কবিতায় স্বর্ণযুগে অমিতাভ সরকার (গুচ্ছ কবিতা)

কণিকা

আপনাকে ফোন করেছিলাম।
ফোনের রিংটা বেজে গেল অনেকক্ষণ ধরে। কেউ ধরল না। কিন্তু গানটা কানে বাজতে থাকল। এ মনের জল-মাটি-ঘাস বেয়ে ভাবনার মেঠো স্রোত ছাড়িয়ে আবেগ সে পাড়ি দিল অনেক দূরে দিগন্তের পথে। জীবনের এ বয়সে অনেক কাজ বেড়েছে, কিন্তু এখনও নিবিড় সুরের টানে হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও মনটা থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। রিংটা বাজতে বাজতে এক সময় রেকর্ডার বলে ওঠে, গ্রাহক এই মুহূর্তে আপনার কল গ্রহণ করতে সক্ষম হচ্ছেন না।

কথা হল না ঠিকই, তবে হৃদয়ে যে গান বেজে চলল, তার রেশ নিয়েই আবার কাজে ফেরা। সময়ের মেঘ বেলায়। মেঘ তো জমা-ই আছে। সেইভাবে বৃষ্টিটা হচ্ছে কই!

জীবনের কঠিন হিসাবগুলোকে কতকগুলো ছোট ছোট সহজ ভাগে ভাগ করে নিন। সাদা পাতায় বিষয়টা লেখা যতটা সহজ, আসল সময় কাজে করে দেখানো ততটা কিন্তু সহজ হবে না।
কিন্তু ধাপে ধাপে এগোলে অঙ্কটা সঠিকভাবে কষতে আর অসুবিধা হয় না।

পথে নামুন। ভুল হলে হবে। আবারও ঠিক করবেন। একসময় দেখবেন, ভুল অনেকটাই অন্তর্হিত। জানবেন, সময়ের হিসাবে সহজ কঠিন বলে কিছু হয় না। এখানে পা হড়কানোর জন্যে একটা গর্তই যথেষ্ট, তা সে রাস্তাটা মসৃণ বা এবড়োখেবড়ো যাই হোক না কেন!

ভাবনার রাস্তায় অনেকগুলো প্রাণী যাচ্ছে। সেই সাথে নানা বুদ্ধির মানুষ। চিন্তার চাপে বিশ্বাসের সাঁকোটা এই বুঝি সংস্কারের জল জমা খালে পড়ে গিয়ে বিপদ না ঘটায়। সরু রাস্তায় সামনে চলার ঝুঁকিটা বেশি, চলতে সাহসও লাগে। তবে একবার সুস্থ মানসিকতা আর গভীর আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগোলে আর থামতে হয় না। সবই প্র‍্যাক্টিস। ধনাত্মক সাধনাটাও একইভাবেই আয়ত্ত হয়। জ্ঞানের পথ প্রশস্ত হলে ভয়টা আর কোথায়!

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।