সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে পিয়াংকী (সাবেক কথা – ৯)

সাবেক কথা
হেঁশেল
গুমঘরে শুয়ে আছেন শ্রীমতী। পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে নিচুস্তর নদী, মাথাভাঙা এবড়োখেবড়ো পাহাড় অথবা আয়নার মত দেখতে হাজারো শ্রীমতির মুখ। সেই মুখের একদিকে হলুদ লেপা দেওয়াল, আরেকদিকে সৌদি আরবের তেলের খনি। শ্রীমতী হয়তো গান্ধারী নয়ত মহাশ্বেতা আবার হয়তবা এদের কেউ নন। তবু প্রতিটি শ্রীমতির নামে বরাদ্দ আছে নিজস্ব হেঁশেল। পাকশালা বলে ভুল নামে ডাকলে সেই হেঁশেল গর্জে ওঠে, মুসাফিরের মাথায় বাঁধা ফেট্টির মত, অপরিণত কদমের আধভাঙা টিয়া রঙের মতো অথবা হাঙরমুখী বালার প্রাপ্তবয়স্ক ওজনের মত তখনি দৃঢ় হয়ে ওঠে তার অষ্টাদশী কন্যারাশি। আকাশ হয়ে উড়ে যেতে যেতে আচমকা বৃষ্টির খবর আসে,আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে নেয় রান্নাঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ। দু’একখানা মুখ ভেসে ওঠে উনুনের ভেতর। কপালে ফোঁটা ফোঁটা ঘাম, বুকের কাপড় সরে গেছে লম্বকোণ হয়ে দেড় ডিগ্রি পূর্বে। একটা প্রজন্ম যেন এভাবেই খেলে বেড়াচ্ছে গুমঘরে।
ঘুম আসছে কেউ জেগে উঠছে কেউ বাজার যাচ্ছে কারোর হাতে মুদিসদাই…
হেঁশেল আজ লুপ্তির পথে কিন্তু লুপ্তির থেকে জেগে উঠছে একজন দুজন তিনজন অজস্র শ্রীমতির মুখ
৮ ই শ্রাবণ
দুপুর ১ঃ৪১
কল্যাণী শিল্পাঞ্চল প্ল্যাটফর্ম