সাহিত্য ভাষান্তরে বাসুদেব দাস

বুদ্ধের একমুঠো সরষের খোঁজে
নন্দসিং বরকলা
মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ
কাগজের নৌকোয় আমরা জলের মানুষ…ঘুরে বেড়িয়েছি মাটির খোঁজে
ওপরে উড়ছে জমিদার
ওপর থেকে দেখা যায় না মানুষের চোখের জল
মানুষ বেঁচে আছে সত্যিই কী বিস্ময়(!)
ফুল ফুটেছে হৃদয় আচ্ছন্ন করে
মাঠের মধ্য দিয়ে রেলের উকিতে শৈশবের উল্লাসের
বৃষ্টির রোদে রামধেনুর জন্য মেঘের কী উৎসুক চাহনি
একটা মাঠ চোখে দৌড়াতে চায়
তুলসির তলে জ্বালাই প্রদীপ… পর্যটক পাখির চিৎকারে
রঙিন হয় পৃথিবী…
বুদ্ধের একমুঠো সরষে খোঁজার যন্ত্রণা পুত্রের মৃত্যুর চেয়েও গভীর
আমাদেরই ক্তহা,আমাদেরই বন্যায় ডোবা জীবন ভেসে থাকা দিন-রাতকে
জমিদার রঙ দিয়েছে …দিয়েছে একমুঠো চাল
দেখ,দেখ আমাদের অর্ন্তদাহের জীবনের একমুঠো বুদ্ধের সরষের খোঁজে
একাকার করা পথ-শিলাময়,কাদাময়…
রোদের গান তপ্ত হলে মাটিতে নেমে আসে সূর্য
তিতো হয়ে রক্তে তিতো বাতাস এদিকে ওদিকে তখন
জমিদার নির্মাণ করে শিলের নগর আর অনেক আঁক-বাঁক
জলের মানুষ একই কোঁকানি,জমিদার শিলের নগরীতে
জলের মানুষের তন্দ্রাচ্ছন্ন মূঢ়তায় গাছগুলি হাসে
ছায়াযুদ্ধের জমিদার বারবার উড়ে জলের মানুষের সন্ধানে
বাতাসকে কিছু বলার জন্য
জমিদার দেখে না মানুষের চোখের জল,শোনে না কোঁকানি
পদূলিমুখে একজন মহিলার বিলাপ বুদ্ধের একমুঠো সরষের খোঁজে…