সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে পিয়াংকী (সাবেক কথা – ১৭)

সাবেক কথা

চৌকি

শেষ বিকেলের রোদ , শূন্য নির্মেদ তন্বী। উন্মত্ত ষাঁড়ের মতো আচমকা সে চোখেমুখে এসে লাগলে নির্দিষ্ট কোণে সমানুপাতিক বর্ষা নামে। সেই মধ্যপুরুষ যিনি এতকাল কাঠের পাটাতনে রাখা কঙ্কালসার জলের ঘটির দিকে ফিরেও তাকাননি কোনো শর্তে, নির্দ্বিধায় ফিরিয়ে দিয়েছেন গ্রীষ্মের তেষ্টা, সন্ন্যাসপথে পা বাড়িয়েও তিনিই আজ নিবিড়তায় ডুব দেন মধ্যযামের ওই সরল সহজ আটপৌরে প্রচ্ছায়ায়। দ্বীপের ভিতর অন্ধকার ঘনিষ্ঠ হলে ক্ষয়িষ্ণু চাঁদে গজিয়ে ওঠে ম্যানগ্রোভ । পঞ্চমীর দুপুরে ফেরীঘাটের শেষ সিঁড়িও জলে জলাকার হয়ে যায়। শেষ সূর্য জোড়বুকে ডুব দেয় অস্ত যাবার অছিলায়। অযথা অকারণ কোকিল ডাকে , কানের বাঁদিক ঘেঁষে চলে গেছে নিথর যে রেলপথ, ঋতুশ্রাবণ এলে সেখানের পাথর চাপা ঘাসে হলুদ ফুল ফোটে । গিজগিজে ভিড়ের ভিতরও তারা পরস্পর একা। চৌকিতে পরজন্মের সংসার। বাতাসে জলীয় বাষ্পের মতো, অলিতে-গলিতে দু’চাকার মতো, বিছানায় ঘুমের বড়ির মতো নিটোল ডিঙি। মাঝনদীতে জলস্রোত , মাঝির হাতে বৈঠা, তাঁর থরথর বুকে অদৃশ্য আঙুল, ভরসার ঘট আষ্টেপৃষ্টে জড়ানো হেমন্তের সিঁথি।

চৌকি একটি সভ্যতা , আজীবনকালের আশ্রয়। কলাপাতায় গরম দু’মুঠো নুনভাতের মতো অপরিহার্য অনুষঙ্গ। অনেক পোশাক তাঁর। ঢিলেঢালা অথবা রঙিন। আতরদানি, জলভরা ঘট, পূর্ণিমার চাঁদ, রজনীগন্ধার মালা সিঁদুরকৌটো অথবা স্নানঘরের শঙ্খলাগা সাপ।

রাজা আসেন, কে যেন তাঁকে আপ্যায়ন করে চৌকি পেতে দেয় আধভাঙ্গা কুঁড়েঘরে । পাখির শরীরে পালক বুনতে বুনতে তিনিই ওজনে বাড়িয়ে নেন একটি সার্থক ইহজন্ম

১১ ই অগ্রহায়ণ
দুপুর ১২ঃ৪১
দোতালার সিঁড়ি

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।