কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে গোলাম কবির

বেঁচে থাকার অভিনয়ে

কোনো কোনো গান শুনলে এখনো
বুকের ভিতরে তোলপাড় করে
উত্তাল সাগরের ঢেউ, মনেহয় কষ্টের
বিশাল জলরাশি যেনো আছড়ে পড়ছে
বুকের নরম পলিমাটিতে, এলোমেলো
করে দিচ্ছে মনন, ঘুণেধরা জগৎসংসার।

কোনো কোনো গান শুনলে এখনো
বিষণ্ণ দুপুরবেলা প্রখর রোদে কারো জন্য
অপেক্ষার না ফুরানো প্রহর গুলো
বিমূর্ত হয়ে ওঠে শিল্পীর ক্যানভাসে আঁকা
দূর্বোধ্য ছবির মতো একদমই হৃদগহীনে,
যে কষ্ট গুলো একসময় জমা হতে হতে
কঠিন শিলা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যেনো
ঘাস ও গাছপালাহীন ন্যাড়া একলা পাহাড়,
সেইসব কষ্ট গুলো মনে পড়ে যায় ভীষণ!

স্মৃতির জানালা খুললেই তখন গভীর
কুয়াশায় ঢেকে থাকা আনন্দের ঢেউ
খেলানো ময়ূরপঙ্খী নাওয়ের ভাসান
কিংবা বেদনার বিষনীল ধুতুরার পাতা
গুলো সব একসাথে বৈশাখী ঝড়ে
উড়ে এসে চোখ ঝাপসা করে ফেলে,
কান্নারা সব দলা পাকিয়ে গলা বন্ধ হয়ে
শ্বাস আটকে আসার উপক্রম করে !
কখনো স্মৃতির গাঙচিল মন একলাই
উড়তে থাকে উন্নিদ্র রাতে হৃদয়ের অতলে!

অথচ এই আমি কী সুন্দর হাসছি,
কখনো আবার কোনো উৎসবে মুখর
হয়ে উঠছি আনন্দে, সন্তানের সাথে
স্কুলে যাবার পথে গল্প করছি ভীষণ,
বেঁচে থাকার অভিনয়ে নিত্য প্রয়োজনে বাজারে যাচ্ছি,
চাল কিনছি, ডাল কিনছি,
জীবন কাটিয়ে দিচ্ছি জোরসে চলো
হেঁইয়ো হেঁইয়ো বলে মাঝিদের মতো!

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।