সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে পিয়াংকী (সাবেক কথা – ১৮)

সাবেক কথা
দেরাজ
মহুয়া ফুলের গন্ধ অথবা ছাতিমের সুখ। একটা অশ্বত্থ গাছের নিচে তুমি দাঁড়িয়ে আছ, যা কিছু আলগা অথবা অশ্লীল, সূর্য ব্যক্তিগত হলে সেটুকুই আলিঙ্গন, হলদেটে মাখনরঙা চোখে সাদা কভুতর, দেরাজ-আশ্রয়। নদীসমান পরিত্রাণ। এখন অবসর, বিরতিভাঙা লুডোর ছকে সাপখেলা করে শত্রুজাত , সিঁড়ি আর উত্থান পতন পেরিয়ে বসে থাকি নৈঃশব্দ্যের গা ঘেঁষে, অনতিদূরে হ্রদের মত কিছু একটা , পিঠের কুঁজে নিজেরই প্রতিবিম্ব । ফেরীঘাটে নৌকা পবিত্র জল। স্পর্শটুকুই ভারী, ওজনে নির্ভরতা। জলছাপ বুকে কারা যেন এল ওই সখের দেরাজ ভাঙতে। ক্ষত’র বদলে ফুল ধরল যত্নের অর্কিডে। এতসবের পরও পৃথিবীর সবকিছু সুন্দর কারণ তুমি ছুঁয়ে আছ ভেতরের এই একরাজ্য পাখপাখালি।
কেন রাতের ওষুধে স্টেরয়েড অথবা বক্রেশ্বরে উষ্ণজল? পার্সোনিফিকেশন তাড়া করলেই জমাট বরফে কেন ঘুমঋতু আর অযথা লালশাড়ি? কারণ খোঁজা হয়নি কোনোদিন এসবের। কৃষ্ণ সম্মোহনের পাশেই কৃষক। চাষের জমি আর আনন্দধান।
সব দেরাজের গল্প থাকে না,কাহিনি থাকে না বিষণ্ণ আর্দ্র ত্বকের মত। বরং ছত্রাক জন্মালে সংক্রমণের তীব্র গতির আগেই লালন আসেন। আরশিতে বিড়াল কামড়ানোর আগেই তিনি রেখে যান উনুন আর কয়েকটি জ্বলন্ত শিক্। পর্দা সামান্য সরালেই আবছা কুয়াশায় ভেসে আসে জর্দা রঙের আলমারি আর প্রাচীন দেরাজ…
১৭ই পৌষ
সকাল ১০ঃ৩৭
ইছাপুরের বাড়ি