গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব – ৪৩)

নীল সবুজের লুকোচুরি
আপনাকে একটা ধন্যবাদ দিতে চাই। এমন অসময়ে কিছুক্ষণ অন্তত আমার কাছে ছিলেন বলে এটা আমার করা উচিৎ বলে আমি মনে করি। আসছি কেমন।” বলে মিঠি মায়ের কাছে যাবার জন্য উঠে পরে।
—–
এমন সময়ে মাদার মরিয়মের গাড়ি এদিকে আসতে দেখে মিঠি একটু দাঁড়িয়ে পরে। ক্যাম্পের হাসপাতালের সামনে এসে থামলে গাড়ি থেকে নেমে আসেন ডাক্তার আয়ান আনসারি। তিনি গিয়ে অন্য দিকের দরজা খুলে মাদারের হাত ধরে গাড়ি থেকে নামতে সাহায্য করেন। মিঠি এগিয়ে গিয়ে মাদারের হাত ধরে মায়ের কাছে যাবার জন্য ভেতরদিকে এগিয়ে যায়। ডাক্তার আনসারিও ওদের সাথে এগিয়ে চলেছেন। ডাক্তার সাহানা আখতার সবার পেছনে আসছেন। আজ মিঠির চোখের সামনে এমন এক একটা ঘটনা ঘটে চলেছে যা কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি। যেমন – আজ ওর মায়ের শরীরটা হঠাৎ করেই খারাপ হয়ে পড়ল। মিঠি কোনোদিন ভাবেইনি যে মায়েরও শরীর খারাপ হতে পারে! এখানকার আশ্রমিকরা এবং তার সাথে উপস্থিত ডাক্তারবাবুরা মিলে মাকে এখানে নিয়ে এসে জরুরী ভিত্তিতে ওষুধপত্র জোগাড় করে যেভাবে পরিস্থিতি সামলে দিলেন এটাও একটা অভাবনীয় ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। আর এখন মানে ঠিক এই মুহূর্তে মিঠির পরম শ্রদ্ধেয় ডাক্তার আয়ান আনসারির উপস্থিতি – সব মিলিয়ে যেন একটা ঘোরলাগা পরিস্থিতি মনে হচ্ছে। মিঠি ছোটবেলায় কতদিন ভেবেছে এই পৃথিবীতে মা ছাড়া ওর আর কেউ নেই। আপনজন কাকে বলে? তাদের সাথে কেমন সম্পর্ক হয় কিছুই জানতনা মিঠি। শুধু আশেপাশে কিছু মানুষ ছিলেন যাদের সাথে প্রতিদিনের প্রয়োজনেই যোগাযোগ ছিল। আর সেই ছোটবেলা থেকে একজনকেই সবসময় কাছে পেয়েছে মিঠি। তিনি হলেন ওর এবং ওর মায়ের গুরুস্থানীয় যার উপস্থিতিতে মনে ভরসা জাগে, মন শান্ত হয়। আপনাতে সমাহিত মন তখন বিরূপ পরিস্থিতিতেও সঠিক পথ খুঁজে পায়। সেই পরমপূজ্য মাতৃস্বরূপা মাদার মরিয়াম এখন ওর মায়ের কাছে এসে গেছেন। মিঠি জানে এবার সব বিপদ কেটে যাবে। মাদার সুমিতার মাথায় হাত রাখলে সুমিতার চোখ জলে ভরে যায়। মাদার ওকে আশ্বস্ত করেন চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে। নিজের হাতে ধরে থাকা “ক্রশ” সুমিতার মাথায় ছুঁইয়ে দিলেন পরম মমতায়। একটু দুরে ডাক্তার আনসারি অন্যান্য ডাক্তারদের সাথে কথা বলছেন। ডাক্তার সাহানা চুপ করে দুরে দাঁড়িয়ে অবাক চোখে ডাক্তার আনসারির দিকে তাকিয়ে আছেন। ডাক্তার দেশিকান আনসারি স্যারের সামনে একটা কাগজে রেখে তাতে কিছু লিখতে লিখতে কথা বলে চলেছেন। মাদারের জন্য একটা চেয়ারের খোঁজ করতে মিঠি এদিক ওদিক তাকাতেই বাইরে বসে থাকা ছেলেরা এগিয়ে আসে। ওরা সবসময়ই নজর রাখছে ডাক্তার ম্যাডামের প্রয়োজনের আর ওদের সাপোর্ট পেয়ে মিঠির মনে একটা নতুন আশা জেগে উঠেছে।
আসছি পরের পর্বে