T3 শারদ সংখ্যা ২০২২ || তব অচিন্ত্য রূপ || বিশেষ সংখ্যায় উজ্জ্বল আচার্য

অর্জুন
হঠাৎ করেই বিয়ে ঠিক হয়ে গেল কমলার। কমলা স্কুলে পড়ে, কমলা ছাগল চরায়, কমলা গাছে উঠে আম পারে, কমলা হাডুডু খেলে, কমলা পুকুরে স্নান করে। বয়স আঠারো হলে কি হবে দেখতে একেবারে পূর্ণ যুবতী। বাবা মায়ের একমাত্র আদরের কন্যা।
করনার সময়ে রমেশের কাজ অনেক কমে গেছে। দিনমজুর রমেশের দিনগুজরান অসম্ভব হয়ে পড়েছে ইদানিং। কেমন করে খবর পায় পাশের গ্রামের রতন। সম্বন্ধ নিয়ে আসে। বিয়ে করে ব্যাঙ্গালোরে নিয়ে যাবে। খোঁজখবর অত নিতে পারেনা রমেশ।
রতনের কথায় সায় দিয়ে চার হাত এক করে দেয় রমেশ।
বিয়ের দু’দিন পর আরো পাঁচজন মজুরসহ রতন বউ নিয়ে পাড়ি দেয় ব্যাঙ্গালোর।
দুটি ঘর। পাশের ঘরে বউ বাচ্চা দেখে মাথায় বাজ পড়ে যায় কমলার। উচ্ছল হাসিখুশি কমলার সারা শরীরে হিম শীতল স্রোত বয়ে যায়। বিবাহিত রতন ঠকিয়ে বিয়ে করেছে কমলাকে।
পাশের ঘরে থাকার ব্যবস্থা হয় কমলার। পাঁচ জনের সাথে রাতে পার্টি হবে আজ।
– শুধু আজ আমার কমলা, কাল থেকে তোদের হয়ে যাবে কমলা সুন্দরী।
রতনের কথায় কমলার মনে হয় এ কোন নরক এসে পড়েছে সে।
একজন বলে উঠল- আরে গুরু, তোমার মত ঠিকাদার পেলে সারা জীবন গাঁথনি গেঁথে যেতে রাজি আছি।
আজ থেকেই পাঁচজনের রান্না করার দায়িত্ব পড়ে কমলার ওপর।
হঠাৎ একজনের আওয়াজে সম্বিৎ ফেরে কমলার।
-শোনো, আমার নাম অর্জুন, ভয় পেয়োনা। এখানে কিছু টাকা আছে, রাখো। স্টেশন কাছেই। পালিয়ে যাও এখান থেকে।
ধড়ে প্রাণ নিল কমলার। অর্জুনের হাত দুটি ধরে বলে- আমিতো কিছুই চিনি না। তুমি আমাকে নিয়ে যাবে এই নরক থেকে?
অর্জুন কমলার হাত দুটো শক্ত করে ধরে।