কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে নুসরাত রীপা

মৃত্যু
মৃত্যু আমাকে আর স্পর্শ করেনা আজকাল
কারো মৃত্যুর খবরে কষ্ট পাইনা এতটুকু
চোখে জল আসে না
বুকটা পাথরচাপা ভার হয়ে ওঠে না
কতজনকেই তো চলে যেতে দেখলাম শৈশব থেকে
হরি ধ্বনি তুলে পুস্পাচ্ছাদিত পাশের বাড়ীর অনীল বাবুকে শশ্মানে নিতে দেখলাম
ট্রাকে করে কাফনে মোড়ানো লাশ নিতে দেখেছি কত–
রাজপথে বিষাদ আতরের গন্ধ ছড়িয়ে চলে গেলে
মৃত্যু টা ভয় হয়ে ঠাঁই নিত মনে
কতগুলোদিন মৃত্যুর ভয়ে চলে যেত রাত- নিদ্রাহীন।
অথচ
কারো মৃত্যুই আমাকে আর স্পর্শ করে না আজকাল
যেদিন আইসিইউতে আম্মাকে দেখলাম একটু একটু কর নিশ্বাস থেমে যেতে
যেদিন আব্বাকে দেখলাম আইসিইউতে বোতল ভর্তি অক্সিজেন তার বুকে দিতে পারছে না একটুকু হাওয়া
যখন দেখলাম দ্রুতগামী যান নিমিষেই পিষে দেয় একটা পুরো পরিবার
একদল উচ্ছল তরুণ মুহূর্তেই হয়ে যায় মর্গের বাসিন্দা
নদীতে স্নান করতে গিয়ে কেউ কেউ মুহূর্তেই হয়ে যায় স্মৃতি
খুক খুক করে কাশতে কাশতে কোন অশতীপর বাঁচার আশা করতে করতে মৃত্যুর কাছে চলে যায়…
মৃত্যুটা বড় স্বাভাবিক লাগে আমার কাছে।
রোজকার স্নানাহার যেন কিংবা সামান্য কদিনের ভ্রমণযাত্রার মতো ক্ষণিক বিচ্ছেদ —
কারো মৃত্যুতে কোনো অনুভূতি জাগে না আজকাল
না দুঃখ, না বেদনা, না অভিমান কিংবা ক্ষেদ—