম্য জলে বৃহৎ হইচই,
মাটির আগুনবাতাসে সহিংসতা-বাউলসংগীত
প্রহরে রাখো ভূমি
বহুমূল্য সব পংতি তবে তরুণ স্পন্দমান ভেঙে দাও, জ্ঞাতগুষ্টি দিতে পারা উড়াল আলোর প্রায় অন্ধ আকাশি কোলে আমার রং কালো চোরাকালের ঘরে অপূর্ব
খন্ড নিঃসাড় চেতনা ম্লান করে এগিয়ে যাচ্ছে বাতাসটানা গরম মেঘের তলায় স্বপ্নবিষভোগ,
ভোগে একদম নদীগাড়ি থেকে সবার অলক্ষ্যে ঝাপসা করে রাখা ধুলোয় ওড়া শূন্যের অর্ধদগ্ধ থেকে তুলে নিচ্ছি মাটির গুঁড়ো থেকে অগ্নিবালক ভোজনের ঝকঝকে পেটকাটা নিত্যশরীর
বন্ধুতা ছুঁড়ে দেই প্রভুমাটি পৃথিবীর বাইরে স্বর-চরাচর ,
প্রত্নগুপ্তচাঁদঘাতকের ভেতকার নিম্নদেশ থেকে তারই বিষাক্ত জলের লিপ্ত আকাশ-মগজ,
হঠাৎ যেন বা কোনো তন্দ্রা-মগজের ভেতরকার দেখিয়ে দেওয়া ভূখামারে খেটে চোরা আলো বয়ে নিতে গিয়ে দেখি মৃত আগ্নেয়অমৃতের খনিজগিরি থেকে ছাপিয়ে পড়ে সুরুৎ
উড়ন্ত না দেখা আমার ডানার বিশালে সেই ডানাকল্পের শূন্যে গতি চাপিয়ে উঠেছি তাড়া খাওয়া কীসের পিঠে বুঝতেই শূন্য শূন্যের পৃষ্ঠে প্রকান্ত অতিকায় নক্ষত্রের হলকায় উড়ে গেছে ছুটির দিনগুলো,
অনির্ণেয় প্রতিদিন থেকে সংক্ষিপ্ত হয়ে আসে ক্ষত মুছে কখনও নির্ণীয় তার ভেতর প্রায় খুব গোপনে বসে যায় ক্রমে সমস্তই
তিলে তিলে ক্ষীণ রোদে পুড়ে হয়তো-বা জন্মের স্নান করে রেখে আসি অচেনা পায়ে পায়ে ও দূর এবার সরিয়ে নিয়ে কথার কাছে ভেসে পড় জলে
ভিজে জলে বজ্রনীল আমার সাথে উড়ে এনেছি থালা পেতে হাওয়া তৈরি গন্ধে ছেলেমেয়ে বানানো খেলনা অস্ত্র শত্রু রাঙানো এ কবিতা ছায়া জানানো
রৌদ্রে , তাতে ধুয়ে বারবারই মৃত্যুর ভেতর টুকরো শূন্যের মাংসচক্র
আপনভোলা রাখাল নেওয়া মেজাজের পট থেকেই চুল্লু হাতে ধরা কৃষ্ণভাতের বছর ধরে রাখা ময়ূর খোঁজে নাবালক হাতে দুপুরের কবি বজ্রঘুমের ঘোরসম্ভব শুধু
নিঃশ্বাসে অদৃষ্ট ফেলে রেখে চলে আসা গৃহীক্ষণ ফুটে ওঠে সনাতনরূপে অবতীর্ণ বিদ্যুৎ করা ছেলেদের নিয়ত ঋদ্ধপক্ষে
সিদ্ধাকামী অগ্নিতে উড়ে গেছে অস্ত্রহীন রান্নার গর্ভজলশব্দ ক্রমে
তারাবর্ণমাছ গড়িয়ে নিচ্ছে জ্বলন্ত পূর্ণের উজানে জলবায়ুশিশু আহার
মুখঢাকা হা পিত্যেশে স্রোতের শূন্যে উড়ে ছিটকে গিয়ে পাথরে পাথরে অবিরল বিছিন্ন জীবন
আর নীচু মৃৎবৃন্তমুখ কিনা কুষ্ঠজলে,
ফুটে উঠেছে মোহ ঝিলে
ব্রহ্ম-ডালিম ভোরের শিকড়ে
শুধু এইটুকুই স্নান-উৎস
নাচনিদের একহাত মাটি ধরে অল্প উল্টো হাওয়ায় নিরালম্ব বুক রোঁয়া ওঠা
মলাটে —
ভেঙে ভেঙে পড়ে স্রোতমলাটে চাকা ঘোরা ভোঁ ভোঁ
দেশভাগলোভী অযুত শস্য সিক্ত বিস্ময়ে পুণ্য
আদিম জলের লেচি ভেসে যায় যেন নিরাকার কালো বাষ্প-ত্বকের নীচে
জলীয় কত অসহায় হয়ে জেনে যাওয়া সরল এই মানুষীর ম্লানপ্রাপ্ত ভাটিয়ালি প্রান্তর
পার হয়ে আসা ভূগর্ভস্থ জল টেনে স্বয়ং জলদগর্ভ হরফের খোসায় ঘোরে হাহাকার-লালচে গাঙ শুধু
ভাঙা খালি পড়ে থাকার স্থির অদূরে গড়ানো স্তব্ধ সংসারে
জলশূন্য খাঁ খাঁ
জীবনপাত্র
ঠুকরে যায় কে তবে ডাইনি অন্তর্লীন!
দেখি একটু পৃথিবী ছাড়া ভাষা হিংসা অহংকার লোভ ন্যায় তুলে আনে
আমাদের জন্মের শৈশব
ঘুমন্ত মুখের সামনে বাধাহীন কুহক
তবে শব্দ ঘিরে পড়তে দাও
নিজেকে ছুঁড়ে পড়তে চাই
পাতায় ঢাকা অসমাপ্ত নারী,
স্বপ্ন দাও সরল
এটা ওটা দেখানো অবধি সমানে নন্দিত প্রাকৃতিকদৃষ্টিবিনিময়ে জাগ্রত হেমন্তে ঝাঁকে ঝাঁকে শুনতে পাই মানুষশূন্য নির্যাসে অভিষিক্ত স্মৃতি চমকিত
কখনও যাইনি অথচ কখনও কখনও আমার কাছে স্বয়ংভূ জোছনা গায়ে হ্রদআগুনের হলুদ মাখি
জীবন বুঝেছি অর্ধ আমার দিকে সরিয়ে মৃত সব নিশানবাহী
সিন্ধুবিধ্বস্ত ঝাঁপ দেই আরও মরশুমি দূরে …
জীবন ফেলে অন্য এক অগ্রসরী একই ধারা উড়ান
বিতাড়িত মায়ের ভেতর থেকে অভিন্ন
বিচূর্ণ আমি খুশি তাতে উধাও চুনকামওয়ালা
আমরণ শীতল কালো ভিতরে শুয়ে আমার মধ্যে পিচঢালা
বিদ্রুপ!
মারণমুখী শৈলীতে একাকার ম্লানমলিন সন্তানের ভেতর বসে বাতিল করে আরও সহজে তেজি দেখাচ্ছে দৃপ্ত এখনও তার তৃষিতের
এমুখে ওমুখে গুল্মশিলা বিমূঢ়
বিষণ্ণ আগুনকণা
সদগতি হোক !
বিদ্যুৎরোদে হালকা মুখ তোলো
সংসারে বসন্তে নুনে
পলাশ-নক্ষত্র হোক -অংশভাক
জলের সুষমার সব তোমার হোক অশ্রুপাত
আত্মখননের
শায়িত ছায়া-রোদ মাখা নিরস্ত দেহে
ঝরে
ঝর্ণার স্বচ্ছ জল
উম্মুক্ত
নিরঙ্কুশ
ঘন
পিপাসু হৃদয়প্রিয় আজন্ম নিমগ্ন হয়ে পূর্ণপাণি রেখো রূপায়ণে,
মহাবৃক্ষফোঁটায়
ঝরে ধ্যানসংহিতা
গান হয়ে ভাসে শান্তির মগ্ন ভাষায় সরল রোদের রেখায়
মন্ত্র সুরভিত অপার্থিব ভাসিয়ে দিচ্ছে সহজ পাঠের সবুজ গন্ধ
আজকাল নির্ভর
ফেটে যায়
বৃষ্টিহারা নিঃসঙ্গ হয়ে ছায়া পড়া
অনাহুত নগর জুড়ে অমৃতকাতর অতলহৃদি কেঁপে ওঠে নিহিত শ্যামশিরায়
সমস্ত প্রবেশ
শূন্যের ভিতরে
শূন্যতাবিহীন মুখের দিকে আমার প্রণাম
পায়ে পায়ে উঠে ধ্বনির ঘট ভেঙে প্রবাহ খুলি মুছে—-
উৎসর্গবিহীন অভিযাত্রীকের মতো নিজে পুড়ে নত হয়ে আছে এইখানে
অথচ কী আশ্চর্য উড়ে যাওয়া শব্দে হলো স্মৃতি শুধু
শ্রুতিহীন ছায়ায় ছড়িয়ে পড়ে অমীমাংসিত সত্তা
সংলাপ হয়ে ওঠে
অসমাপ্ত সমস্ত নশ্বর হাত, ধূপের মতো শূন্যের ভেতর কথা নেই , কথায় কথায় শুশ্রূষা ঢেউয়ে ঢেউয়ে
সংযোগহীন এই মেঘাচ্ছন্ন সমুদ্র রঙে দগ্ধ
আমাদেরই ছুঁতে যেন সৌন্দর্য সবুজ অসম্পূর্ণ
ভূনিহিত অনন্ত সব সাজ খুলে সংসার-কৃষ্ণ
মধ্য জলে নিয়ে চলো ঘরে
সমূহ দূরের থেকে যেখানেই যাই দেখি অনেকটা হ্রাস পায় অনিশ্চিত উদ্যত বৃষ্টিময় বিবেক
একাকী থেকে উঠে এসে নিজেই নিজেকে কতটুকু করতে পারি করোটি নিয়ে
শেষহীন নামো বাঁধা পায়ে তুমুল জন্মের ভেজা দিন এমন
হৃদয়রহিত ভাষায় জলের প্রভা যেন অর্গল অগ্নি-খরস্রোতা
ভুগোলহীন সতত ধাবমান অবহেলার মতো পলায়নপর প্রকৃতির অন্তর্ধান ঠেলে ওঠা অজ্ঞাত দ্রোহে কি বাতিল সন্তান ?
অনাথের চেয়ে ভালো যে বাল্য বাড়িঘর আদৌ নয় আসলে পরিত্রাতাবিহীন নিগড় –জন্ম পোঁতা পড়ন্ত ঢেঁকি
গাল কাটা কাটা খয়েরি পরিশ্রমী মুখে পুরানো অভ্যেস পুড়ে অক্ষর বেঁকে গেলে শব্দের নাব্যতায় তুষারহীন একটা দিন খাদ্যের ছায়াবাহক
ছড়িয়ে ফেটে পড়ে পরিত্যক্ত হলদে রোদের গায়ে অস্তিত্বের আদি বীজ যে কোনো অবস্থায়
তৃষ্ণা গাঢ় হয়ে এলে শুকিয়ে আসা স্তব্ধতার শিরার চারপাশ অনেকদিন ঘোরা ভোঁতা অনুভূতির শীর্ষে খোদাই করুণা আকারে বাঁধা আমাদের কথালিঙ্গ রূপ
শব্দ ভাঙা বাংলা বোতল সমেত সুর ও শরীর ডুবিয়ে ভেতর জঙ্গলে দাঁড়িয়ে আছি এখন অজস্র দীর্ঘশ্বাস প্রবণতায়
কাটাকুটি বর্ণের পাশে হৃদমাটিচলাচল সংগ্রহে নড়ে অগ্নিফাতনা,
গুঢ় ভাষা স্পষ্ট হয়ে ওঠে নিজস্ব মৃদু স্তরীভূত ধাতব দাঁতে দাঁত
অথচ সাক্ষী অবগাহন পেরোনো
না ভাষার দিকে ব্রতকথাসুলভ এই ভুবনসাগর মেয়ে ধরার ফাঁদ !