T3 শারদ সংখ্যা ২০২২ || তব অচিন্ত্য রূপ || বিশেষ সংখ্যায় শান্তা বন্দ্যোপাধ্যায়

‘মা আসছেন’
বর্ষার শেষে স্নিগ্ধ শরতের আগমন
নীলাকাশে পেঁজাতুলার মত মেঘ ভাসমান,
সকালের মিষ্টি রোদ জানান দেয়
দুর্গতিনাশিনী দেবী আসছেন সপরিবারে পিত্রালয়ে।
ঘাসে পড়ে থাকা শিউলি,সাদা গন্ধহীন কাশফুল, কিন্তু মন বলে-এ ফুল পুজোর গন্ধে ভরপুর।
গ্রাম থেকে শহর, শিশু থেকে বৃদ্ধ-
আপাময় বাঙালী
আনন্দে কাটায় দেবীআরাধনায়।
মহালয়দিবসে পিতৃপক্ষের অবসান
এ’দিনে মহিষাসুরমর্দিনীদেবীর
মর্ত্যাগমন।
মহালয়ার চণ্ডীপাঠে চিণ্ময়ীদেবীর মৃণ্ময়ীরূপের সূচনা
এইদিনে শারদপ্রভাত আনে মনে
আনন্দের বন্যা।
দেবী পার্বতীর অচিন্ত্য রূপ–তিনি
নবদুর্গারূপে আবির্ভূতা,
শরতের নবরাত্রির ন’দিনে দেবী ভিন্নরূপে পূজিতা।
দেবীপক্ষে নবদুর্গা নয়রূপে আরাধ্যা
কখনো তিনি ‘ শৈলপুত্রী ‘হিমালয়-কন্যা।
দেবী এখানে ত্রিশুল-কমলধারিণী
শৈলকন্যা তাই প্রসন্না শূলধারিণী।
‘বেদস্তত্তং তপো ব্রহ্ম’— ঊমা
দ্বিতীয়রূপে ‘ব্রহ্মচারিণী’,
অপরূপা দেবী জপমালা কমণ্ডলুধারিণী।
‘তুমি যে এসেছ দেবী মোর ভুবনে’
দশভুজা তুমি ‘চন্দ্রঘণ্টা’রূপে পূজ্যা।
পার্বতী সিংহবাহিনী অষ্টভুজা—
চতুর্থরূপে তিনি ‘কুষ্মাণ্ডা ‘ মাতা।
কার্তিকেয়র মাতা ‘স্কন্দমাতা’
পঞ্চমরূপে তিনি ত্রিনয়নী পদ্মাসনা।
ঋষি কাত্যায়নসুতা ‘কাত্যায়নী’
ষষ্ঠরূপে আবির্ভূতা সিংহবাহিনী।
সপ্তমরূপে ‘কালরাত্রি’ ভীষণদর্শনা
দেবীর কণ্ঠে যেন বিদ্যুতমালিকা।
ডমরুসহ হিমালয়কন্যা কৃষ্ণা
অষ্টমে মহাগৌরী, হস্তে বরাভয়মুদ্রা।
নবদুর্গার নবমরূপে ‘সিদ্ধিদাত্রী’
দেবী বরাভয়দায়িনী মাতৃমৃর্তি।
শারদীয়ার বাতাবরণে আমরা
খুঁজি কিশলয়-প্রসন্নতা,
উৎসবের দিনে ঝেড়ে ফেলি
পুরানো সীমাবদ্ধতা।।