কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে রবীন জাকারিয়া

বড্ড ভাঙচুরে আমি
ভীষণ ভাঙচুরে আমি—
ছেলেবেলায় প্রিয় খেলনাগুলো ভেঙে ফেলতাম,
পুতুল, পিস্তল কিংবা গাড়ি ভেঙে গভীরের সন্ধান করেছি প্রতিনিয়ত ৷
ভেঙে ভেঙের অবশিষ্ট থেকে যেত একটা স্ক্রু অথবা বল্টু৷
এরপর আর বিভাজিত না করার যাতনা অস্থির করত আমায়৷
তখন বুঝিনি এর চেয়ে বিভাজ্য হয় না কিছুই
যেমন পদার্থকে ভেঙে ভেঙে অণু, পরমাণু কিংবা ইলেক্ট্রন, নিউট্রন, প্রোটন-এ থেমে যায় পদার্থবিদ;
বায়োলজিস্টরা থেমে যায় প্রাণের উৎস প্রোটোপ্লাজমে এসে৷
তবুও আরো ভাঙতে চাই ভাঙচুরে আমি—
প্রথা ভাঙ্গি, সমাজ, বিধান, ধর্মীয় মূল্যবোধ বাদ দেই না কিছুই৷
নারীর হিজাব থেকে ব্লাউজ, তারপর শাড়ি
অথবা বানাতে চাই টপলেস;
প্রথা ভাঙবোই বলে—
ভাঙচুরে আমি ভেঙে ফেলি
কবিতার পংক্তিমালা, শব্দ চয়ন,
আবৃত অঙ্গের বাহুল্য ব্যবহার৷
আমি মানি না শ্লীল-অশ্লীলতার কাঠামো!
অতপর আফ্রিকার গহীন অরণ্যে বসবাসরত গোষ্ঠীভিত্তিক টপলেস সমাজের ছবি দেখে
আঁতকে ওঠা আমি বলে উঠি অসভ্য.,.
মনের অজান্তেই নিজেকে দৈতস্বত্ত্বার অধিকারী মনে হয়৷
যে মানদণ্ডে কাউকে অসভ্য বলছি অথচ আমি সভ্যকে অসভ্যতার আবরণে আবৃত করছি নিত্য৷
জেগে ওঠে শাশ্বত সত্য, মানবিক চেতনা৷
ভাঙার শেষ বিন্দুতে গিয়ে আর
ভাঙা যায় না কিছুই৷
ইচ্ছে করলেও নয়৷
নিজেকে ভাঙচুরে বানালেও
সমাজ ভাঙচুরে নয় কখনো৷